বিচার বিভাগের নতুন রেকর্ড, ইতিহাসে নজির স্থাপন

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণার জন্য আগামী রোববার (৭ জুন) দিন ধার্য করেছে আদালত। এর মধ্য দিয়ে দেশের বিচার বিভাগ ইতিহাসে নজির সৃষ্টি করলো মাত্র চার কার্যদিবসে একটি স্পর্শকাতর হত্যা মামলার বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন করার মধ্য দিয়ে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে রায় ঘোষণার এই দিন নির্ধারণ করেন।
এদিন ১১টার পর বিচারক এজলাসে উঠলে এই মামলার চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক শুনানি শুরু হয়। এর আগে সকাল ৯টার দিকে মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কঠোর নিরাপত্তায় কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। মামলাটিকে কেন্দ্র করে আদালত চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিলো।
যুক্তিতর্ক শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আমরা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি। রায় ঘোষণাসহ পুরো প্রক্রিয়াটি শেষ হতে মাত্র পাঁচ কার্যদিবস সময় লাগছে, যা দেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে দ্রুততম বিচারের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ আরও জানায়, প্রধান আসামি সোহেল রানা নিজে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন যে, তিনি নিয়মিত নেশা করেন। তবে ঘটনার দিন তিনি নেশাগ্রস্ত ছিলেন-এমন কোনো তথ্য বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ, ঘটনার দিন আসামি সুস্থ মস্তিষ্কেই অপরাধটি সংঘটিত করেছেন।
ঢাকা মহানগর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, এটি একটি দৃষ্টান্তমূলক বিচার প্রক্রিয়া হতে যাচ্ছে। যে ধরনের সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে, তার ভিত্তিতে এমন একটি রায় আসবে যাতে ভবিষ্যতে কেউ এই ধরনের অপরাধ করার সাহস না পায়।
অন্যদিকে, রাষ্ট্রীয় খরচে নিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মুসা কালিমুল্লাহ শুনানিতে মক্কেলের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আবেদন জানান।
এর আগে গত বুধবার (৩ জুন) মামলার আত্মপক্ষ সমর্থন ও সাফাই সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। শুনানিতে প্রধান আসামি সোহেল রানা প্রথমে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে মাফ চাইলেও একপর্যায়ে নিজের অপরাধ স্বীকার করে বলেন, ডলারকে ধরেন। আমি অপরাধ করেছি। তাকেও ধরেন। তবে তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুন নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করেন।
যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় রাষ্ট্রপক্ষ আদালতের কাছে দাবি করে, মূল জবানবন্দিতে সোহেল অন্য কারও নাম নেয়নি। পরবর্তীতে জেলে যাওয়ার পর অন্য কোনো প্রিজনার বা কয়েদির পরামর্শ নিয়ে বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত কিংবা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে সে এই ‘ডলার’ নামের অবতারণা করেছে।
এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু বলেন, সোহেল রানার ১৬৪ ধারার জবানবন্দি কিংবা তদন্তের নথিতে এ নামের কোনো উল্লেখ ছিল না। শেষ পর্যায়ে এসে এ ধরনের নাম উল্লেখ মূলত বিচার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা।
গত ১৯ মে পল্লবীর মিরপুর-১১ এলাকার একটি বাসা থেকে শিশু রামিসা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন তার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদি হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেন। এরপর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে প্রধান আসামি সোহেল রানা ও পরে তার স্ত্রী স্বপ্নাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিএনএ রিপোর্ট, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও ফরেনসিক আলামতের ভিত্তিতে তদন্ত শেষে মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় গত ২৪ মে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। গত এক জুন অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরুর পর মাত্র চার দিনে সাক্ষ্যগ্রহণ, জেরা ও যুক্তিতর্ক শেষ হলো।
ভিওডি বাংলা/আরআর/জা







