মুক্তিযুদ্ধের মতো ঐক্য গড়লে ঢাকা হবে সুন্দর শহর: আবদুস সালাম

যেভাবে আমরা মুক্তিযুদ্ধের বিজয় অর্জন করেছি, ঠিক সেভাবেই চাইলে ঢাকাকে ও বিশ্বের অন্যতম সুন্দর শহরে পরিণত করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
শুক্রবার (২২ মে) রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডে স্টার কাবাব এন্ড রেস্টুরেন্টে “হৃদয়ের এলিফ্যান্ট রোড সোসাইটি”-র উদ্যোগে পাটের ব্যাগের মাধ্যমে কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচির অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে বায়ুদূষিত শহরগুলোর তালিকায় ঢাকার অবস্থান বাংলাদেশের জন্য লজ্জার। এজন্য নাগরিক সচেতনতা বাড়াতে হবে।
এলিফ্যান্ট রোড সোসাইটি নামটাই হৃদয়ে ধারণ করার মতো উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকে মুক্তিযুদ্ধ, গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও স্বাধীনতা-পরবর্তী বিভিন্ন সংগ্রামের সঙ্গে এলিফ্যান্ট রোডের নাম জড়িয়ে আছে।
এলিফ্যান্ট রোডবাসীর প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং মুক্তিযুদ্ধ সংগঠনের কাজেও যুক্ত ছিলেন। পরে এ এলাকার আরও নানা ঐতিহাসিক স্মৃতি নিয়ে বিস্তারিত কথা বলবেন বলেও জানান তিনি।
আবদুস সালাম বলেন, এলিফ্যান্ট রোড এলাকায় আবর্জনা, জলাবদ্ধতা ও ড্রেনেজ সমস্যার কারণে সিটি কর্পোরেশনের প্রতি মানুষের ক্ষোভ থাকা স্বাভাবিক। তবে তিনি নিজেকে এলাকার মানুষের লোক উল্লেখ করে বলেন, ধাপে ধাপে সমস্যার সমাধান করা হবে।
তিনি বলেন, এক-দুই মাসে সব সম্ভব না হলেও এক-দুই বছরের মধ্যে ঢাকার অধিকাংশ সমস্যা সমাধান করা সম্ভব।
তিনি জানান, আগামী নির্বাচনে জনগণ তাকে মেয়র নির্বাচিত করলে দুই বছরের মধ্যে ঢাকার ম্যাক্সিমাম প্রবলেম সমাধান করবেন।
তিনি আরও বলেন, এলিফ্যান্ট রোড এলাকায় আগে পরিদর্শনে এসে জলাবদ্ধতা ও অন্যান্য সমস্যা সরেজমিনে দেখেছেন এবং দ্রুত পানি নিষ্কাশনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবির প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, এলাকায় জায়গা নির্ধারণ করা গেলে দুই-এক মাসের মধ্যে পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করা হবে। এ বিষয়ে তার সঙ্গে থাকা প্রকৌশলীদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।
আবদুস সালাম জানান, ঢাকা শহরের পুরোনো খাল ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এজন্য ধানমন্ডি, নিউ মার্কেট, ঢাকা কলেজ ও টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট এলাকা পর্যন্ত জলাবদ্ধতা নিরসনে একটি বড় প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং প্রকল্প অনুমোদনের প্রক্রিয়া চলছে।
তিনি বলেন, স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত পাম্প ব্যবহার করেই পানি সরাতে হবে। তবে আগামী বর্ষার আগেই পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এলাকার ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যত্রতত্র ময়লা ফেলার কারণে এলাকায় নোংরা পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। দোকান ও বাড়ির আবর্জনা নির্দিষ্ট ডাস্টবিনে ফেলার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, ৫০ শতাংশ দায়িত্ব সিটি কর্পোরেশনের, বাকি ৫০ শতাংশ জনগণের। দুই পক্ষ একসঙ্গে কাজ করলে ঢাকা পরিষ্কার রাখা সম্ভব।
স্থানীয়দের দাবির প্রেক্ষিতে এলাকায় পরিচ্ছন্নতাকর্মী সংখ্যা বাড়ানোর আশ্বাস দেন তিনি। পাশাপাশি সবাইকে নিজেদের বাড়ি, দোকান ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানান।
আবদুস সালাম জানান, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৭৫টি ওয়ার্ডে ৪৬ টন ব্লিচিং পাউডার, ১০৫০ লিটার জীবাণুনাশক সলিউশন এবং এক লাখ ৪০ হাজার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যাগ বিতরণ করা হবে।
প্রশাসক বলেন, আমরা চেষ্টা করব দুপুর ১২টা থেকে আট ঘণ্টার মধ্যে কোরবানির বর্জ্য পরিষ্কার করতে।
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বলেন, শুধুমাত্র প্রশাসনের পক্ষে সব সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। সামাজিক সংগঠন, ব্যবসায়ী সমিতি ও সাধারণ জনগণকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠান শেষে তিনি কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় পাটের ব্যাগ বিতরণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
ভিওডি বাংলা/জা







