কুড়িগ্রামে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জেলা প্রশাসনের বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান

ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে কুড়িগ্রামে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা প্রশাসন। স্বাস্থ্যকর নগর পরিবেশ গড়ে তোলা এবং শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে নিয়মিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার সকালে এ অভিযান অনুষ্ঠিত হয়।
কুড়িগ্রাম শহরের কিশলয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণকে কেন্দ্র করে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়। এতে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ। তিনি বলেন, ডেঙ্গু ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো জনসচেতনতা ও নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা। বাসাবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা গেলে মশার বংশবিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে কুড়িগ্রামে বড় ধরনের ডেঙ্গু পরিস্থিতি দেখা না গেলেও বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে আগাম সতর্কতা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করলে এই রোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, শুধুমাত্র প্রশাসনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়, বরং সামাজিক সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল এবং সাধারণ জনগণকে একযোগে কাজ করতে হবে। সমন্বিত উদ্যোগই একটি পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর নগর গড়ে তুলতে পারে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কুদরত-এ-খুদা এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেন। তারা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো পানি জমে থাকা স্থান পরিষ্কার রাখা এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজার রহমান খন্দকার, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু, অধ্যাপক হাসিবুর রহমান হাসিব, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শেখ মাহবুবে সোবহানী, সাংবাদিক সাইয়েদ আহমেদ বাবু, জেলা মহিলা দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি অধ্যাপক নাজমুন নাহার বিউটি, এবং ছাত্রনেতা আমিমুল ইহসানসহ বিভিন্ন পেশাজীবী প্রতিনিধি।
অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারীরা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেন। এ সময় ঝোপঝাড় পরিষ্কার, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংস করা হয়। পাশাপাশি স্থানীয়দের মাঝে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক পরামর্শ প্রদান করা হয়।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর ঝুঁকি কয়েকগুণ বেড়ে যায়। তাই নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। তারা বলছেন, ব্যক্তিগত ও সামাজিক উদ্যোগ একসঙ্গে কাজ করলে ডেঙ্গুর বিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্থানীয়রা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন এবং নিয়মিত এমন কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
ভিওডি বাংলা/মো. এরশাদুল হক/জা







