জর্ডানে কোটি টাকার প্রতারণায় সিআইডির অভিযানে গ্রেপ্তার ৩

জর্ডানে চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা, জাল নথি প্রস্তুত এবং অভিবাসী চোরাচালানের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। একটি ট্রাভেল এজেন্সির আড়ালে পরিচালিত এ চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে কর্মসংস্থানের প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
সিআইডি জানিয়েছে, ১৪ জুন বিকেলে রাজধানীর উত্তর বাড্ডার রূপায়ণ মিলেনিয়াম স্কয়ারে অবস্থিত ‘সুরাহ ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্রেডারস’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে তিন অভিযুক্তকে আটক করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ সংক্রান্ত আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- মাঞ্জুর প্রধানিয়া, মো. ওসমান গনি এবং কাজী মো. আতা-ই-রাব্বি। তারা বিদেশে চাকরির সুযোগ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে চাকরিপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, জর্ডানের রাজধানী আম্মানের একটি স্বনামধন্য গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে ভুয়া নিয়োগপত্র তৈরি করা হতো। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নাম, সিলমোহর ও লোগো নকল করে চাকরির অফার লেটার প্রস্তুত করা হয় এবং সেগুলো দেখিয়ে শ্রমিক ভিসায় বিদেশে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হতো। এভাবে প্রতিজনের কাছ থেকে দুই লাখ থেকে আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় জর্ডানে অবস্থিত ওই প্রতিষ্ঠানের অভিযোগের মাধ্যমে। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ দূতাবাসের কাছে জানায়, তাদের নাম ব্যবহার করে বাংলাদেশে অবৈধভাবে লোক নিয়োগের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। পরবর্তীতে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে এলে সিআইডির মানব পাচার মনিটরিং সেল অনুসন্ধান শুরু করে।
অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে, অভিযুক্তদের পরিচালিত প্রতিষ্ঠানটি মূলত একটি ট্রাভেল এজেন্সি হিসেবে নিবন্ধিত হলেও বিদেশে জনশক্তি রপ্তানির জন্য প্রয়োজনীয় কোনো বৈধ রিক্রুটিং লাইসেন্স তাদের নেই। তা সত্ত্বেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন দেশের চাকরির বিজ্ঞাপন প্রচার করে তারা কর্মপ্রত্যাশীদের আকৃষ্ট করছিল।
সিআইডির কর্মকর্তারা জানান, জর্ডান ছাড়াও সৌদি আরব, সার্বিয়া এবং মালয়েশিয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে বলে প্রচারণা চালানো হতো। ফেসবুকসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞাপন দিয়ে আগ্রহীদের কাছ থেকে পাসপোর্ট সংগ্রহ করা এবং অর্থ গ্রহণের প্রমাণও পাওয়া গেছে।
অভিযানকালে প্রতিষ্ঠানটির অফিস থেকে ৫৫টি বাংলাদেশি পাসপোর্ট উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পাসপোর্ট জর্ডানে যেতে আগ্রহী ব্যক্তিদের বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া বিদেশগমন সংক্রান্ত একাধিক চুক্তিপত্র, কম্পিউটার প্রসেসিং ইউনিট (সিপিইউ) এবং ডিজিটাল ভিডিও রেকর্ডার (ডিভিআর) জব্দ করা হয়েছে। এসব আলামত বিশ্লেষণ করে প্রতারণা চক্রের কার্যক্রম সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।
তদন্তকারীরা মনে করছেন, বৈধ অনুমোদন ছাড়া বিদেশে চাকরির নামে পাসপোর্ট সংগ্রহ এবং অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে একটি সংঘবদ্ধ চক্র অভিবাসী চোরাচালানের কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল। অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীরা চাকরির আশায় তাদের সর্বস্ব খুইয়ে প্রতারিত হয়েছেন বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় বাড্ডা থানায় মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন অধ্যাদেশ, ২০২৬-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলায় গ্রেপ্তার তিনজন ছাড়াও আরও কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
ভিওডি বাংলা/জা







