• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

সিএনএন’র বিশ্লেষণ

ট্রাম্পের চুক্তি কি ওবামার চুক্তির চেয়ে ভালো?

ভিওডি বাংলা ডেস্ক    ১৫ জুন ২০২৬, ০৪:২৯ পি.এম.
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ইরান নীতি এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন সমঝোতার তুলনা আবারও রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক চুক্তি ও ওবামা প্রশাসনের দীর্ঘমেয়াদি পরমাণু চুক্তির মধ্যে সরাসরি তুলনা করা এখনই সম্ভব নয়।

ট্রাম্প অতীতে বারবার দাবি করেছেন যে, তিনি এমন একটি চুক্তি করেছেন যা ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেবে না এবং এটি হবে ওবামার চুক্তির চেয়ে “অনেক ভালো”। তিনি সামাজিক মাধ্যমে ওবামার ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তিকে তীব্র সমালোচনা করে একে “সবচেয়ে খারাপ ও বোকামিপূর্ণ চুক্তিগুলোর একটি” বলে অভিহিত করেন।

ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, তার নতুন সমঝোতা ইরানের ওপর একটি “প্রাচীর” তৈরি করেছে যা দেশটিকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখবে।

তবে বাস্তবতা ভিন্ন বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা।   

ওবামা প্রশাসনের সময় যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক একটি জোট ইরানের সঙ্গে একটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করেছিল, যার লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে সীমিত রাখা। ওই চুক্তির সময় আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা ইরানের অংশগ্রহণ যাচাই করেছিল এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিনিময়ে ইরান তার তেল সম্পদ বৈশ্বিক বাজারে ব্যবহার করতে পেরেছিল।

পরে ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে সেই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করেন। এর পর ইরানও ধাপে ধাপে সেই চুক্তি থেকে সরে যায় এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম বাড়ায়।

বর্তমান ট্রাম্প সমঝোতা তবে সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের। এটি দীর্ঘমেয়াদি পারমাণবিক চুক্তি নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা কমানোর একটি প্রাথমিক সমঝোতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই চুক্তির মাধ্যমে উভয় দেশ শত্রুতা কমাবে এবং গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্য পুনরায় চালু হতে পারে।

এই কাঠামোর অধীনে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দর অবরোধ শিথিল করতে পারে, আর ইরানও প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা কমাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে একটি দীর্ঘমেয়াদি ও বিস্তারিত চুক্তি এখনো প্রয়োজন, যা এই সমঝোতায় অনুপস্থিত।

এছাড়া ট্রাম্প অতীতে অভিযোগ করেছিলেন যে ওবামা প্রশাসন ইরানকে নগদ অর্থ দিয়েছিল। যদিও বাস্তবে সেটি ছিল ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের পুরনো অস্ত্র ক্রয়সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির একটি অর্থনৈতিক সমঝোতা।

নতুন চুক্তিতে কোনো আর্থিক শর্ত অন্তর্ভুক্ত হয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

ফলে বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের চুক্তি ও ওবামার চুক্তির মধ্যে কোনটি “ভালো”-এ প্রশ্নের উত্তর এখনই দেওয়া সম্ভব নয়। এটি নির্ভর করবে ভবিষ্যতে এই সমঝোতা কতটা স্থায়ী শান্তি ও পারমাণবিক নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে পারে তার ওপর।

ভিওডি বাংলা/জা

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
সমঝোতাকে স্বাগত জানাল ইইউ, হরমুজ খুলে দেয়ার আহ্বান
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান: সমঝোতাকে স্বাগত জানাল ইইউ, হরমুজ খুলে দেয়ার আহ্বান
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তিকে ইতিবাচক দেখছে বেইজিং
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তিকে ইতিবাচক দেখছে বেইজিং
ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিচ্ছে ৪ দেশ
ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিচ্ছে ৪ দেশ