• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

রামিসা হত্যা মামলায় আজ আত্মপক্ষ শুনানি, আদালতে সোহেল-স্বপ্না

নিজস্ব প্রতিবেদক    ৩ জুন ২০২৬, ১০:০৩ এ.এম.
রামিসা হত্যা মামলার দুই আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর পল্লবীতে আলোচিত শিশু রামিসা আক্তার হত্যা মামলায় গুরুত্বপূর্ণ এক ধাপ অতিক্রম করতে যাচ্ছে বিচারিক কার্যক্রম। আজ তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

বুধবার (৩ জুন) মামলার দুই অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঢাকার আদালতে হাজির করা হয়েছে। 

আদালত সূত্র জানিয়েছে, সোহেল রানাকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার এবং স্বপ্না আক্তারকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে সকালেই আদালতে আনা হয়। পরে তাদের মহানগর হাজতখানায় রাখা হয়। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সকাল ১০টায় আদালতে হাজির করার পর ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় তাদের বক্তব্য গ্রহণ করা হবে।

ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আদালতের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম শেষ হয়েছে। মঙ্গলবার রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের জবানবন্দি গ্রহণের মাধ্যমে এই পর্বের সমাপ্তি ঘটে। মামলায় মোট ১৭ জন সাক্ষীর তালিকা থাকলেও আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন ১৬ জন।

সাক্ষ্যদানকারীদের মধ্যে ছিলেন- নিহত রামিসার বাবা ও মামলার বাদী আব্দুল হান্নান মোল্লা, মা পারভীন আক্তার, বড় বোন রাইসা আক্তার, ফুপু মাহমুদা আক্তার এবং চাচা মিজানুর রহমান লিটন।

এছাড়া প্রতিবেশী, প্রত্যক্ষদর্শী, চিকিৎসক, পুলিশ কর্মকর্তা, ম্যাজিস্ট্রেট এবং তদন্ত কর্মকর্তাও আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন।

মামলার বিচার শুরুর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গত সোমবার একই ট্রাইব্যুনাল দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।

মামলার নথিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১৯ মে সকালে পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকার একটি আবাসিক ভবন থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা নিখোঁজ হয়। দীর্ঘ সময় তাকে খুঁজে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা একই ভবনের একটি ফ্ল্যাটে সন্দেহ করেন। পরে ওই ফ্ল্যাটের সামনে শিশুটির স্যান্ডেল দেখতে পাওয়ার পর তাদের সন্দেহ আরও জোরালো হয়।

একপর্যায়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে ভয়াবহ দৃশ্যের মুখোমুখি হন স্বজনরা। খাটের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয় রামিসার মাথাবিহীন মরদেহ। একই কক্ষের বাথরুমে রাখা একটি বালতির ভেতর পাওয়া যায় তার বিচ্ছিন্ন মাথা।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করেন। পরে অপরাধের আলামত গোপন এবং মরদেহ সরিয়ে ফেলার উদ্দেশ্যে মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয় বলে তদন্তে উঠে আসে। ঘটনার পর সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান বলে পুলিশের তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনাস্থল থেকে সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

তদন্ত চলাকালে সোহেল রানা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলেও মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে। সেই জবানবন্দি মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ঘটনার দিনই নিহত শিশুর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারকে আসামি করা হয়।

দ্রুত তদন্ত শেষে গত ২৪ মে পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. অহিদুজ্জামান আদালতে দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন। পরে আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে প্রেরণ করেন।

ভিওডি বাংলা/জা

 

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
প্রধান বিচারপতির দায়িত্বে রেজাউল হক
প্রধান বিচারপতির দায়িত্বে রেজাউল হক
শিশু রামিসা ধর্ষণ-হত্যার বিচার শুরু, সাক্ষ্যগ্রহণ কাল
শিশু রামিসা ধর্ষণ-হত্যার বিচার শুরু, সাক্ষ্যগ্রহণ কাল
সুপ্রিম কোর্ট থেকে হাইকোর্ট কর্মচারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
সুপ্রিম কোর্ট থেকে হাইকোর্ট কর্মচারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার