রাজধানীর হাটে বাড়ছে কোরবানির পশু

ঈদুল আজহা সামনে রেখে রাজধানীর হাটগুলোতে আসতে শুরু করেছে কোরবানির পশু। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ট্রাক ও পিকআপভর্তি গরু নিয়ে ঢাকায় আসছেন খামারি ও ব্যবসায়ীরা। গাবতলীসহ বিভিন্ন অস্থায়ী হাটে এখন থেকেই জায়গা দখল নিয়ে চলছে নীরব প্রতিযোগিতা। বিশেষ করে হাটের প্রবেশমুখ ও সামনের সারিতে অবস্থান নিতে বেশি আগ্রহ দেখা যাচ্ছে ব্যবসায়ীদের মধ্যে। তাদের বিশ্বাস, ভালো স্থানে গরু রাখলে ক্রেতার নজর বেশি পড়ে এবং বিক্রিও ভালো হয়।
এবার রাজধানীতে দুই সিটি করপোরেশনের আওতায় ২৪টি পশুর হাট বসছে। এর মধ্যে গাবতলীর স্থায়ী হাটে ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে গরুর সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। যদিও এখনো পুরোপুরি জমে ওঠেনি কেনাবেচা, তবে প্রতিদিনই বাড়ছে পশুর সংখ্যা।
রাজশাহী থেকে গরু নিয়ে আসা এক ব্যাপারী জানান, ভালো জায়গা পাওয়ার জন্য কয়েকদিন আগেই হাটে চলে এসেছেন। তার মতে, হাটে অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ সামনের দিকে থাকলে ক্রেতারা সহজে দেখতে পারেন। তিনি বলেন, পশুখাদ্যের দাম বাড়ায় এবার গরু পালন করতে খরচ অনেক বেশি হয়েছে। ভুসি, খড় ও খৈলের দাম বাড়ায় লাভ নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তারা।
কুষ্টিয়া থেকে আসা আরেক খামারি বলেন, প্রায় এক বছর ধরে গরু লালন-পালন করেছেন। কিন্তু পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় লাভ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ডিজেলের দাম বাড়ার কারণে ট্রাক ভাড়াও আগের তুলনায় অনেক বেশি গুনতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।
হাট ঘুরে দেখা গেছে, ছোট, মাঝারি ও বড় আকারের বিভিন্ন জাতের গরু উঠতে শুরু করেছে। দেশি গরুর পাশাপাশি ফ্রিজিয়ান ও শাহীওয়াল সংকর জাতের গরুও রয়েছে উল্লেখযোগ্য সংখ্যায়। গরুর আকার, ওজন ও জাতভেদে দাম হাঁকা হচ্ছে ১ লাখ থেকে কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত।

তবে এখনই চূড়ান্ত দরদামে আগ্রহী নন অনেক বিক্রেতা। তাদের ধারণা, ঈদের শেষ সময়, বিশেষ করে চাঁদরাতের দিকে গরুর দাম আরও বাড়তে পারে। সে কারণে অনেকে অপেক্ষার কৌশল নিয়েছেন।
হাট সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এখনও মূল ক্রেতাদের চাপ শুরু হয়নি। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে বাজারে ক্রেতা বাড়বে বলে আশা করছেন তারা। একই সঙ্গে নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা ও পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়েছে বলেও জানিয়েছেন তারা।
এদিকে ছুটির দিন হওয়ায় পরিবার নিয়ে পশুর হাটে ঘুরতে আসছেন অনেক মানুষ। কেউ বাজার যাচাই করছেন, কেউ আবার আগেভাগে পছন্দের গরু দেখে রাখছেন। বেশিরভাগ ক্রেতারই পরিকল্পনা শেষ মুহূর্তে পশু কেনার।
মিরপুর থেকে পরিবার নিয়ে গাবতলী হাটে আসা এক চাকরিজীবী বলেন, এখন মূলত বাজার পরিস্থিতি দেখতে এসেছেন। কোন গরুর দাম কত, সেটি যাচাই করছেন। শেষের দিকে দাম কিছুটা কমতে পারে-এমন আশা থেকেই এখনই কেনার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন না।
আরেক ক্রেতা জানান, পরিবারের সদস্যদের নিয়ে গরু দেখতে এসেছেন। শিশুদের মধ্যেও কোরবানির পশু নিয়ে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। তবে তার মতে, গত বছরের তুলনায় এবার গরুর দাম কিছুটা বেশি মনে হচ্ছে।
খামারিদের দাবি, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাবও এবার পশুখাদ্যের বাজারে পড়েছে। আমদানিনির্ভর খাদ্য উপকরণের দাম বাড়ায় উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। এর সঙ্গে পরিবহন খরচ যুক্ত হয়ে ব্যবসায়ীদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। তাই ভালো দাম না পেলে লোকসানের ঝুঁকি রয়েছে বলে মনে করছেন তারা।
তবে সব মিলিয়ে শেষ মুহূর্তে রাজধানীর পশুর হাটে জমজমাট বেচাকেনার আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, দেশীয় খামারিরাই এবারও কোরবানির পশুর চাহিদার বড় অংশ পূরণ করবেন।
ভিওডি বাংলা/জা







