• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live
টপ নিউজ
প্রতিটি নাগরিকের কথা চিন্তা করেই বাজেট হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী জাপানের মিতসুই অ্যান্ড কোং প্রতিনিধি দলের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক ইরানে নতুন করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র কুয়েত-বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানের হামলা বিদ্যুতের নতুন দাম ঘোষণা হতে পারে আজ এটা রাতের সরকার কিনা বুঝতে পারছি না: জামায়াত আমির ফ্রান্স সফর নিয়ে যে ব্যাখ্যা দিলেন রাসিক প্রশাসক মায়ের নামে প্রতিষ্ঠান নামকরণের প্রস্তাব নাকচ করলেন প্রধানমন্ত্রী সড়কবাতি বিষয়ে অভিজ্ঞতা অর্জনে ফ্রান্স যেতে চান রাসিক প্রশাসক ও নির্বাহী প্রকৌশলী পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানালেন প্রধানমন্ত্রী

কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আসলেই কি সফল ডিএসসিসি?

খতিব আসলাম    ৩ জুন ২০২৬, ১২:৪৩ পি.এম.
ছবি: ভিওডি বাংলা

কোরবানির ঈদ মানেই রাজধানীজুড়ে কয়েক হাজার টন বর্জ্য অপসারণের বিশাল চ্যালেঞ্জ। প্রতি বছরই নগরবাসীর প্রত্যাশা থাকে-দ্রুত বর্জ্য সরিয়ে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা। কিন্তু এবার কি সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পেরেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)? নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বর্জ্য অপসারণ, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি বর্জ্য সংগ্রহ, অতিরিক্ত জনবল ও যানবাহনের ব্যবহার এবং মাঠপর্যায়ে সমন্বিত কার্যক্রম-এসব তথ্য কি ডিএসসিসির সাফল্যের প্রমাণ দেয়? নাকি বাস্তবতা ভিন্ন কিছু বলছে?

পবিত্র ঈদুল আজহার তিন দিনে ৩৬ হাজার ৮৬ টন কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ঈদুল আজহার পশুর হাট ও কোরবানির বর্জ্য অপসারণে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৩ হাজার ৯৪২ টন। কিন্তু বাস্তবে অপসারণ করা হয়েছে তারও বেশি-৩৬ হাজার ৮৬ টন বর্জ্য।

রোববার (৩১ মে) নগর ভবনে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য তুলে ধরেন ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।

সংস্থাটি জানায়, ঈদের দিন ১৪ হাজার ৮১৪ টন, দ্বিতীয় দিন ৮ হাজার ৯৭৭ টন এবং তৃতীয় দিন ১২ হাজার ২৯৫ টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সফল করতে ডিএসসিসির নিজস্ব ও পিসিএসপিসহ মোট ১৩ হাজার ৪৫৩ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী দিনরাত মাঠে কাজ করেছেন। বর্জ্য পরিবহনে ব্যবহার করা হয়েছে ৩৮২টি বিশেষ যান-যন্ত্রপাতিসহ মোট ২ হাজার ১১৭টি ছোট-বড় যানবাহন।

ডিএসসিসির তথ্যমতে, নির্ধারিত ৩৫৭টি স্থানে গত তিন দিনে মোট ১৭ হাজার ৩১৫টি পশু কোরবানি করা হয়েছে। তবে নগরবাসীর একটি বড় অংশ নির্ধারিত স্থান ব্যবহার না করায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও চ্যালেঞ্জিং হয়ে ওঠে।

এ বিষয়ে আবদুস সালাম বলেন, আমরা কোরবানির জন্য ৩৫৭টি নির্দিষ্ট জায়গা নির্ধারণ করে দিয়েছিলাম। কিন্তু নগরবাসী তা পুরোপুরি মেনে চলেননি। তারা যদি নির্ধারিত স্থানে কোরবানি দিতেন, তাহলে আমাদের কষ্ট অনেক কম হতো এবং পরিচ্ছন্নতার কাজটি আরও নিখুঁতভাবে করা সম্ভব হতো।

তিনি আরও জানান, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সফল করতে সংশ্লিষ্ট সবার ছুটি বাতিল করে বিশেষ ডিউটির ব্যবস্থা করা হয়েছিল। একই সঙ্গে পশুর হাটগুলো অপসারণেও জোর দেওয়া হয়।

আবদুস সালাম বলেন, ১১টি পশুর হাটের বাঁশ ও অন্যান্য অবকাঠামো অপসারণের কাজ শুরু হয়েছে। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পুরো এলাকা পরিষ্কার করা হবে। আমাদের হিসাব অনুযায়ী আজ ৬০ শতাংশ, আগামীকাল ৩০ শতাংশ এবং পরদিন ১০ শতাংশ কোরবানি সম্পন্ন হবে। সেই অনুযায়ী ধাপে ধাপে সব বর্জ্য অপসারণ করা হবে।

মাঠপর্যায়ে কী দেখা গেল?

ঈদের দিন সকাল থেকেই ডিএসসিসির পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা বর্জ্য অপসারণে মাঠে নামেন। ফলে অধিকাংশ এলাকায় দ্রুত স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসে।

সোমবার (১ জুন) রাজধানীর শ্যামপুর, জুরাইন, দোলাইপাড়, কদমতলী, পোস্তগোলা ও ওয়ারী থানার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সড়ক কিংবা অলিগলিতে কোরবানির বর্জ্যের দৃশ্যমান কোনো স্তূপ নেই। অধিকাংশ এলাকায় বর্জ্য অপসারণের পাশাপাশি সড়ক ধোয়া এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজও চলছিল।

জুরাইন এলাকার বাসিন্দা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ঈদের দিন দুপুরের পর থেকেই পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা কাজ শুরু করেন। আগের বছরের তুলনায় এবার অনেক দ্রুত বর্জ্য সরানো হয়েছে। ব্লিচিং পাউডার ছিটানোয় এখন এলাকায় কোনো দুর্গন্ধও নেই।

শ্যামপুরের বাসিন্দা রোকসানা বেগম বলেন, ঈদের পর কয়েকদিন বাড়ির সামনের কিছু রাস্তা পুরোপুরি পরিষ্কার করা সম্ভব হয়নি। তবে আজ সকাল থেকে কর্মীরা এসে রাস্তা ধোয়া ও ময়লা পরিষ্কারের কাজ করছেন। এতে আমরা স্বস্তি পাচ্ছি।

কদমতলীর ব্যবসায়ী আবদুল কাদের বলেন, বর্জ্য দ্রুত সরিয়ে নেওয়ায় দোকানপাট খুলতে কোনো সমস্যা হয়নি। সিটি করপোরেশনের কর্মীদের ধন্যবাদ জানাই। তারা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কিছু এলাকায় সড়ক ও ড্রেনের পাশে জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার করতে অতিরিক্ত সময় লাগলেও সোমবার সকাল থেকে জোরালোভাবে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে অধিকাংশ সড়ক সম্পূর্ণ পরিষ্কার করা হয়েছে।

কর্মকর্তারা যা বলছেন

ডিএসসিসির অঞ্চল-৫ এর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা আবু তাহের বলেন, ঈদের দিন সকাল থেকেই আমাদের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ শুরু করেন। কোরবানির বর্জ্য অপসারণের পাশাপাশি সড়ক পরিষ্কার, ধোয়া এবং জীবাণুনাশক ছিটানোর কার্যক্রমও পরিচালিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, নগরবাসীর সহযোগিতার কারণে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। কোথাও বিচ্ছিন্নভাবে কোনো ময়লা বা বর্জ্য থেকে থাকলে সেগুলোও দ্রুত অপসারণ করা হচ্ছে।

অন্যদিকে অঞ্চল-৫-এর ইন্সপেক্টর মাসুদ ভুঁইয়া বলেন, ঈদের দিন থেকে আজ পর্যন্ত আমরা সার্বক্ষণিক মাঠে রয়েছি। শতভাগ পরিষ্কার করার চেষ্টা করেছি। তারপরও কোথাও যদি কোনো বর্জ্য অপসারণ বাকি থাকে, আমাদের জানালে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সচেতনতা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ উদ্যোগ

শুধু বর্জ্য অপসারণই নয়, স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রমও পরিচালনা করেছে ডিএসসিসি। সংস্থাটির পক্ষ থেকে ৭৫টি ওয়ার্ডে ৪৬ টন ব্লিচিং পাউডার, ২১০ গ্যালন স্যাভলন এবং ১ লাখ ৪০ হাজার বায়োডিগ্রেডেবল ব্যাগ বিতরণ করা হয়েছে।

এছাড়া নগরীর পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে নিয়মিত তদারকি অব্যাহত রাখা হয়েছে এবং ঈদ-পরবর্তী বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও কয়েকদিন চলবে বলে জানিয়েছে ডিএসসিসি।

তাহলে কি সফল ডিএসসিসি?

পরিসংখ্যান বলছে, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ের চিত্র বলছে, অধিকাংশ এলাকায় দ্রুত পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। নাগরিকদের অভিজ্ঞতাও বড় ধরনের সন্তুষ্টির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

 যদিও কিছু এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শেষ করতে অতিরিক্ত সময় লেগেছে এবং নির্ধারিত স্থানে কোরবানি না হওয়ায় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে, তবুও সামগ্রিক বিবেচনায় কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন সফলতার দাবিদার বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সফলতার পেছনের কারণ কী?

কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণ ও নগরীকে পরিচ্ছন্ন রাখতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালামকে পুরো সময়জুড়েই সক্রিয় দেখা গেছে। দিন-রাত বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিন পরিদর্শন, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম তদারকি, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান এবং মাঠপর্যায়ের সমস্যা তাৎক্ষণিক সমাধানের উদ্যোগ নেন তিনি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে কোনো ধরনের গাফিলতি বরদাশত না করার বার্তা শুরু থেকেই ছিল স্পষ্ট।

দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের দুই কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে তাদের চাকরি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও ছয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। ফলে মাঠপর্যায়ে দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহিতা আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শনির আখড়ার ছাপড়া মসজিদ সংলগ্ন এক বাসিন্দা মাসুদুর রহমান মাসুদ বলেন, সিটি করপোরেশনের ইতিহাসে এমন সক্রিয় প্রশাসক আমরা খুব কমই দেখেছি। তিনি শুধু নির্দেশনা দেননি, বরং নিজে মাঠে উপস্থিত থেকে পুরো বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম তদারকি করেছেন। রাতেও বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন। তার এমন সরাসরি অংশগ্রহণের কারণে কাজের গতি অনেক বেড়েছে।

আরেকজন স্থানীয় ব্যবসায়ী জলিল সরকার বলেন, এর আগে সিটি করপোরেশনের এত উচ্চপর্যায়ের কাউকে এভাবে মাঠে নেমে কাজ মনিটর করতে দেখিনি। এবার প্রশাসকের সরাসরি তদারকির কারণে পুরো পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও দ্রুত ও শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

সব মিলিয়ে, এবারের ঈদে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ডিএসসিসি একটি কার্যকর ও সংগঠিত সক্ষমতার উদাহরণ স্থাপন করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভিওডি বাংলা/জা


  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
রামিসা হত্যা মামলা, কে এই ডলার?
রামিসা হত্যা মামলা, কে এই ডলার?
পরিত্যক্ত ঘরে পড়ে ছিল বৃদ্ধার গলিত মরদেহ
পরিত্যক্ত ঘরে পড়ে ছিল বৃদ্ধার গলিত মরদেহ
রিকশা ও অটোরিকশা লাইসেন্সের আওতায় আনা হবে: ডিএসসিসি প্রশাসক
রিকশা ও অটোরিকশা লাইসেন্সের আওতায় আনা হবে: ডিএসসিসি প্রশাসক