• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

কাইল্যা পলাশের মাথার এপাশ দিয়ে গুলি ঢুকে ওপাশে আটকে ছিল

রুদ্র রাসেল    ১২ জুন ২০২৬, ১০:১১ পি.এম.
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর রামপুরায় সন্ত্রাসীদের হাতে গুলিবিদ্ধ শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াসিন খান ওরফে পলাশ ওরফে কাইল্যা পলাশের অবস্থা আশঙ্কাজনক। অস্ত্রোপচারের পর তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের আইসিইউতে রাখা হয়েছে।

শুক্রবার (১২ জুন) রাত সোয়া ৮টার দিকে হাসপাতালের নিউরো সার্জারী বিভাগের চিকিৎসক তরিকুল ইসলাম ভিওডি বাংলাকে জানান, গুলি তার (কাইল্যা পলাশ) মাথার এক পাশ দিয়ে ঢুকে আরেক পাশে গিয়ে আটকে ছিল। কয়েক ঘণ্টা চেষ্টা করে গুলিটি বের করা হয়।

এর আগে, দুপুর ২টার দিকে শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াসিন খান ওরফে পলাশ ওরফে কাইল্যা পলাশ ওরফে কালা পলাশকে সন্ত্রাসীরা গুলি করে বলে জানান হাতিরঝিল থানার ওসি আসাদুজ্জামান। পলাশ পশ্চিম রামপুরা এলাকার ইউনুস খানের ছেলে।

আহতের ভাই আলামিন জানান, দুপুরে পলাশ রয়েল মিষ্টির দোকানের সামনের রাস্তায় অবস্থান করছিলেন। একটি মোটরসাইকেলে দুই যুবক এসে পলাশের দিকে পিস্তল তাক করে।  এ সময় সন্ত্রাসী ‘কাইল্যা মাসুদ’ পলাশের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে দুই রাউন্ড গুলি ছুড়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। গুলির শব্দে চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং পথচারীরা ছোটাছুটি শুরু করেন। পরে স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় পলাশকে উদ্ধার করে বেলা ২টা ৪০ মিনিটে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন।

ঢামেক হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, পলাশের মাথায় দুটি গুলি লেগেছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক ও সংকটাপন্ন।

ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী ঘটনার পেছনে স্থানীয় সন্ত্রাসী কাইল্যা মাসুদের নাম উঠে এসেছে। অপরাধীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার এবং ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটনে রামপুরা থানা পুলিশ ও ডিবির একাধিক টিম মাঠে নেমেছে।

কারাবন্দি অবস্থায় সন্তান জন্ম দেয়াসহ মুঠোফোনে চাঁদাবাজি, খুন, মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসীদল নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বহুবার আলোচনায় আসা এই শীর্ষ সন্ত্রাসীর নাম শুনলেই আতকে ওঠেন ঢাকার রামপুরা ও আশপাশ এলাকার মানুষ।
 
দীর্ঘ ২২ বছর ধরে কারাগারে থাকা যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত এ শীর্ষ সন্ত্রাসী গত মে মাসের প্রথম সপ্তাহে কারামুক্ত হয়েছেন। বিষয়টি এতটা নীরবে ঘটেছে যে- কারাগার ও আদালত পাড়ায় কর্মরত গণমাধ্যমকর্মীরাও টের পাননি।

গোয়েন্দা নথিতে পলাশের বিরুদ্ধে এমনও অভিযোগ রয়েছে যে, পলাশ হাতকড়া পরা অবস্থায় এলাকায় এসে গুলি চালিয়েছেন।

২০০২ সালের ২৯ মে রামপুরায় যুবদলের নেতা মিজানকে গুলি করে হত্যা করা হয়।  এ মামলায় ২০০৩ সালে গ্রেপ্তার হন পলাশ। পরবর্তিতে বিচারিক আদালত মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন।  উচ্চ আদালত সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।  গত ২২ বছরে বিভিন্ন কারাগারে ২৩ বারের বেশি স্থানান্তর করা হয় তাকে।

গোয়েন্দা নথি বলছে, দেশের যে কারাগারেই পলাশকে পাঠানো হতো- তিনি তদবির করে ঢাকা বা আশপাশে চলে আসতেন।  কারাগারের একটি সিন্ডিকেটকে প্রতিদিন লক্ষাধিক টাকা দিতেন তিনি, যা চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসার মাধ্যমে অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থ।  বিনিময়ে কারাগারে মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট, এসি, ফ্রিস, টেলিভিশনসহ সব ধরনের বিলাসি সুযোগসুবিধা গ্রহণ করতেন হরহামেশা।

‎ভিওডি বাংলা/এফএ

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
সমঝোতার দ্বারপ্রান্তে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান, শিগগিরই স্বাক্ষর
সমঝোতার দ্বারপ্রান্তে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান, শিগগিরই স্বাক্ষর
রামপুরায় কাইল্যা পলাশকে গুলি
রামপুরায় কাইল্যা পলাশকে গুলি
প্রধান আসামি শামীমসহ ৩ জনের রিমান্ড মঞ্জুর
প্রধান আসামি শামীমসহ ৩ জনের রিমান্ড মঞ্জুর