সাড়ে ৩ কোটির হাটে দ্বিগুণ ইজারা আদায়

কুড়িগ্রামের রৌমারী সদর হাট-বাজারে সরকারি নিয়ম ও নির্দেশনা উপেক্ষা করে অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ উঠেছে ইজারাদারের বিরুদ্ধে। অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের কারণে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে স্থানীয় ব্যবসায়ী, দূর-দূরান্ত থেকে আসা ব্যাপারি এবং সাধারণ ক্রেতা-বিক্রেতাদের মাঝে। অনেক ব্যাপারি আগামীতে আর এই হাটে আসবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।
জানা গেছে, গত বছর রৌমারী সদর হাট-বাজারটির ইজারা মূল্য ছিল মাত্র সাড়ে ৩ কোটি টাকা, যা ছিল সাধারণ মানুষের সহনীয় মাত্রায়। কিন্তু এবার রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে স্থানীয় বিএনপি’র আহ্বায়ক ও সদর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক তার ছেলে শাকিল আহমেদের নামে প্রায় ৬ কোটি টাকায় হাটটি ইজারা নেন। এই বিশাল অঙ্কের টাকা তুলতে হাটের প্রতিটি গলি চড়া মূল্যে সাব-ইজারা দেন। ফলে দ্বিগুণ হারে খাজনা আদায় করছেন ওই সব সাব-ইজারাদার।
আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে হাটে অতিরিক্ত টোল আদায়ের এই মহোৎসব শুরু হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন থেকে পূর্বের টোলের চেয়ে মাত্র ১০০ টাকা বাড়ানোর মৌখিক প্রস্তাব করা হলেও, ইজারাদারের পক্ষ এক লাফে ৩০০ টাকা বাড়ানো হয়। পূর্বে প্রতি গরুর টোল ছিল ৫০০ টাকা (ইউএনও’র প্রস্তাব ছিল ৬০০ টাকা)। কিন্তু বর্তমানে জোরপূর্বক আদায় করা হচ্ছে ৮০০ টাকা। পূর্বে প্রতি ছাগলের টোল ছিল ২৫০ টাকা, যা বর্তমানে বাড়িয়ে করা হয়েছে ৩০০ টাকা। সবচেয়ে বড় অনিয়ম হচ্ছে, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী শুধুমাত্র ক্রেতার কাছ থেকে টোল নেওয়ার কথা থাকলেও, এই হাটে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয় পক্ষের কাছ থেকে অবৈধভাবে টোল আদায় করা হচ্ছে।
সাব-ইজারা নিয়েছেন রতন দাস। তিনি বলেন, গতবছর মাছবাজরটি ইজারা ছিল সাড়ে ৪ লাখ টাকা। এবার তা বেড়ে হয়েছে ১৮ লাখ ৪০ হাজার। পানহাটি ইজারা নিয়েছে পান বাজার সমিতি। সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান বলেন, পানহাটি ছিল ২ লাখ ৩০ হাজার। এবার তা হয়েছে ৩ লাখ ৬০ হাজার। সবজিহাটি নিয়েছেন আজিজুর রহমান গ্যাল্লা। গত বছর নিয়েছিলেন সাড়ে ৭ লাখে কিন্তু এবার নিয়েছেন সাড়ে ১০ লাখ। তারা বলেন, তাই গতবারের তুলনায় এবার খাজনা কিছুটা বেশি নিতে হচ্ছে।
হাটে আসা ঘুঘুমারী এলাকার শহিদুল ব্যাপারী, পূর্ব ইছাকুড়ির জলু শেখ এবং নাউবাড়ির আব্দুল মতিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সিন্ডিকেট করে অতিমূল্যে হাট ইজারা নিয়ে এখন সাধারণ মানুষের পকেট কাটা হচ্ছে। হাটে কোনো নিয়মনীতি নেই। খাজনার চার্ট বা মূল্য তালিকাও ঝুলানো হয়নি। এভাবে একদিকে প্রকাশ্য জুলুম চলানো হচ্ছে। অন্যদিকে প্রশাসন জারাদারকেই অলিখিত অনুমোদন দিচ্ছে।
বাজারে আসা কয়েকজন ক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হাটের এই অতিরিক্ত টোল ও সাব-ইজারার চড়া মূল্যের প্রভাব সরাসরি গিয়ে পড়ছে সাধারণ ভোক্তার ওপর। ফলে রৌমারী বাজারে মাছ, মাংস ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজির দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।
এ ব্যাপারে ইজারাদারের দায়িত্বে থাকা রৌমারী উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক ও সদর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক বলেন, গতবছরের মত এবারও টোল নিলে হাটে লোকসান গুনতে হবে। তাই কিছুটা টোল বাড়ানো হয়েছে।
ইউএনও মো. আলাউদ্দিন বলেন, গত বছর গরুতে ৬শ’ টাকা ছিল এবার ১’ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করেছি। এ সিদ্ধান্ত আমার একার নয়। তারপরও এটা শুধুমাত্র ঈদের জন্য করা হয়েছে।
ভিওডি বাংলা/এলাহী শাহরিয়ার নাজিম/জা







