রাজনৈতিক চাপের মধ্যেই জে ক্লেটনকে সামনে আনলেন ট্রাম্প

জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক (ডিএনআই) পদে জে ক্লেটনকে মনোনয়ন দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গোয়েন্দা সংস্থার ভারপ্রাপ্ত প্রধান হিসেবে বিল পুলটেকে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়ে যখন ওয়াশিংটনে তীব্র বিতর্ক চলছে, তখনই ক্লেটনের নাম ঘোষণা করলেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, “আইনি অঙ্গনে জের মতো সম্মানিত মানুষ খুব কমই আছেন।” একই সঙ্গে তিনি দ্রুত ক্লেটনের মনোনয়ন অনুমোদনের জন্য সিনেটের প্রতি আহ্বান জানান।
বর্তমানে নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ক্লেটন। এর আগে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) চেয়ারম্যান ছিলেন।
ক্লেটনের মনোনয়ন এমন সময়ে এলো, যখন জাতীয় গোয়েন্দা প্রধানের দায়িত্বে বিল পুলটেকে বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় শিবির থেকেই সমালোচনা হচ্ছে। জাতীয় নিরাপত্তা বা গোয়েন্দা কার্যক্রমে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা না থাকায় পুলটের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আইনপ্রণেতারা।
এদিকে পুলটেকে ঘিরে বিতর্কের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বৈদেশিক গোয়েন্দা নজরদারি ক্ষমতা নবায়ন প্রক্রিয়াও অনিশ্চয়তায় পড়েছে। ডেমোক্র্যাটদের দাবি, পুলটে ভারপ্রাপ্ত গোয়েন্দা প্রধান হিসেবে বহাল থাকলে তারা ফরেন ইন্টেলিজেন্স সার্ভেইলেন্স অ্যাক্ট (ফাইসা) সংশ্লিষ্ট ক্ষমতা সম্প্রসারণে সমর্থন দেবেন না।
তবে ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ক্লেটনের মনোনয়নের পরও পুলটে সাময়িকভাবে দায়িত্ব পালন করবেন। ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “তিনি অল্প সময়ের জন্য দায়িত্বে থাকবেন।”
সিনেট গোয়েন্দা কমিটি আগামী ১৭ জুন ক্লেটনের মনোনয়ন নিয়ে শুনানি করবে। অনুমোদন পেলে তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়া তুলসি গ্যাবার্ডের স্থলাভিষিক্ত হবেন।
দীর্ঘদিন করপোরেট আইনজীবী হিসেবে কাজ করা ক্লেটন গত এক বছরে নিউইয়র্কের ফেডারেল প্রসিকিউটর হিসেবে সহিংস অপরাধ ও মাদকসংক্রান্ত মামলায় কঠোর অবস্থানের জন্য পরিচিতি পেয়েছেন। একই সঙ্গে ওয়াল স্ট্রিট সংশ্লিষ্ট আর্থিক অপরাধ দমনে তার ভূমিকা আলোচিত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ক্লেটনের মনোনয়ন গোয়েন্দা সংস্থার নেতৃত্বে স্থিতিশীলতা আনার চেষ্টা হলেও পুলটেকে ঘিরে রাজনৈতিক বিরোধ এবং নজরদারি আইন নবায়ন ইস্যুতে অচলাবস্থা দ্রুত কাটবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
ভিওডি বাংলা/জা







