• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

বৈষম্যমুক্ত দেশ গড়ার আহ্বান প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের

নিজস্ব প্রতিবেদক    ২০ জুন ২০২৬, ১২:১৯ পি.এম.
ছবি-সংগৃহীত

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন।

তিনি বলেছেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা, বৈষম্য দূর করা এবং একটি স্বাধীন ও মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্র গড়ে তোলা। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

শনিবার রাজধানীর মতিঝিলে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট আয়োজিত ঢাকায় বসবাসরত যুদ্ধাহত, খেতাবপ্রাপ্ত ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের বার্ষিক পুনর্মিলনী ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে ইশরাক হোসেন বলেন, জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধারা ১৯৭১ সালে জীবন বাজি রেখে, পরিবার-পরিজনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছিলেন। তাঁদের আত্মত্যাগের কারণেই বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের মানচিত্রে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তিনি উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধা, তাঁদের পরিবারবর্গ এবং মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতিও শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা জানান।

শৈশবের একটি স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, যখন তিনি কেজি ওয়ান বা কেজি টুতে পড়তেন, তখন তাঁর মনে এমন ধারণা জন্মেছিল যে একসময় সবাইকে মুক্তিযুদ্ধে যেতে হবে। তিনি স্কুলের বন্ধুদেরও বলতেন, ১৮ বছর বয়স হলেই তাঁরা সবাই একসঙ্গে মুক্তিযুদ্ধে যাবেন। তখন হয়তো তিনি বুঝতেন না যে মুক্তিযুদ্ধ শেষ হয়ে দেশ স্বাধীন হয়েছে, কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তাঁর শিশুমনে গভীরভাবে জায়গা করে নিয়েছিল।

ইশরাক হোসেন বলেন, একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হওয়ার পরিচয় তাঁকে সবসময় সাহস ও প্রেরণা দিয়েছে। জীবনের নানা প্রতিকূল সময়ে, বিশেষ করে ছাত্র আন্দোলন ও রাজনৈতিক সংগ্রামের সময় তিনি এই পরিচয় থেকেই শক্তি পেয়েছেন। তিনি বলেন, আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নেওয়ার কারণে তাঁকে কারাগারে যেতে হয়েছে, বিভিন্নভাবে হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। এমনকি তাঁকে কর্মস্থল থেকে স্থানান্তরও করা হয়েছিল। কিন্তু এসব বাধা-বিপত্তি তাঁকে তাঁর অবস্থান থেকে সরাতে পারেনি।

তিনি বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটানো সম্ভব হয়েছে। সেই আন্দোলনে ছাত্রসমাজ যে সাহস ও ত্যাগের পরিচয় দিয়েছে, তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

২০২৪ সালের আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীরা যখন রাজপথে আন্দোলন করছিলেন, তখন তাঁদের ওপর গুলি চালানো হয়েছিল, নির্যাতন করা হয়েছিল। একই সময়ে দেশের সম্পদ লুটপাট করে বিদেশে পাচারের অভিযোগও ছিল। এমন পরিস্থিতিতে ছাত্রসমাজ উপলব্ধি করেছিল যে বৈষম্য ও নিপীড়নের অবসান ঘটাতে হলে স্বৈরাচারী ব্যবস্থার অবসান প্রয়োজন। সেই লক্ষ্য নিয়েই তারা আন্দোলনে নেমেছিল এবং শেষ পর্যন্ত নিজেদের লক্ষ্য অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।

তিনি বলেন, ৫ আগস্ট বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। ওই দিনের মধ্য দিয়ে নতুন এক বাস্তবতার সূচনা হয়েছে। তবে শুধু সরকার পরিবর্তনই যথেষ্ট নয়; যে অন্যায়, অবিচার ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন হয়েছিল, সেগুলোও দূর করতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্বৈরাচারী সরকার বিদায় নিলেও তাদের রেখে যাওয়া অপকর্ম, দুর্নীতি ও বৈষম্যের সংস্কৃতি পুরোপুরি নির্মূল করতে হবে। কোনোভাবেই যাতে সেই শক্তি আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা ছিল স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা। একইভাবে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের লক্ষ্যও ছিল বৈষম্যমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করা। তাই দুটি আন্দোলনের মধ্যে আদর্শগত একটি মিল রয়েছে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নে আপসহীন থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে ইশরাক হোসেন বলেন, দেশের বিরুদ্ধে যেকোনো ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে হবে। তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র হয়েছে এবং এখনো হচ্ছে। এসব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা সুবিধার বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, চিকিৎসা তাঁদের অন্যতম বড় সমস্যা। এই বিষয়ে আরও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। তিনি মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, স্বৈরাচারী সরকারের সময়েও তিনি গর্বের সঙ্গে নিজেকে একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে পরিচয় দিতেন। এই পরিচয়ই তাঁকে দেশের জন্য কাজ করার অনুপ্রেরণা দিয়েছে। তাঁর বিশ্বাস, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ যদি নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া যায়, তাহলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব আরও শক্তিশালী হবে।

মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের কার্যক্রম নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ইশরাক হোসেন বলেন, ট্রাস্ট দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান। তবে এখনো অনেক সমস্যা ও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ট্রাস্টের কিছু জমি ও সম্পত্তি রয়েছে, যেগুলোকে যথাযথভাবে কাজে লাগানো গেলে মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে আরও বড় পরিসরে কাজ করা সম্ভব।

তিনি বলেন, ট্রাস্টের সম্পত্তিগুলো মুক্তিযোদ্ধাদের আয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হতে পারে। এ বিষয়ে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে কীভাবে আয় বাড়ানো যায় এবং সেই আয় মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে ব্যয় করা যায়, সে বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ট্রাস্ট ভবিষ্যতে আরও বড় কল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে। দেশের বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডেও প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম।

তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দেশে বলেন, তিনি সবসময় তাঁদের পাশে আছেন এবং থাকবেন। মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট যেন আরও শক্তিশালী ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয় এবং মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারে, সে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

ভিওডি বাংলা/বিন্দু

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
কাল মালয়েশিয়া যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
কাল মালয়েশিয়া যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
আবারো পরিবর্তন হচ্ছে পুলিশের ইউনিফর্ম
আবারো পরিবর্তন হচ্ছে পুলিশের ইউনিফর্ম
কবি আল মুজাহিদীর মৃত্যুতে সংস্কৃতি মন্ত্রীর শোক
কবি আল মুজাহিদীর মৃত্যুতে সংস্কৃতি মন্ত্রীর শোক