• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

সংসদে বড়াল ব্রিজ ও চাটমোহর স্টেশনে ট্রেনের আসন সংখ্যা বৃদ্ধির দাবি

ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি    ১২ জুন ২০২৬, ০২:৪৩ পি.এম.
ছবি: ভিওডি বাংলা

পাবনার ভাঙ্গুড়া ও চাটমোহর এলাকার রেলযাত্রীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর করতে বড়াল ব্রিজ ও চাটমোহর রেলস্টেশনে ট্রেনের আসন সংখ্যা বৃদ্ধি এবং আরও বেশি আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবি জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। এ দাবি জানিয়েছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা।

বুধবার (১০ জুন) জাতীয় সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, ভাঙ্গুড়া, চাটমোহর ও ফরিদপুরসহ বৃহত্তর এলাকার হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন রাজধানী ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াতের জন্য রেলপথের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু যাত্রীসংখ্যার তুলনায় আসন বরাদ্দ অত্যন্ত সীমিত হওয়ায় সাধারণ মানুষকে নানা ধরনের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

সংসদ সদস্যের ভাষ্য অনুযায়ী, বড়াল ব্রিজ ও চাটমোহর রেলস্টেশন ঐতিহাসিকভাবে এ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগকেন্দ্র। ব্রিটিশ আমল থেকেই এই দুটি স্টেশন উত্তরাঞ্চলের মানুষের যাতায়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বর্তমানে পাবনার ভাঙ্গুড়া, চাটমোহর, ফরিদপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দারা ঢাকা ও অন্যান্য গন্তব্যে যাতায়াতের জন্য নিয়মিত এসব স্টেশন ব্যবহার করেন।

রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে বড়াল ব্রিজ ও চাটমোহর স্টেশনে ঢাকাগামী পাঁচটি আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি রয়েছে। এর মধ্যে বড়াল ব্রিজ স্টেশনে প্রতিদিন প্রায় ১৮০টি এবং চাটমোহর স্টেশনে প্রায় ২৮০টি আসন বরাদ্দ রয়েছে। তবে বাস্তবে প্রতিদিন বরাদ্দকৃত আসনের কয়েকগুণ বেশি যাত্রী এসব স্টেশন থেকে ট্রেনে ভ্রমণ করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অনলাইনে টিকিট বিক্রি শুরু হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই অধিকাংশ টিকিট শেষ হয়ে যায়। ফলে অনেক যাত্রীকে বাধ্য হয়ে দাঁড়িয়ে অথবা আসনবিহীন টিকিট নিয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়। এতে নারী, শিশু, বয়স্ক এবং অসুস্থ যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি সমস্যার মুখোমুখি হন।

সংসদে উত্থাপিত দাবিতে অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা বলেন, কৃষি, শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও চাকরিসহ নানা প্রয়োজনে প্রতিনিয়ত এই অঞ্চলের মানুষের রাজধানীমুখী যাতায়াত বাড়ছে। সাশ্রয়ী ও নিরাপদ পরিবহন হিসেবে ট্রেনের চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পেলেও আসনসংখ্যা সেই অনুপাতে বাড়ানো হয়নি। ফলে যাত্রীদের কষ্ট কমাতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।

তিনি আরও বলেন, বড়াল ব্রিজ ও চাটমোহর স্টেশনে ঢাকাগামী সব আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি নিশ্চিত করা গেলে যাত্রীসেবার মান বাড়বে এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও গতিশীল হবে। একই সঙ্গে বিদ্যমান আসনসংখ্যা বৃদ্ধি করা হলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি অনেকাংশে লাঘব হবে।

ভাঙ্গুড়া বাজারের এক বাসিন্দা বলেন, বড়াল ব্রিজ স্টেশনে প্রতিদিন যাত্রীর সংখ্যা অনেক বেশি হলেও টিকিটের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। এ কারণে অধিকাংশ সময় কাঙ্ক্ষিত টিকিট পাওয়া যায় না। বিশেষ করে ঈদ, ছুটি কিংবা ভর্তি মৌসুমে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়ে।

অন্যদিকে বড়াল ব্রিজ রেলস্টেশনের ইনচার্জ শফিউল ইসলামও যাত্রীচাপ বৃদ্ধির বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, স্টেশনটিতে প্রতিদিন আসন বরাদ্দের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি যাত্রী ট্রেনে যাতায়াত করেন। তাই আসনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং অতিরিক্ত ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবি যৌক্তিক। এটি বাস্তবায়ন হলে যাত্রীসেবা আরও উন্নত হবে।

 

ভিওডি বাংলা/প্রভাষক গিয়াস উদ্দিন সরদার/জা

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ছেলের নতুন দালানে ফিরলেন সেই বৃদ্ধা মা
ছেলের নতুন দালানে ফিরলেন সেই বৃদ্ধা মা
ভাঙ্গুড়ায় ব্র্যাকের উদ্যোগে ৩শ’  হাঁসের বাচ্চা বিতরণ
ভাঙ্গুড়ায় ব্র্যাকের উদ্যোগে ৩শ’  হাঁসের বাচ্চা বিতরণ
খুলনা সিটি মেডিকেলে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে, উদ্ধার অভিযান চলমান
খুলনা সিটি মেডিকেলে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে, উদ্ধার অভিযান চলমান