কুমারখালীতে মাদকবিরোধী লড়াইয়ে শপথ নিলেন গ্রামবাসী

‘মাদককে না বলুন, মাদকমুক্ত দেশ গড়ুন’ এই শপথ নিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর নন্দলালপুর ইউনিয়নের শুপুকুরিয়া গ্রাম।
শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে পঞ্চগ্রাম ঈদগাহ ময়দানে আয়োজিত এক মাদকবিরোধী কর্মশালায় সমাজের সর্বস্তরের মানুষ শামিল হয়ে মাদকের বিরুদ্ধে একজোট হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
কর্মশালায় পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। তবে মূল কর্মশালার আগেই মাঠের পরিবেশ ছিল অন্যরকম। মাঠজুড়ে টানটান উত্তেজনা, কারণ মাদকবিরোধী সচেতনতার বার্তার আগে সেখানে আয়োজন করা হয়েছিল ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মধ্যে এক প্রীতি ফুটবল ম্যাচ। খেলার মাঠের এই ভ্রাতৃত্বের বন্ধনই যেন মাদকবিরোধী লড়াইয়ের সুর হয়ে বেজে ওঠে।
কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জামাল উদ্দিন বলেন, মাদক কেবল একজন ব্যক্তিকে ধ্বংস করে না, এটি একটি পরিবার ও সমাজকে পঙ্গু করে দেয়। পুলিশ প্রশাসন তার অবস্থান থেকে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে, কিন্তু স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজন সামাজিক আন্দোলন। প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় অভিভাবকদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।

সৌদী আরব প্রবাসী মো. রেজাউল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং কয়া মহাবিদ্যালয়ের প্রভাষক মো. মনিরুজ্জামান মানিকের সঞ্চালনায় আয়োজিত এই কর্মশালায় স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও ধর্মীয় নেতারা মাদকের ভয়াবহ পরিণতির কথা তুলে ধরেন।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, বর্তমান তরুণ প্রজন্মকে সঠিক পথে রাখতে হলে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। মাদক সেবনকারী ও ব্যবসায়ীদের সামাজিকভাবে বয়কট করার আহবান জানান উপস্থিত সুধীজন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন হাফেজ মো. আবু হুসাইন, মাওলানা. আব্দুল ওয়াহেদ, মো. শফিকুল ইসলাম, মাওলানা. আবু সাঈদ ও মো. ফারুক হোসেন।
এছাড়া মাদকের বিরুদ্ধে দিকনির্দেশনামূলক আলোচনায় অংশ নেন হাফেজ ক্বারী মাওলানা. মো. ইমারত হোসেন, মোস্তাক আহম্মেদ ও আব্দুল কাদের জিহাদী। অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত সবাই নিজেদের জীবন এবং সমাজকে মাদকের গ্রাস থেকে মুক্ত রাখার শপথ গ্রহণ করেন। শপথ বাক্য পাঠ করান কয়া মহাবিদ্যালয়ের প্রভাষক মো. মনিরুজ্জামান মানিক
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, পঞ্চগ্রামের সকল মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতায় আয়োজিত এই কর্মসূচি এলাকায় সচেতনতা তৈরিতে এক মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। মাদকাসক্তি নয়, বরং ক্রীড়া ও সৃজনশীলতায় মেতে উঠুক আগামী প্রজন্ম এমনটাই প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা।
ভিওডি বাংলা/জা







