ঢাকা-গোপালগঞ্জ রুটে চালু হচ্ছে নতুন দুই ট্রেন

পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ চালুর পর দেশের দক্ষিণাঞ্চলে রেল যোগাযোগে যুক্ত হচ্ছে নতুন সম্ভাবনা। এবার ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জ রুটে যাত্রী পরিবহনের জন্য নতুন দুটি ট্রেন চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সবকিছু ঠিক থাকলে শিগগিরই ‘অভিযাত্রী কমিউটার’ নামে নতুন এই ট্রেন চলাচল শুরু করবে।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, এ বিষয়ে চূড়ান্ত নথি প্রস্তুত করে গত রোববার রেলপথ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন মিললেই ঢাকা-গোপালগঞ্জ-ঢাকা রুটে ট্রেন পরিচালনার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে। রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, জয়দেবপুর কমিউটারের রেক ব্যবহার করে নতুন এক জোড়া ট্রেন পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জগামী ট্রেনের নম্বর হবে ১৩৬ এবং গোপালগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী ট্রেনের নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩৫।
নতুন এই ‘অভিযাত্রী কমিউটার’-এ মোট ৮টি যাত্রীবাহী কোচ থাকবে। প্রতিটি কোচে সর্বোচ্চ ৯৭ জন যাত্রী বসার সুযোগ পাবেন। পুরো ট্রেনে আসন সংখ্যা হবে ৬০৯টি। ট্রেনটি কাশিয়ানী জংশন ব্যবহার করে চলাচল করবে।
সময়সূচি অনুযায়ী, প্রতিদিন বিকেল সাড়ে ৩টায় ঢাকা থেকে ছেড়ে ট্রেনটি সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে গোপালগঞ্জ পৌঁছাবে। সেখানে আধা ঘণ্টা বিরতির পর সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে আবার ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাত ১০টা ২৫ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছাবে ট্রেনটি। পুরো যাত্রায় সময় লাগবে প্রায় ৩ ঘণ্টা ১০ মিনিট।
রেলওয়ের পরিকল্পনায় ট্রেনটিতে শোভন ও ‘মেট্রো টাইপ’ শোভন চেয়ার শ্রেণির আসন রাখার কথা বলা হয়েছে। ঢাকা থেকে ছেড়ে ট্রেনটি কেরানীগঞ্জ, শ্রীনগর, মাওয়া, শিবচর, ভাঙ্গা জংশন, নগরকান্দা ও মহেশপুর হয়ে গোপালগঞ্জে পৌঁছাবে। সপ্তাহে এক দিন, শনিবার ট্রেনটির সাপ্তাহিক ছুটি থাকবে।
রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক (পশ্চিম) পক্ষে সহকারী চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট মো. আব্দুল আওয়াল স্বাক্ষরিত আরেক চিঠিতে বলা হয়েছে, নতুন এ ট্রেন চালু হলেও বর্তমানে চলমান কোনো ট্রেনের যাত্রা বাতিল করতে হবে না। তবে গোপালগঞ্জ রুটে ট্রেন চালুর জন্য বন্ধ থাকা স্টেশন চালু করা, নতুন ক্রু ও গার্ড নিয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে।
প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, ট্রেনটি চালু হলে গোপালগঞ্জসহ আশপাশের চার জেলার শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও সাধারণ মানুষের ঢাকা যাতায়াতে সময় ও খরচ কমবে। এর আগে গোবরা স্টেশন থেকে গোপালগঞ্জ-ঢাকা রুটে ট্রেন চালুর প্রস্তাবও উঠেছিল।
ভিওডি বাংলা/এমএস







