স্কুল জীবনের স্মৃতি কখনো ভোলা যায় না: আবদুস সালাম

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও বিএনপি চেয়ারপারম্যান উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম বলেছেন, স্কুল জীবনের স্মৃতি মানুষের জীবনে অমূল্য সম্পদ, যা কখনো ভোলা যায় না। তিনি বলেন, স্কুল পুনর্মিলনী শুধু একটি আয়োজন নয়, এটি পুরোনো সহপাঠীদের সঙ্গে মিলিত হওয়ার এক গভীর আবেগ ও আনন্দের মুহূর্ত।
শুক্রবার (৫ জুন) রাজধানীর ওয়ারীতে সিলভারডেল কিন্ডারগার্টেন স্কুল অ্যান্ড হাইস্কুলের প্রাক্তন ছাত্রীদের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আবদুস সালাম বলেন, পুরনো স্কুল থেকে বহু শিক্ষার্থী বের হয়ে আজ সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। তিনি নিজেও মতিঝিলের সেন্ট্রাল গভর্নমেন্ট হাই স্কুলের ছাত্র এবং এখনো প্রাক্তন ছাত্র সমিতির সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানান। কয়েক বছর পরপর পুনর্মিলনীর মাধ্যমে পুরোনো সহপাঠীদের সঙ্গে একত্রিত হওয়ার সুযোগ পাওয়া যায় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, স্কুল জীবনের স্মৃতি মানুষের জীবনে স্থায়ীভাবে গেঁথে থাকে। কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় স্কুল জীবনের স্মৃতি অনেক বেশি গভীর ও মূল্যবান।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, পুরনো ঢাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে হারিয়ে যেতে দেওয়া যাবে না। এসব প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ ও অবকাঠামো উন্নয়নে সবাইকে সচেষ্ট হতে হবে। তিনি আরও বলেন, ভবনের নিচতলা খোলা বা একটি খেলার মাঠ থাকলে এমন আয়োজন আরও সুন্দরভাবে করা সম্ভব হতো।
নগর উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে সর্বাত্মক চেষ্টা করবেন।
আজিমপুর কবরস্থানের একটি উদাহরণ টেনে প্রশাসক বলেন, কবরের জন্য রাস্তা সম্প্রসারণ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, কবর যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি জনস্বার্থে রাস্তা উন্নয়নও গুরুত্বপূর্ণ।
নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার পর ফকিরাপুর এলাকায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সময় সরকারি জমি ভরাট করে বিদ্যালয় গড়ে তোলেন। তখন কোরবানির চামড়া নিয়ে একটি অংশ মাদ্রাসা এবং একটি অংশ স্কুলের জন্য ব্যবহারের অভিজ্ঞতার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান-দুই ক্ষেত্রেই সহযোগিতা করা সওয়াবের কাজ।
নগর ব্যবস্থাপনা ও হকার ইস্যুতে প্রশাসক জানান, রাস্তা দখলমুক্ত রাখা যেমন জরুরি, তেমনি হকারদের পুনর্বাসনও প্রয়োজন। যথাযথ স্থান পাওয়া গেলে তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে।
ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে নাগরিক সচেতনতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, বাড়ি, ছাদ, ফুলের টবসহ কোথাও পানি জমতে দেওয়া যাবে না। দুই-তিন দিনের জমে থাকা পানিতেই মশার লার্ভা জন্ম নেয় এবং তা থেকে রোগ ছড়ায়।
তিনি জানান, সিটি করপোরেশনের জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৮০ শতাংশ বাড়িতে লার্ভার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। তাই সবাইকে নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে তিনি স্কুলের উন্নয়নের জন্য ৫ লাখ টাকা অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দেন। ভবিষ্যতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উন্নয়নে আরও উদ্যোগ নেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
শেষে তিনি আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এমন আয়োজন সমাজে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। তিনি সবার দোয়া কামনা করেন এবং দেশের উন্নয়ন ও দায়িত্ব পালনে সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।
অনুষ্ঠানে সিলভারডেল কিন্ডারগার্টেন স্কুল অ্যান্ড হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক সাইদুর রহমান সরকারের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও প্রতিষ্ঠানের সভাপতি আলহাজ লিয়াকত আলী, আইনজীবী ব্যারিস্টার মাসুদ আহমেদ সাঈদসহ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
ভিওডি বাংলা/জা







