ঈদযাত্রায় ট্রেনের টিকিট এক ঘণ্টার মধ্যেই শেষ

পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে রেলওয়ের আন্তনগর ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে।
বুধবার (১৩ মে) নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সকাল ৮টায় পশ্চিমাঞ্চলের (রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগ) ট্রেনগুলোর টিকিট বিক্রি চালু হয়। শুরু থেকেই অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রচুর চাপ তৈরি হয়, ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই অধিকাংশ আসন বুক হয়ে যায়।
রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিক্রি শুরুর প্রথম ১৫ মিনিটের মধ্যেই পশ্চিমাঞ্চলের জন্য বরাদ্দকৃত প্রায় সাড়ে ১২ হাজার টিকিট বিক্রি হয়ে যায়। মাত্র এক ঘণ্টার মাথায় প্রায় পুরো ১৫ হাজার ২৬৬টি আসনই শেষ হয়ে যায় বলে জানায় সংশ্লিষ্ট সূত্র।
এদিকে একই দিন বেলা ২টায় পূর্বাঞ্চলের (ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগ) ট্রেনের টিকিট বিক্রি শুরু হয়। এই অঞ্চলের জন্য মোট ১৫ হাজার ৯৭৪টি আসন বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
রেলওয়ে কর্মকর্তারা বলছেন, অনলাইন সিস্টেমে একসঙ্গে লাখো ব্যবহারকারীর প্রবেশের কারণে সার্ভারে ব্যাপক চাপ তৈরি হয়। বিশেষ করে সকালে পশ্চিমাঞ্চলের টিকিট বিক্রির সময় প্রথম আধা ঘণ্টায় প্রায় ৬০ লাখের বেশি হিট রেকর্ড করা হয়েছে, যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি।
রেলওয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ২৩ মে ঢাকা থেকে মোট ৪৩টি আন্তনগর ট্রেন ছেড়ে যাবে। এর মধ্যে পশ্চিমাঞ্চলগামী ট্রেনের সংখ্যা ২০টি। এসব ট্রেনে মোট আসন সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫ হাজার ২৬৬টি।
অন্যদিকে পূর্বাঞ্চলে চলাচল করবে ২৩টি ট্রেন। এসব ট্রেনের জন্য বরাদ্দ রয়েছে ১৫ হাজার ৯৭৪টি আসন। যাত্রী চাহিদা বিবেচনায় দুই অঞ্চলের টিকিট বিক্রিই অনলাইনে শতভাগ সম্পন্ন করা হচ্ছে।
রেলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিশেষ করে উত্তরবঙ্গগামী ট্রেনের প্রতি যাত্রীদের আগ্রহ বেশি থাকে। ঈদের সময় এই চাহিদা আরও কয়েকগুণ বেড়ে যায়, যার ফলে টিকিট মুহূর্তেই শেষ হয়ে যায়।
রেলওয়ের অনলাইন প্ল্যাটফর্মে একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক ব্যবহারকারীর প্রবেশের কারণে অনেকেই সফলভাবে টিকিট কাটতে পারেন না। একাধিক ব্যবহারকারী একই সময়ে চেষ্টা করায় সিস্টেমে প্রতিযোগিতা তৈরি হয়।
কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে একজন যাত্রী টিকিট পেয়ে যান, অন্যজন ব্যর্থ হন। বিশেষ করে এসি কোচের টিকিটের চাহিদা তুলনামূলকভাবে বেশি হওয়ায় সেগুলো দ্রুত শেষ হয়ে যায়।
সূচি অনুসারে, ১৩ মে বিক্রি হচ্ছে ২৩ মে যাত্রার টিকিট। একইভাবে ১৪, ১৫ ১৬ ও ১৭ মে যথাক্রমে ২৪, ২৫, ২৬ ও ২৭ মের টিকিট পাওয়া যাবে।
একইভাবে ঈদ শেষে ফিরতি যাত্রার টিকিট বিক্রি শুরু হবে ২১ মে থেকে।
রেলওয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, একজন যাত্রী দিনে সর্বোচ্চ চারটি টিকিট কিনতে পারবেন। তবে একবার কেনা টিকিট ফেরত দেওয়া যাবে না।
যাত্রীদের চাপ সামলাতে ট্রেনের মোট আসনের ২৫ শতাংশ স্ট্যান্ডিং টিকিট হিসেবে রাখা হয়েছে। তবে এই টিকিটধারীরা নির্ধারিত উচ্চ শ্রেণির কোচে যাতায়াত করতে পারবেন না।
ঈদ উপলক্ষে যাত্রীসেবা বাড়াতে রেলওয়ে এবার ১০টি বিশেষ ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন রুটে জনপ্রিয় কয়েকটি স্পেশাল সার্ভিস।
ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ রুটে চলবে ‘তিস্তা স্পেশাল’, আর চট্টগ্রাম-চাঁদপুর রুটে চলবে ‘চাঁদপুর স্পেশাল’। এই দুটি ট্রেন ঈদের আগে ও পরে নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ী চলাচল করবে।
এছাড়া জয়দেবপুর–পার্বতীপুর রুটে ‘পার্বতীপুর স্পেশাল’ চলবে ঈদের আগের কয়েক দিন এবং ঈদের পরবর্তী সময়ে। অন্যদিকে ঈদের দিন বিশেষভাবে শোলাকিয়া ঈদগাহে যাত্রী পরিবহনের জন্য ভৈরব ও ময়মনসিংহ থেকে কয়েকটি স্পেশাল ট্রেন চালানো হবে।
ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে এবারও কোরবানির পশু পরিবহনের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। রেলওয়ে দুটি ‘ক্যাটল স্পেশাল’ ট্রেন চালাবে, যা ২২ ও ২৩ মে চলাচল করবে।
এই ট্রেনগুলো দেওয়ানগঞ্জ বাজার ও ইসলামপুর বাজার থেকে ছেড়ে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট, কমলাপুর ও তেজগাঁও স্টেশনে পৌঁছাবে। এর মাধ্যমে রাজধানীতে পশু পরিবহন সহজ ও নিরাপদ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
ভিওডি বাংলা/জা







