পুশইন ঠেকাতে সীমান্তে কড়া নজরদারি

বিএসএফের কথিত পুশইন প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে সীমান্তজুড়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় অন্তত আটটি পৃথক ঘটনায় অবৈধভাবে বাংলাদেশে লোকজন প্রবেশ করানোর চেষ্টা প্রতিহত করেছে বাহিনীটি। বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত সুরক্ষা ও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তারা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং কোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ বরদাশত করা হবে না।
বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে তিন ব্যক্তি ভারতীয় ভূখণ্ড থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে বিজিবির টহল দল দ্রুত সীমান্তের শূন্যরেখা এলাকায় অবস্থান নেয় এবং তাদের অগ্রযাত্রা আটকে দেয়। পরে তারা বাংলাদেশে প্রবেশে ব্যর্থ হয়ে ভারতীয় ভূখণ্ডে ফিরে যায়।
অন্যদিকে নওগাঁর করমুডাঙ্গা সীমান্তে ১৭ জনকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। বিজিবির সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে অবস্থান নিয়ে অনুপ্রবেশের প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেন। একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে লালমনিরহাট ও পঞ্চগড় সীমান্তের একাধিক পয়েন্টেও।
তিস্তা ব্যাটালিয়নের আওতাধীন বড়খাতা ও পঁয়ষট্টিবাড়ী সীমান্ত এলাকায় ২১ জন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়। তবে বিজিবির কঠোর নজরদারি ও দ্রুত পদক্ষেপের কারণে তারা সীমান্ত অতিক্রম করতে পারেনি।
লালমনিরহাটের দিঘলটারী সীমান্তে সাতজন এবং দুর্গাপুর সীমান্তে আরও চারজনকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হলে বিজিবি তাৎক্ষণিক প্রতিরোধ গড়ে তোলে। ফলে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেনি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দুর্গাপুর সীমান্তের বিপরীতে কাঁটাতারবিহীন চরাঞ্চলে কয়েকজন ব্যক্তি অবস্থান করছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বিজিবি।
পঞ্চগড়ের বড়বাড়ী প্রধানপাড়া সীমান্তে ১০ জন ব্যক্তিকে ভারতীয় অংশে কাঁটাতারের বাইরে এনে রাখা হয়েছে বলে বিজিবি জানতে পারে। এ ঘটনায় দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিএসএফ তাদের বাংলাদেশি নাগরিক দাবি করলেও দাবির পক্ষে কোনো গ্রহণযোগ্য তথ্য বা নথি উপস্থাপন করতে পারেনি বলে জানিয়েছে বিজিবি। বিষয়টি নিয়ে নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে নেত্রকোনার কচুগড়া সীমান্তসংলগ্ন ভারতীয় এলাকায় আগে থেকে অবস্থান করা ১৬ থেকে ১৭ জন ব্যক্তিকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে তথ্য পেয়েছে বিজিবি। বাহিনীটির দাবি, সীমান্তে তাদের কঠোর অবস্থান ও বাড়তি সতর্কতার কারণেই ওই ব্যক্তিদের স্থানান্তর করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকায় অতিরিক্ত নজরদারি বজায় রাখা হয়েছে।
বিজিবি বলছে, আন্তর্জাতিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং দুই দেশের বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সমঝোতার বাইরে কোনো ধরনের পুশইন কার্যক্রম গ্রহণযোগ্য নয়। সীমান্ত দিয়ে কাউকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। এ ধরনের যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি প্রস্তুত রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।
ভিওডি বাংলা/জা







