বিশ্ববাজারে ফের কমলো জ্বালানি তেলের দাম

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা কিছুটা কমে আসা এবং যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে, যার প্রভাব সরাসরি পড়েছে আন্তর্জাতিক তেলবাজারে।
বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযান থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দেওয়ার পর থেকেই বাজারে চাপ কমতে শুরু করে। একইসঙ্গে হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হওয়ায় তেলের সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার শঙ্কাও হ্রাস পায়।
শুক্রবার (১২ জুন) বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১ দশমিক ২১ ডলার কমে ৮৯ ডলারের কাছাকাছি নেমে আসে। শতাংশের হিসাবে এটি প্রায় ১ দশমিক ৩ শতাংশ পতন। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ১ দশমিক ২৩ ডলার বা প্রায় ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৬ ডলারের ঘরে অবস্থান করে।
সাপ্তাহিক হিসাবেও দুই ধরনের তেলের দাম কমেছে। ব্রেন্টে প্রায় ৪ শতাংশের বেশি এবং ডব্লিউটিআইতে ৪ শতাংশের কাছাকাছি পতন রেকর্ড করা হয়েছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, একদিনের নয় বরং পুরো সপ্তাহজুড়েই বাজারে নিম্নমুখী প্রবণতা ছিল।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানকে ঘিরে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত থাকলেও বাস্তবে সামরিক পদক্ষেপ থেকে সরে আসার সিদ্ধান্তই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বড় ধরনের স্বস্তি তৈরি করেছে। এর ফলে ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ থেকে সরে এসে বাজার কিছুটা স্থিতিশীলতার দিকে গেছে।
এদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হয়েছে। যদিও তেহরানের সরকারি ও আধা-সরকারি সূত্রগুলো দাবি করছে, এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তি অনুমোদিত হয়নি, ফলে অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটেনি।
এর আগে হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের কঠোর অবস্থান বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন শঙ্কা তৈরি করেছিল। দেশটি সতর্ক করে বলেছিল, ওই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ব্যবহারকারী জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও এলএনজি পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিচালিত হয়, যা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তবে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওই জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল এখনো স্বাভাবিক রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক দরপতন সত্ত্বেও তেলের বাজারে ঝুঁকি পুরোপুরি শেষ হয়নি। যদি দাম আবার ৮০ ডলারের গুরুত্বপূর্ণ সাপোর্ট লেভেলের ওপরে স্থিতিশীল থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে আবারও ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি হতে পারে।
ভিওডি বাংলা/জা







