• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

স্বচ্ছতার সঙ্গে বিচার প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ সম্পন্ন করেছি: চিফ প্রসিকিউটর

নিজস্ব প্রতিবেদক    ২৩ মে ২০২৬, ০৩:১৯ পি.এম.
মো. আমিনুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া স্বচ্ছতা, পেশাদারিত্ব ও আইনি কাঠামোর মধ্য দিয়েই এগিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

গণমাধ্যমকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়েই ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়েছিল এবং সেই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে এখনো নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ চলছে।

তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও প্রসিকিউশন; উভয় পক্ষই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। আসামিপক্ষ আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য আইনে যে সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার কথা, এখানে তারা তা পাচ্ছে। একইভাবে ভিকটিম পরিবারগুলোর বক্তব্য, অভিযোগ, প্রমাণ ও সাক্ষ্য সংগ্রহেও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত ঘটনা, বিশেষ করে আহত, নিহত, গুম ও হত্যাকাণ্ডের শিকার পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, ব্যক্তিগতভাবে আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে তিনি এই শোক আরও গভীরভাবে অনুভব করেন।

তিনি বলেন, ‘জুলাই শহীদ পরিবারগুলো যেভাবে ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা করে, আমিও একইভাবে সেই প্রত্যাশা করি। প্রতিটি মামলায় শাস্তি নিশ্চিত করতে আমরা কঠোর পরিশ্রম করছি। স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ আমরা সম্পন্ন করেছি।’

চিফ প্রসিকিউটর জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এখন পর্যন্ত মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি মামলার রায় ঘোষণা হয়েছে। এর মধ্যে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলার রায়ও রয়েছে। এছাড়া জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনুর একটি মামলা রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রয়েছে।

বর্তমানে আরও ২২টি মামলা বিচারাধীন এবং প্রতিদিনই সাক্ষ্যগ্রহণ, যুক্তি উপস্থাপন ও নথি পর্যালোচনার কাজ চলছে বলে তিনি জানান। পাশাপাশি ৩১টি মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে, যেখানে ব্যাপক নথি, প্রমাণ ও তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত ১০৫টি মামলা অভিযোগ হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে এবং আরও প্রায় ৪৫০টি অভিযোগ যাচাই-বাছাই শেষে তদন্তে পাঠানোর অপেক্ষায় রয়েছে।

মামলার জটিলতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রতিটি মামলাই চ্যালেঞ্জিং। কারণ জুলাই গণঅভ্যুত্থান দমনে জড়িত অনেকেই সমাজে প্রভাবশালী। পুলিশ, প্রশাসন, রাজনীতি ও সাংবাদিকতাসহ বিভিন্ন পেশার উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা থাকায় সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ সবসময় সহজ হয় না।’

তবে এসব চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও তদন্ত থেকে শুরু করে বিচার পর্যন্ত কার্যক্রম নিয়মিতভাবে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।

কিছু শহীদ পরিবার মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে যথাযথ তথ্য পাচ্ছেন না—এমন অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি বিভিন্ন এলাকায় গণশুনানির আয়োজন করছেন যাতে পরিবারগুলো সরাসরি প্রসিকিউশনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে।

তিনি বলেন, ‘আমি চেষ্টা করছি, প্রতিটি পরিবার যেন তাদের মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে পারে এবং প্রয়োজনীয় নথি বা তথ্য আমাদের দিতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত কেউ হতাশা প্রকাশ করেনি বা বিচার না পাওয়ার আশঙ্কা জানায়নি।’

চিফ প্রসিকিউটর জানান, ট্রাইব্যুনালের দুটি বেঞ্চেই ছুটির দিন ছাড়া নিয়মিত বিচার কার্যক্রম চলছে। বর্তমানে প্রায় ১৯ জন প্রসিকিউটর এবং ২৪ জন তদন্ত কর্মকর্তা কাজ করছেন।

তিনি বলেন, তদন্ত কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন, সাক্ষাৎকার গ্রহণ, নথি সংগ্রহ ও ফরেনসিক বিশ্লেষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন।

তিনি আরও বলেন, ‘এত বিপুল সংখ্যক মামলাকে কাঠামোগতভাবে এগিয়ে নেওয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তারপরও আমরা স্বাভাবিক গতিতেই মামলা নিষ্পত্তির কাজ এগিয়ে নিচ্ছি।’

বিচারের গতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দ্রুত বিচার করলে ভুলের ঝুঁকি থাকে, আবার দীর্ঘসূত্রতা হলে ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। তাই ভারসাম্য বজায় রেখেই বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করি, বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। আসামিপক্ষ যাতে তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করতে পারে, সে জন্য আদালত অত্যন্ত উন্মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করেছে। একই সঙ্গে ভিকটিম পরিবারগুলোর ন্যায়বিচার পাওয়াটাই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।’

শেষে তিনি বলেন, ‘জুলাই শহীদদের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে। তারা গণতন্ত্র রক্ষার জন্য জীবন দিয়েছেন। তাদের পরিবারের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারাটাই আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ও দায়িত্ব।’

তিনি আরও যোগ করেন, ট্রাইব্যুনালের কাঠামো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে প্রতিটি মামলায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয় এবং স্বচ্ছতা বজায় থাকে।

মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। একদিকে আসামির অধিকার নিশ্চিত করা, অন্যদিকে অপরাধ প্রমাণিত হলে তার বিচার নিশ্চিত করা- এই দুইয়ের সমন্বয় করেই আমরা কাজ করছি। দেশবাসী ন্যায়বিচার চায়, আমরাও সেই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রতিনিয়ত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

ভিওডি বাংলা/বিন্দু

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
চট্টগ্রামে আইনজীবী সমিতির ভোট শুরু, জামায়াতপন্থিদের বিক্ষোভ
চট্টগ্রামে আইনজীবী সমিতির ভোট শুরু, জামায়াতপন্থিদের বিক্ষোভ
সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় ইস্যুতে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল
সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় ইস্যুতে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল
আপিল বিভাগে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার চান সাংবাদিকেরা
প্রধান বিচারপতিকে চিঠি আপিল বিভাগে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার চান সাংবাদিকেরা