যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা কী শান্তির সূচনা, নাকি নতুন জটিলতার দরজা?

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি নতুন সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি কোনো চূড়ান্ত সমাধান নয়; বরং আরও কঠিন ও জটিল আলোচনার প্রথম ধাপ মাত্র।
বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তিটি আপাতত সংঘাত কমানোর একটি সুযোগ তৈরি করলেও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু এখনও অমীমাংসিত রয়ে গেছে।
ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউসিএলএ) আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ বেন র্যাড বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকি এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম-এই তিনটি বড় বিষয় চুক্তিতে স্পষ্টভাবে সমাধান করা হয়নি।
তার মতে, এসব প্রশ্ন কেবল ভবিষ্যতের আলোচনার জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, “এটি মূলত পরিস্থিতিকে আবার শুরুর অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়েছে।”
র্যাড আরও উল্লেখ করেন, ইসরায়েলের অন্যতম প্রধান উদ্বেগ হলো ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর কার্যক্রম। নতুন সমঝোতায় সেই উদ্বেগের কার্যকর সমাধান না থাকায় ভবিষ্যতে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি হতে পারে।
অন্যদিকে, ইরানবিষয়ক বিশ্লেষক বেহনাম বেন তালেবলু এই চুক্তিকে একটি “প্রবেশপত্র” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, এখনই কোনো বড় সাফল্যের দাবি করা যাবে না। বরং সামনে আরও দীর্ঘ ও কঠিন কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অপেক্ষা করছে।
তিনি বলেন, আলোচনাগুলো সফল হলেও গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে সময় লাগবে। বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য এই প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এর স্থিতিশীলতা আন্তর্জাতিক অর্থনীতির জন্যও বড় বিষয়।
এদিকে সন্ত্রাসবাদবিরোধী বিশেষজ্ঞ অ্যালেক্স প্লিটসাস সতর্ক করে বলেছেন, ইসরায়েল এবং ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে চলমান দ্বন্দ্ব এখনও সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হয়ে রয়েছে।
তার মতে, উভয় পক্ষকে কীভাবে সংযত রাখা যাবে এবং নতুন সংঘাতের সূত্রপাত ঠেকানো যাবে—সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
বিশ্লেষকদের অভিমত, বর্তমান চুক্তি সাময়িকভাবে উত্তেজনা কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, হিজবুল্লাহর ভূমিকা এবং হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তার মতো জটিল বিষয়গুলোর সমাধান ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করা কঠিন হবে।
ফলে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতাকে অনেকেই শেষ অধ্যায় নয়, বরং একটি দীর্ঘ কূটনৈতিক যাত্রার সূচনা হিসেবে দেখছেন।
ভিওডি বাংলা/জা







