কাঁকড়া শিকারিকে গুলির ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলা

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপকূলসংলগ্ন সুন্দরবনে কাঁকড়া শিকারি আমিনুর রহমান গাজী (৪৫) নিহতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বন বিভাগ ও জেলেদের মধ্যে কিছুটা উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষ পাল্টাপাল্টি মামলা করেছে।
নিহত আমিনুর রহমান শ্যামনগর উপজেলার সোরা গ্রামের বাসিন্দা। পরিবারের দাবি, বন বিভাগের টহল দলের গুলিতে তিনি নিহত হয়েছেন। তবে বন বিভাগের দাবি, জেলেদের সঙ্গে ধস্তাধস্তির সময় অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে গুলি বের হয়ে এ ঘটনা ঘটে।
বুধবার (২০ মে) নিহতের ভাতিজা অলিউল্যাহ কয়রা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় বন বিভাগের নলিয়ান ফরেস্ট স্টেশনের কর্মকর্তা মোবারক হোসেন, পশ্চিম বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক শামীম রেজাসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, বৈধ পাস নিয়ে সুন্দরবনে মাছ ও কাঁকড়া আহরণে যাওয়া আমিনুর রহমানের কাছে বন বিভাগের কিছু সদস্য টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে গুলি করা হয়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নলিয়ান ফরেস্ট স্টেশনের কর্মকর্তা মোবারক হোসেন। তার দাবি, নিষিদ্ধ অভয়ারণ্য এলাকায় টহলের সময় জেলেদের সঙ্গে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে অস্ত্র থেকে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে গুলি বের হয়ে আমিনুর গুলিবিদ্ধ হন।
অন্যদিকে, বন বিভাগের পক্ষ থেকেও বনরক্ষীদের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা এবং সাতক্ষীরা রেঞ্জ কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা করা হয়েছে।
কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি বন বিভাগের পক্ষ থেকেও মামলা হয়েছে।
সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মশিউর রহমান বলেন, হামলায় বন বিভাগের পাঁচজন কর্মচারী আহত হয়েছেন। যদিও জেলের মৃত্যুর ঘটনাটি খুলনা রেঞ্জ এলাকায় ঘটেছে, হামলা চালানো হয়েছে সাতক্ষীরা রেঞ্জ কার্যালয়ে।
সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এ জেড এম হাছানুর রহমান বলেন, সরকারি কাজে বাধা ও হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে। পাশাপাশি রেঞ্জ কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় আরও একটি মামলার প্রস্তুতি চলছে। একইসঙ্গে জেলে নিহতের ঘটনা তদন্তে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ভিওডি বাংলা/এসআর







