• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

ইরানের ইউরেনিয়াম দখলে নতুন সামরিক পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক    ১৬ মে ২০২৬, ০৪:৩১ পি.এম.
ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধবিরতি কার্যকরের এক মাস পার না হতেই ইরানকে ঘিরে ফের বড় ধরনের সামরিক উত্তেজনার ইঙ্গিত মিলেছে। এবার দেশটিতে সম্ভাব্য যৌথ অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র।

মধ্যপ্রাচ্যের দুই কর্মকর্তার বরাতে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহের শুরুতেই এই অভিযান শুরু হতে পারে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য অভিযানের অংশ হিসেবে ইরানের ভূগর্ভে বা ধ্বংসস্তূপের নিচে থাকা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামসহ পারমাণবিক উপাদান উদ্ধারের জন্য বিশেষ কমান্ডো বাহিনী মোতায়েনের বিকল্পও বিবেচনায় রয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত মাসে ঘোষিত যুদ্ধবিরতির পর এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় সামরিক প্রস্তুতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সূত্রের বরাত অনুযায়ী, ধ্বংসাবশেষের নিচে চাপা পড়া ইউরেনিয়াম উদ্ধারের জন্য কমান্ডো অভিযানের পরিকল্পনাও আলোচনায় রয়েছে।

তবে সামরিক সূত্রগুলো সতর্ক করে বলেছে, এমন অভিযান অত্যন্ত জটিল ও উচ্চঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এতে পুরো এলাকা ঘিরে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করতে হাজার হাজার সেনা মোতায়েনের প্রয়োজন হতে পারে এবং ইরানি বাহিনীর সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষের ঝুঁকিও থাকবে।

আরেকটি বিকল্প পরিকল্পনায় পারস্য উপসাগরের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ তেল রফতানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপ দখলের বিষয়টিও বিবেচনায় আছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। পাশাপাশি ইরানের সামরিক স্থাপনা ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে আরও বিস্তৃত বিমান হামলার সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে।

যৌথ অভিযানের লক্ষ্য নিয়ে ইসরায়েলি সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব আগে জানিয়েছিল, ওয়াশিংটনের সহায়তায় তাদের উদ্দেশ্য ছিল ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা, পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির হুমকি প্রতিহত করা এবং দেশটির অভ্যন্তরে সরকারবিরোধী পরিস্থিতি তৈরি করা। তবে ৪০ দিনের তীব্র সংঘাত শেষে গত মাসের শুরুতে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার আগ পর্যন্ত এসব লক্ষ্য পুরোপুরি অর্জন করা সম্ভব হয়নি।

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে বড় ধরনের হামলা চালায়। এর জবাবে তেহরানও ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের ওপর পাল্টা আঘাত হানে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়। প্রায় পাঁচ সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।

তবে ইসলামাবাদে স্থায়ী চুক্তির উদ্দেশ্যে হওয়া আলোচনায় কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্দিষ্ট সময়সীমা ছাড়াই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ান। ফলে বর্তমানে উভয় পক্ষের মধ্যে একটি ভঙ্গুর সাময়িক শান্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং পর্দার আড়ালে সংঘাত শেষ করার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

ভিওডি বাংলা/এমএস 

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
গোপনে আরব আমিরাতে গিয়েছিলেন আইডিএফ প্রধান
গোপনে আরব আমিরাতে গিয়েছিলেন আইডিএফ প্রধান
ভারতের ভোজশালা প্রাঙ্গণ মসজিদ নয় মন্দিরের জায়গা, হাইকোর্টের রায়
ভারতের ভোজশালা প্রাঙ্গণ মসজিদ নয় মন্দিরের জায়গা, হাইকোর্টের রায়
চীন সফর শেষে তাইওয়ানকে ট্রাম্পের কড়া বার্তা
চীন সফর শেষে তাইওয়ানকে ট্রাম্পের কড়া বার্তা