চার দশক পর জাতিসংঘে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সাফল্য

প্রায় চার দশক পর আবারও একজন বাংলাদেশি প্রতিনিধি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় এটিকে দেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে অভিহিত করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে এ অর্জনের পেছনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সময়োপযোগী নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২ জুন) রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের বিজয় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ক্রমবর্ধমান গ্রহণযোগ্যতা ও কূটনৈতিক সক্ষমতার প্রতিফলন।
বার্তায় বলা হয়, ১৯৭৮ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য নির্বাচিত হয়েছিল। দীর্ঘ ৪৮ বছর পর আবারও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে বাংলাদেশের বিজয় কূটনৈতিক ক্ষেত্রে বড় অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মঙ্গলবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ১৯৩ সদস্য রাষ্ট্রের ভোটের মধ্যে ড. খলিলুর রহমান ৯৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের প্রার্থী পান ৯১ ভোট।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এক অভিনন্দন বার্তায় বলেন, এই অর্জন বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান গ্রহণযোগ্যতা, বিশ্বাসযোগ্যতা এবং অবদানের প্রতিফলন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন দায়িত্বে ড. খলিলুর রহমান বহুপাক্ষিক সহযোগিতা, সংলাপ এবং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, নির্বাচনের মাত্র তিন মাস আগে ড. খলিলুর রহমানকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়। এরপর স্বল্প সময়ের মধ্যেই পূর্ণমাত্রার কূটনৈতিক প্রচারণা চালিয়ে বাংলাদেশ এ সাফল্য অর্জন করে। অন্যদিকে, সাইপ্রাস প্রায় এক দশক ধরে এ নির্বাচনের জন্য প্রচারণা চালিয়ে আসছিল।
প্রচারণা কার্যক্রমে ড. খলিলুর রহমান, শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং হুমায়ুন কবির নেতৃত্ব দেন। পাশাপাশি নিউইয়র্কে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত কূটনৈতিক মিশনগুলো সক্রিয় ভূমিকা পালন করে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, এ বিজয় কেবল একটি আন্তর্জাতিক পদে নির্বাচিত হওয়ার ঘটনা নয়; বরং শান্তি, উন্নয়ন, বহুপাক্ষিক সহযোগিতা এবং বৈশ্বিক দক্ষিণের স্বার্থ রক্ষায় বাংলাদেশের সক্রিয় ভূমিকার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।
ভিওডি বাংলা/আ







