যুক্তরাষ্ট্র-ইরান:
সমঝোতাকে স্বাগত জানাল ইইউ, হরমুজ খুলে দেয়ার আহ্বান

ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি উরসুলা ফন ডার লেয়েন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া নতুন সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী অবিলম্বে পুনরায় উন্মুক্ত হওয়া উচিত।
সোমবার (১৫ জুন) দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “নৌ চলাচলের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে এবং তা কোনো ধরনের অতিরিক্ত ব্যয় ছাড়াই নিশ্চিত করতে হবে। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালী দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিপুল পরিমাণ তেল ও জ্বালানি পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে থাকে। সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে এ পথের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।
ফন ডার লেয়েন বলেন, ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালীর মতো কৌশলগত সংকীর্ণ পথের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানোর বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
তার ভাষায়, “আমাদের বিকল্প সরবরাহপথের দিকে নজর দিতে হবে এবং হরমুজের মতো সংকটপূর্ণ রুটের ওপর নির্ভরতা কমাতে হবে।”
তিনি জানান, ফ্রান্সে শুরু হওয়া জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে বিষয়টি নিয়ে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে আলোচনা হবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাসও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তিনি ইরান ও উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেছেন। এছাড়া সোমবার ইইউভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠকে বসবেন, যেখানে সমঝোতার পরবর্তী ধাপে ইউরোপীয় ইউনিয়ন কীভাবে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হতে পারে তা নিয়ে আলোচনা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এই সমঝোতা কার্যকর হলে শুধু আঞ্চলিক উত্তেজনাই কমবে না, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তবে এর বাস্তব ফলাফল অনেকটাই নির্ভর করবে চুক্তির বাস্তবায়ন ও পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপের ওপর।
ভিওডি বাংলা/জা







