দেশেই স্বল্প খরচে ট্রান্সপ্লান্ট সম্ভব, প্রয়োজন সচেতনতা: রফিকুল ইসলাম

দেশে স্বল্প খরচে অঙ্গ প্রতিস্থাপনের সুযোগ রয়েছে। তবে এ খাতকে আরও এগিয়ে নিতে প্রয়োজন ব্যাপক জনসচেতনতা ও অঙ্গদান বিষয়ে ইতিবাচক সামাজিক পরিবেশ-এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মো. রফিকূল ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সফল কিডনী প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হওয়ায় পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আবার ট্রান্সপ্লান্ট কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এটি একটি জটিল প্রক্রিয়া। সাহস ও দক্ষতার সঙ্গে এ কার্যক্রম পুনরায় চালু করায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, ট্রান্সপ্লান্ট টিম এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে ১৯৮২ সালে প্রথম কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট শুরু হয়। এরপর ধীরে ধীরে এ কার্যক্রম বিস্তৃত হয়েছে। দেশে ইতোমধ্যে কিডনি, লিভার ও বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্টের মতো জটিল চিকিৎসাসেবা চালু হয়েছে। উচ্চতর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসকেরা এ খাতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
অঙ্গদাতার সংকটের কথা তুলে ধরে ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, ট্রান্সপ্লান্ট কার্যক্রম সম্প্রসারণে জীবিত দাতার পাশাপাশি ক্যাডাভেরিক অঙ্গদানকে উৎসাহিত করতে হবে। একজন মানুষ মৃত্যুর পরও তার শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দান করে পাঁচ থেকে ছয়জন মানুষের জীবন বাঁচাতে পারেন। এ বিষয়ে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি।
তিনি বলেন, ক্যাডাভেরিক ট্রান্সপ্লান্ট নিয়ে সমাজে এখনো নানা ধরনের সংকোচ ও ভুল ধারণা রয়েছে। এসব দূর করতে গণমাধ্যম, চিকিৎসক, সমাজকর্মী ও সচেতন নাগরিকদের একযোগে কাজ করতে হবে।
বিদেশে গিয়ে ট্রান্সপ্লান্ট করানোর প্রবণতার প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির এই নেতা বলেন, অনেক রোগী বিপুল অর্থ ব্যয় করে বিদেশে চিকিৎসা নিতে যান। সেখানে অস্ত্রোপচারের খরচের পাশাপাশি দীর্ঘদিন অবস্থান, আবাসন ও অন্যান্য ব্যয়ও বহন করতে হয়। ফলে অনেক পরিবার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
অন্যদিকে দেশে তুলনামূলক স্বল্প খরচে ট্রান্সপ্লান্ট করা সম্ভব বলে উল্লেখ করেন তিনি। ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, আজ যে রোগীর ট্রান্সপ্লান্ট হয়েছে, তার চিকিৎসা ব্যয়ের একটি অংশ সমাজকল্যাণ তহবিল থেকেও সহায়তা করা হচ্ছে। ফলে রোগীরা দেশের ভেতরেই সাশ্রয়ী খরচে উন্নত চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
তবে ট্রান্সপ্লান্টের পর রোগীদের নিয়মিত ওষুধ সেবনের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ইমিউনোসাপ্রেসিভ ওষুধ দীর্ঘদিন গ্রহণ করতে হয়। এ ক্ষেত্রে সরকারি সহায়তা বাড়ানো গেলে রোগীরা আরও উপকৃত হবেন।
ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, ডায়ালাইসিস একটি জটিল ও ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া। অনেক রোগীকে সপ্তাহে একাধিকবার ডায়ালাইসিস করতে হয়। সে তুলনায় সফল কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথ তৈরি করে।
তিনি আরও বলেন, ট্রান্সপ্লান্ট বাংলাদেশে সম্ভব-এই বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। জীবিত দাতার পাশাপাশি ক্যাডাভেরিক ডোনার বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে পারলে দেশে অঙ্গ প্রতিস্থাপন কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হবে এবং অধিকসংখ্যক রোগী উপকৃত হবেন।
ভিওডি বাংলা/জা







