হরমুজ বন্ধের ঘোষণার পর লেবাননে অভিযান স্থগিতের নির্দেশ নেতানিয়াহুর

লেবাননে ইসরায়েলের প্রাণঘাতী বিমান হামলার প্রতিক্রিয়ায় বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি আবারও বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে দক্ষিণ লেবাননে সামরিক অভিযান বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এবং ইসরায়েলি গণমাধ্যম চ্যানেল ১২ নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে।
শনিবার (২০ জুন) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে দেশটির কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড খাতাম আল-আনবিয়া জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘন করে ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে হামলা চালিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে অন্তত ৮৩ জন নিহত হয়েছেন। এর জবাবে তিন দিন আগে পুনরায় চালু হওয়া হরমুজ প্রণালি আবার বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয় তেহরান। ইরানের সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটি তাদের প্রথম প্রতিক্রিয়া; আগ্রাসন অব্যাহত থাকলে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীকে হামলা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে বর্তমানে দখলে থাকা অঞ্চলগুলো থেকে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে রোববার সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টকে টেকনিক্যাল পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান ও কাতারের প্রতিনিধিরাও অংশ নেবেন।
সমঝোতা স্মারকের প্রথম ধাপেই লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকলেও সাম্প্রতিক হামলার কারণে পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, আলোচনায় অংশ নিতে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। দলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিসহ জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও জ্বালানি খাতের কর্মকর্তারা রয়েছেন।
ভিওডি বাংলা/আ







