ভারতের সঙ্গে নতজানু পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণযোগ্য নয়: নাসীরুদ্দীন

রাজশাহীতে আয়োজিত এক রাজনৈতিক সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি কোনোভাবেই “নতজানু” হতে পারে না। তার মতে, রাষ্ট্রীয় স্বার্থকে সর্বাগ্রে রেখে সম্পর্ক পরিচালনা করতে হবে এবং সীমান্তে নাগরিক হত্যার মতো ঘটনা অব্যাহত থাকলে প্রশ্ন তোলা জরুরি।
শনিবার (১৬ মে) রাজশাহী জেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক যোগদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে রাজশাহী মহানগর ও জেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং নাগরিক সমাজের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন। পরে প্রায় এক হাজারের বেশি মানুষ আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় নাগরিক পার্টি এতে যোগদান করেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি অবশ্যই জাতীয় স্বার্থকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হতে হবে। সীমান্তে নাগরিকদের মৃত্যু ও অনিরাপত্তার বিষয়গুলো উপেক্ষা করে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া যায় না বলে তিনি মন্তব্য করেন। তার ভাষায়, “যদি বলা হয় সবার আগে বাংলাদেশ, তাহলে সীমান্তে মানুষ কেন মারা যাচ্ছে-এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে।”
তিনি আরও দাবি করেন, বাংলাদেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামোর ভেতরে ভারতকেন্দ্রিক প্রভাব কাজ করছে, যা নিয়ে তিনি সতর্ক অবস্থান নিতে আহ্বান জানান। তবে এসব মন্তব্য রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে উপস্থাপন করেন তিনি, কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণ উল্লেখ করেননি।
রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী আম উৎপাদন প্রসঙ্গেও কথা বলেন এনসিপি নেতা। তিনি অভিযোগ করেন, কৃষকরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তার দাবি অনুযায়ী, মাঠ পর্যায়ে কৃষক যেখানে প্রতি কেজি আম প্রায় ২০ টাকায় বিক্রি করেন, ঢাকার বাজারে তা কয়েকগুণ বেশি দামে বিক্রি হয়।
তিনি এই ব্যবধানের জন্য মধ্যস্বত্বভোগী ও সিন্ডিকেট ব্যবস্থাকে দায়ী করেন। তার মতে, সঠিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা ও বাজার ব্যবস্থাপনা না থাকায় কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
তিনি বলেন, রাজশাহীর কৃষিকে আধুনিকায়ন করতে কোল্ড স্টোরেজ, উন্নত সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ব্যবস্থার প্রয়োজন রয়েছে। এতে কৃষকরা সরাসরি ন্যায্য বাজারমূল্য পাবেন।
রাজশাহী অঞ্চলের নদীগুলোর পানির সংকট নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। নদীতে পর্যাপ্ত পানি না থাকাকে কৃষি ও জীববৈচিত্র্যের জন্য বড় হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেন।
ফারাক্কা প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ঐতিহাসিকভাবে পানি বণ্টনের ন্যায্য দাবির আন্দোলন ছিল গুরুত্বপূর্ণ এবং ভবিষ্যতেও এই বিষয়ে আপস করা উচিত নয়। তিনি সতর্ক করে বলেন, নদীর পানির সমস্যা সমাধান না করে খাল খনন বা অন্যান্য প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যকর হবে না।
তিনি ইঙ্গিত দেন, প্রয়োজনে পানি অধিকার আদায়ে আবারও বড় ধরনের আন্দোলন বা “লং মার্চ” আয়োজন করা হতে পারে।
রাজশাহীতে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকলেও শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ থেকে বের হওয়া তরুণদের স্থানীয়ভাবে কাজের সুযোগ না থাকায় হতাশা তৈরি হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তার মতে, শুধু শিক্ষা নয়, শিক্ষার সঙ্গে শিল্প, প্রযুক্তি ও চাকরির বাজারের সংযোগ তৈরি করতে হবে।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি সরকারি বিভিন্ন সুবিধা কার্ড ব্যবস্থার সমালোচনা করেন। তার ভাষায়, এসব কার্ড বাস্তব অর্থনৈতিক পরিবর্তন আনতে পারছে না। তিনি ভবিষ্যতে আরও কঠোর রাজনৈতিক অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, প্রয়োজন হলে প্রতীকী প্রতিবাদের অংশ হিসেবে “লাল কার্ড” কর্মসূচি দেওয়া হতে পারে।
তিনি আরও দাবি করেন, তাদের রাজনৈতিক দল লুটপাট বা চাঁদাবাজির রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠাই তাদের মূল লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন-এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব এস এম সাইফ মোস্তাফিজ, যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী সালাউদ্দিন তানভীর, জাতীয় নারী শক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিন, রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান ইমন এবং মহানগর আহ্বায়ক মোবাশ্বের আলীসহ স্থানীয় নেতারা।
ভিওডি বাংলা/জা







