লাগাতার হামলার হুমকির মধ্যেই ইরানে একসঙ্গে ১ হাজার বিয়ে

ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চলমান। যখন ইচ্ছে হামলার হুমকি দিচ্ছেন ট্রাম্প, আবার যখন ইচ্ছা স্থগিতও করছেন। কিন্তু এই হুমকি ধমকির মধ্যেও চিরাচরিত নিয়মে নিজেদের জীবনযাপন চালিয়ে যাচ্ছেন ইরানিরা। একদিকে যুদ্ধ, অন্যদিকে বিয়ের দামামা চলছে পুরোদমে।
রাজধানী তেহরানে জাঁকজমকপূর্ণভাবে গণবিবাহের আয়োজন করা হয়েছে। বিশেষ সাজসজ্জার মধ্যে এবার গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে সামরিক ও যুদ্ধযানগুলোকে। জান-ফাদা কাপলস বা জীবন উৎসর্গকারী যুগল প্রচারণার আওতায় শহরের প্রধান প্রধান চত্বরগুলোতে একযোগে এক হাজার জোড়া তরুণ-তরুণীর এই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে। ইসলামিক হিজরি সনের পবিত্র ১ জিলহজ (১৯ মে) উপলক্ষে এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এই দিনটি প্রথম শিয়া ইমাম হযরত আলী (রা.) এবং মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর কন্যা হযরত ফাতিমা (রা.)-এর পবিত্র বিবাহ বার্ষিকী। ইরানে এই দিনটি জাতীয়ভাবে ‘বিবাহ দিবস’ হিসেবে উদযাপিত হয়।
বার্তা সংস্থা ওয়ানা এক প্রতিবেদেনে জানিয়েছে, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) বৃহত্তর তেহরানের মোহাম্মদ রাসুলুল্লাহ কোরের সাংস্কৃতিক উপ-প্রধান রহিম নাদ-আলী সাংবাদিকদের গণবিয়ের বিস্তারিত জানান। তিনি বলেন, সমাজে ইসলামিক জীবনযাত্রার প্রসার ঘটানো এবং তরুণদের জন্য সহজ ও সাশ্রয়ী মূল্যে বিয়ে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে এই মহৎ উদ্যোগ। যদিও ইরানে প্রতি বছর এই দিনে এমন অনুষ্ঠান হয়, তবে এবার তেহরানের একাধিক বড় বড় চত্বরে একসঙ্গে একই সময়ে বিয়ের আয়োজন করার জন্য একটি বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
রহিম নাদ-আলী বর্তমান সামাজিক অবস্থার সঙ্গে ১৯৮০-এর দশকের ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময়কার পরিস্থিতির তুলনা করেন। তিনি জানান, এই বিশেষ আয়োজনটি সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দেশজুড়ে ব্যাপক সাড়া জাগানো জনকল্যাণমূলক ‘জান-ফাদা’ প্রচারণার একটি অংশ। এর মাধ্যমে তারা বিশ্বকে দেখাতে চান, যেকোনো পরিস্থিতির মধ্যেও সমাজে স্বাভাবিক দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ও নতুন পরিবার গঠনের প্রক্রিয়া সুন্দরভাবে এগিয়ে চলছে।
গণবিবাহের অন্যতম আকর্ষণীয় দিক হলো এর ব্যতিক্রমী সাজসজ্জা। সাম্প্রতিক জাতীয় প্রতিরক্ষা প্রচারণাকে সামাজিক জীবনের সাথে সম্পৃক্ত করার উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠানে সামরিক যান ব্যবহার করা হচ্ছে। নবদম্পতিদের যাতায়াতের জন্য আকর্ষণীয় ফুলের মালা দিয়ে সাজানো হয়েছে সামরিক জিপ ও বিভিন্ন যুদ্ধযান।
মঙ্গলবার (১৯ মে) মূল অনুষ্ঠানটি বিকেল ৫টায় তেহরানের বিখ্যাত ইমাম হোসেন স্কয়ারে শুরু হবে, যেখানে প্রথম দফায় ১১০টি যুগল অংশ নেবেন। সেখানে উপস্থিত হাজারো জনসাধারণের সামনে একযোগে এই ১১০ জোড়া বর-কনের বিয়ের মূল শপথ বা আকদ পড়ানো হবে।
একই সময়ে তেহরানের এনকেলাব স্কয়ারেও যুগলদের আরেকটি বড় অংশের বিয়ের জন্য সব ধরনের প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রস্তুতি ও স্থান চূড়ান্ত করা হয়েছে।
সরকারি সূচি অনুযায়ী, ইমাম হোসেন স্কয়ারের মূল পর্ব শেষ হওয়ার পর রাত ৮টায় এই নবদম্পতিদের নিয়ে একটি বিশাল সুসজ্জিত গাড়ির বহর বা ‘ওয়েডিং ক্যারাভান’ আজাদি স্কয়ারের উদ্দেশ্যে রওনা হবে। ক্যারাভানের পুরো যাত্রাপথে এবং শহরের নির্ধারিত চত্বরগুলোতে সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আনন্দ উদযাপন ও জাঁকজমকপূর্ণ নৈশ সমাবেশের পরিকল্পনা রয়েছে।
রহিম নাদ-আলী তার বক্তব্যের শেষে বলেন, ১ জিলহজের এই দিনটি ইসলামিক সংস্কৃতিতে ভালোবাসা ও পারিবারিক বন্ধনের সবচেয়ে বড় আদর্শ। পুরো তেহরান জুড়ে একটি সুশৃঙ্খল সামরিক অপারেশনের মতো নিখুঁতভাবে এই উৎসব পরিচালনা করা হচ্ছে এবং আগামীতে ইরানের অন্যান্য প্রদেশেও এই গণবিয়ের মডেলটি চালু করা হবে।
ভিওডি বাংলা/এফএ







