যত্রতত্র কোরবানির হাট বন্ধ ও বর্জ্য অপসারণের দাবি বাপার

যত্রতত্র বা সড়কের ওপর কোরবানির পশুর হাট বসানো সম্পূর্ণভাবে বন্ধ এবং ঘোষিত সময়ের মধ্যে কোরবানির বর্জ্য ৮ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণ নিশ্চিত করার দাবিতে নাগরিক সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)।
বুধবার (২০ মে) ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নগর ভবনের সামনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
আয়োজিত এ সমাবেশে পরিবেশবাদী সংগঠনটির নেতারা বলেন, ঈদ-উল-আযহাকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ সারা দেশে পশুর হাট ব্যবস্থাপনা ও কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় এখনও গুরুতর ঘাটতি রয়েছে, যা নগরজীবন ও জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।
নগরজীবনে চাপ ও অনিয়ন্ত্রিত হাটের সমস্যা
বাপার বক্তব্যে বলা হয়, ঢাকা মহানগরীতে সিটি কর্পোরেশন নির্ধারিত স্থানে অস্থায়ী পশুর হাট বসানো হলেও অনির্ধারিত স্থান, সড়ক ও মহাসড়কের পাশে গড়ে ওঠা হাটগুলো পর্যাপ্ত ব্যবস্থাপনার বাইরে থেকে যায়। এতে ঈদের সময় নগরীতে যানজট, দুর্গন্ধ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি মারাত্মকভাবে বেড়ে যায়।
সংগঠনটি জানায়, ঈদের পর অন্তত ১০ দিন ধরে শহরের বিভিন্ন এলাকায় পশুর বর্জ্য ও উচ্ছিষ্টে পরিবেশ দূষণ সৃষ্টি হয়, যা জনদুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তোলে।
সমাবেশে জানানো হয়, আসন্ন ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে রাজধানীতে মোট ২৭টি পশুর হাট বসানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ১১টি এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ১৬টি হাট রয়েছে।
এছাড়া সারাদেশে ৩ হাজার ৬০০-এর বেশি পশুর হাট বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়। চলতি বছর কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা ১ কোটি ২৩ লাখের বেশি এবং চাহিদা রয়েছে প্রায় ১ কোটি ১ লাখ।
বক্তারা আরও বলেন, চামড়ার ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত না হলে অনেক সময় তা রাস্তাঘাট, খাল-বিল বা ময়লার স্তূপে পড়ে থেকে পরিবেশ দূষণ ও দুর্গন্ধ সৃষ্টি করে। এ পরিস্থিতি এড়াতে চামড়া সিন্ডিকেট ভেঙে বাজার স্থিতিশীল করার দাবি জানানো হয়।
বাপার উত্থাপিত প্রধান দাবিসমূহ
সমাবেশ থেকে ১০ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-
১. যত্রতত্র পশুর হাট সম্পূর্ণ বন্ধ করে নির্ধারিত স্থানে সীমাবদ্ধ করা।
২. পশুর হাটের বর্জ্য দ্রুত অপসারণ নিশ্চিত করা।
৩. এলাকাভিত্তিক নির্ধারিত স্থানে কোরবানির ব্যবস্থা চালু করা।
৪. কোরবানির পর ৮ ঘণ্টার মধ্যে সকল বর্জ্য অপসারণ নিশ্চিত করা।
৫. বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও উপকরণ পর্যাপ্তভাবে সরবরাহ করা।
৬. পাড়া-মহল্লাভিত্তিক স্থায়ী কোরবানি কেন্দ্র স্থাপন করা।
৭. খোলা জায়গা, নদী, খাল, ড্রেন ও সড়কে বর্জ্য ফেলা বন্ধ করা।
৮. নাগরিক অভিযোগ নিষ্পত্তিতে হটলাইন ও জরুরি সেবা কেন্দ্র চালু করা।
৯. মাঠপর্যায়ে সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভার তদারকি জোরদার করা।
১০. সরকার নির্ধারিত মূল্যে চামড়া ক্রয় ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করা।
বাপা নেতারা বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ৮ ঘণ্টার মধ্যে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ বাস্তবায়ন করতে হলে স্থানীয় প্রশাসন, সিটি কর্পোরেশন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত ও কঠোর ভূমিকা প্রয়োজন।
নাগরিকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো এবং পরিবেশ সুরক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি স্থায়ী অবকাঠামো গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে সমাবেশ শেষ হয়।
ভিওডি বাংলা/জা







