• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

জাতিসংঘে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ৬ দফা কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক    ৩ জুন ২০২৬, ১০:৫৬ এ.এম.
ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে নির্বাচিত হওয়ার পর দেওয়া প্রথম বক্তব্যে বৈশ্বিক শান্তি, টেকসই উন্নয়ন, মানবাধিকার এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারে ছয়টি কর্মস্তম্ভভিত্তিক কর্মপরিকল্পনার ঘোষণা দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

মঙ্গলবার (২ জুন) জাতিসংঘে দেওয়া বক্তব্যে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের আস্থা ও সমর্থনের কারণেই তিনি সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেয়েছেন। এ দায়িত্ব তিনি বিনয় ও গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে গ্রহণ করছেন বলেও উল্লেখ করেন।

ড. খলিলুর রহমান তাকে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি প্রচারণাকালে সহযোগিতা করা তার সহকর্মী, সমর্থক এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের শুভানুধ্যায়ীদের ধন্যবাদ জানান।

তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আন্দ্রেয়াস কাকৌরিসের প্রশংসা করে বলেন, তার পরিচালিত প্রচারণা ছিল গঠনমূলক ও উদাহরণযোগ্য, যা ভবিষ্যতে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর জন্য অনুসরণীয় হয়ে থাকবে।

নবনির্বাচিত সভাপতি বলেন, জাতিসংঘ এমন এক সময়ে নবম দশকে প্রবেশ করছে, যখন সংস্থাটির প্রতি বৈশ্বিক আস্থা নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ ও সংঘাত মানবিক সংকটকে আরও গভীর করেছে, উন্নয়ন অর্জনগুলো ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে অগ্রগতি পিছিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতার ক্ষেত্রেও উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ এবং জাতিসংঘের আর্থিক সংকট সংস্থাটির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।

শান্তি ও নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে খলিলুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের অভিজ্ঞতা ও অবদান তার জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। সাইপ্রাস থেকে সুদান পর্যন্ত বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

তিনি সংঘাত প্রতিরোধ, রাজনৈতিক সমাধান, শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে আরও কার্যকর শান্তিরক্ষা কাঠামো গড়ে তোলার পক্ষে মত দেন। একই সঙ্গে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০৩০ এজেন্ডা বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতি ও বাস্তব অর্জনের মধ্যে এখনো বড় ব্যবধান রয়েছে। ২০২৭ সালের এসডিজি সম্মেলনকে সামনে রেখে পিছিয়ে থাকা লক্ষ্যগুলো অর্জনে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

এ ছাড়া এসডিজি বাস্তবায়নে অর্থায়নের ঘাটতি দূর করা, ঋণের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা, আন্তর্জাতিক আর্থিক কাঠামোর সংস্কার এবং নারী ও কন্যাশিশুদের অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য গৃহীত দোহা কর্মসূচিসহ উন্নয়ন-সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের নবনির্বাচিত সভাপতি ড. খলিলুর রহমান।

ভিওডি বাংলা/আ

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
খলিলুর রহমানকে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টের অভিনন্দন
খলিলুর রহমানকে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টের অভিনন্দন
খলিলুর রহমানকে স্পিকারের অভিনন্দন
খলিলুর রহমানকে স্পিকারের অভিনন্দন
৪ জুন দেশে ফিরছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
৪ জুন দেশে ফিরছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী