ফুলছড়িতে নেশার টাকা না পেয়ে ফুফুকে হত্যা

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলায় নেশা করার টাকা না পেয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ফুফুকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে সোহেল রানা (২৭) নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে । এসময় আরও দুইজন আহত হয়েছেন। আহতদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আটক সোহেল রানা ওই এলাকার মৃত সামু মিয়ার ছেলে। ঘটনার পর বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী ওই যুবককে আটক করে পুলিশকে খবর দেয়।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) ফুলছড়ি উপজেলার ফজলুপুর ইউনিয়নের বাজেতেলকুপি চরে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, সোহেল রানার শৈশবে তার বাবা মারা যান। কৃষি কাজ করে তার মা তাকে বড় করেন। সম্প্রতি এলাকায় কিছু চিহিৃত মাদকাসক্ত যুবকদের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তোলে। ধীরে ধীরে সোহেল রানা নেশাগ্রস্থ হয়ে যায়। নেশার টাকার জন্য প্রায়ই সে তার মাকে নানাভাবে নির্যাতন করতো। বৃস্পতিবার সকালে সোহেল রানা তার মায়ের কাছে ৫০০ টাকা চায়। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে রান্না ঘর থেকে বটি নিয়ে এসে প্রথমে তার মাকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করে।
এসময় তার মা আনোয়ারা বেগম চিৎকার করে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। পরে তাকে বাঁচাতে চাচি জুলেখা বেগম এগিয়ে এলে তাকেও এলোপাতাড়ি কোপায় সোহেল। তাদের দুইজনের চিৎকারে সোহেলের ফুফু জহুরা বেগম এগিয়ে আসে। এসময় সোহেল রানা তার ফুফুর পেটে বটি দিয়ে কোপ দেয় এবং একটি হাত বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। এতে ঘটনাস্থলেই ফুফু জুহুরা বেগমের মৃত্যু হয়।
পরে স্থানীয়রা সোহেল রানার মা আনোয়ারা বেগম (৫০) ও চাচি জুলেখা বেগমকে (৪৫) উদ্ধার করে প্রথমে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাদের অবস্থার অবনতি হলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা রাজু মিয়া বলেন, সোহেল রানা আগে ভালো ছেলে ছিল। কিন্তু এলাকায় নেশাগ্রস্ত ছেলেদের সঙ্গে ঘুরে সোহেল রানা এখন নেশা করা ছাড়া থাকতে পারে না। মাদকাসক্ত হয়ে বাড়িতে অত্যাচার করে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ফুলছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুরুল হোদা বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ সোহেল রানাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। মরদেহ ময়নাতদন্তের পর স্বজনদের হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে।
ভিওডি বাংলা/জা







