নাগরিক সেবা নিশ্চিতে অজুহাত গ্রহণযোগ্য নয়: ডিএসসিসি প্রশাসক

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেছেন, নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে কিছু মৌলিক কাজ অবিলম্বে সম্পন্ন করতে হবে। এসব ক্ষেত্রে বাজেট বা জনবল সংকটের অজুহাত গ্রহণযোগ্য হবে না।
বুধবার রাজধানীর লালবাগের মির্জা আবুতালিব শায়েস্তা খাঁন কমিউনিটি সেন্টারে ডিএসসিসির অঞ্চল-৩ ও অঞ্চল-৪-এর আওতাধীন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আয়োজিত গণশুনানিতে এ কথা বলেন তিনি। নাগরিক সেবার অন্তর্ভুক্ত পরিচ্ছন্নতা, মশক নিয়ন্ত্রণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম আরও গতিশীল করা এবং জনসাধারণের প্রত্যাশা অনুযায়ী জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ গণশুনানির আয়োজন করা হয়।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, জনগণকে বারবার অভিযোগ করতে না হয়, সেজন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আগেভাগেই সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। কিছু বাস্তব সীমাবদ্ধতা থাকলেও বর্জ্য অপসারণ, সড়ক ও এলাকাভিত্তিক পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে কোনো ধরনের গাফিলতি চলবে না।
তিনি বলেন, “বাজেট নেই বা লোকবল নেই—এ ধরনের অজুহাত দিয়ে নাগরিক সেবা ব্যাহত করা যাবে না। পরিচ্ছন্ন নগরী গড়তে বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করতে হবে।”
শহরের বিভিন্ন এলাকায় অচল হয়ে থাকা সড়কবাতি দ্রুত সচল করার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, যেখানে বিদ্যুতের খুঁটি রয়েছে সেখানে অবশ্যই আলো জ্বলতে হবে। একই সঙ্গে বাল্ব চুরি ও ভাঙচুর রোধে স্থানীয় বাসিন্দাদেরও সচেতন ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
মশা নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, মশা সম্পূর্ণ নির্মূল করা সম্ভব নয়, তবে কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এজন্য শুধু প্রাপ্তবয়স্ক মশা নিধন নয়, লার্ভা ও ডিম ধ্বংসের মাধ্যমে উৎসস্থলে মশার বংশবিস্তার রোধে গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বলেন, “কারখানা বন্ধ না করলে যেমন উৎপাদন বন্ধ হয় না, তেমনি মশার প্রজননস্থল ধ্বংস না করলে মশা নিয়ন্ত্রণও সম্ভব নয়।
বুড়িগঙ্গা নদী দূষণ রোধে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, নদীতে বর্জ্য ফেলা বন্ধ করতে সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে হবে। ইতোমধ্যে কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পরিস্থিতি আরও উন্নত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
নাগরিক সেবা সহজীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রশাসক বলেন, জন্মনিবন্ধন, নাগরিকত্ব সনদ ও ওয়ারিশ সনদ প্রদানে কোনো ধরনের হয়রানি বরদাশত করা হবে না। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঠিক থাকলে দ্রুততম সময়ে এসব সেবা নিশ্চিত করতে হবে। ওয়ারিশ সনদ ইস্যুতে দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকলে এক দিনের মধ্যেই বিষয়টির সমাধান সম্ভব।
অবৈধ দখল, খাল দখল ও মাদক নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। হকার ও অবৈধ স্থাপনা নিয়ন্ত্রণে এলাকাভিত্তিক ‘পঞ্চায়েত’ বা সামাজিক কমিটি গঠনেরও পরামর্শ দেন তিনি।
প্রতি মাসের প্রথম শনিবার ‘ক্লিনিং ডে’ পালনের নির্দেশনা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, প্রতিটি ওয়ার্ডে স্থানীয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। এছাড়া পুরনো ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, তবে এসব কাজ বাস্তবায়নে কিছুটা সময় লাগবে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও জানান, আগামী ১ আগস্ট ‘ঢাকা পৌরসভা দিবস’ উদযাপন উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। পুরান ঢাকার ঐতিহ্য ও ইতিহাসকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন আয়োজন করা হবে। পাশাপাশি বকেয়া কর পরিশোধে ১৫ শতাংশ রিবেট সুবিধা আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত বহাল থাকবে বলেও জানান তিনি ।
শেষে ট্রেড লাইসেন্স ও সাইনবোর্ড যথাযথভাবে প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে প্রশাসক বলেন, আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্টের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ভিওডি বাংলা/এফএ







