• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

রাষ্ট্রপতির শাসন জারি হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক    ৭ মে ২০২৬, ১১:১৪ এ.এম.
রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। ছবি : সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সদ্য শেষ হওয়া বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যের ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া নিয়ে নানা ধরনের ব্যাখ্যা ও জল্পনা সামনে আসছে। বিশেষ করে বিদায়ী সরকার, শপথ গ্রহণ এবং সম্ভাব্য সাংবিধানিক পরিস্থিতি নিয়ে আইনজীবী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে মতভেদ দেখা দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাত ১২টায় সাংবিধানিকভাবে শেষ হয়ে যাচ্ছে তার সরকারের মেয়াদ। তারপর কী হবে- তা নিয়ে ইতোমধ্যে প্রশ্ন উঠছে জনমনে। কারণ, বিজেপি নেতৃত্ব ঠিক করেছেন, আগামী ৯ মে, শনিবার রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তীর দিন তাদের মন্ত্রীরা শপথ নেবেন। 

নির্বাচনের ফলাফলে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। তবে দলীয় নেতৃত্ব প্রকাশ্যে পরাজয় মেনে নিতে নারাজ বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। এই অবস্থায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ প্রক্রিয়া নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

রাজনৈতিক সূত্রের দাবি অনুযায়ী, বর্তমান সরকারের সাংবিধানিক মেয়াদ নির্ধারিত সময়েই শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর নতুন সরকার গঠন ও শপথ গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা নিয়ে এখনো স্পষ্ট চিত্র পাওয়া যাচ্ছে না। এর মধ্যেই বিরোধী রাজনৈতিক শিবির জানায়, তারা আগামী ৯ মে নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে।

এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে-মেয়াদ শেষ হওয়ার পর রাজ্যে প্রশাসনিক শূন্যতা তৈরি হবে কি না। কিছু প্রবীণ আইন বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, যদি বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী পদত্যাগ না করেন এবং নতুন সরকার শপথ না নেয়, তাহলে সংবিধান অনুযায়ী অল্প সময়ের জন্য রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

তবে এই মতের সঙ্গে সবাই একমত নন। অনেক সাংবিধানিক বিশেষজ্ঞের মতে, ভারতে সাধারণত ক্ষমতা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে একটি ধারাবাহিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা থাকে। বিদায়ী সরকারকে সাধারণত নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়া পর্যন্ত কেয়ারটেকার হিসেবে কাজ চালিয়ে যেতে বলা হয়, যাতে প্রশাসনিক স্থবিরতা তৈরি না হয়।

সংবিধান অনুযায়ী, রাজ্যপাল নতুন সরকার গঠনের জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রাপ্ত দলের নেতাকে আমন্ত্রণ জানান এবং সরকার গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এই সময়ের মধ্যে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী সাধারণত দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা করেন, তবে বড় ধরনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা সীমিত থাকে।

এই প্রেক্ষাপটে পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি নিয়ে তামিলনাড়ুর উদাহরণও টেনে আনা হচ্ছে। সেখানে সরকার পরিবর্তনের সময় বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী পদত্যাগ করেছিলেন এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়া তুলনামূলকভাবে স্বাভাবিক ছিল। তবে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে ভিন্ন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে দাবি করছেন কিছু পর্যবেক্ষক।

রাজ্য প্রশাসনের একটি সূত্র জানায়, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক ইতোমধ্যে নির্বাচিত বিধায়কদের তালিকা রাজ্যপালের কাছে পাঠিয়েছেন। এর ভিত্তিতে পরবর্তী সরকার গঠনের প্রক্রিয়া এগোবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে এখনো পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে সরকার গঠন কিংবা শপথ গ্রহণের নির্দিষ্ট সময় ঘোষণা হয়নি।

আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন সরকার শপথ না নেয় এবং বিদায়ী সরকারও দায়িত্ব হস্তান্তর না করে, তাহলে সাংবিধানিক জটিলতা তৈরি হতে পারে। সেই ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকার পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে পদক্ষেপ নিতে পারে বলেও আলোচনা চলছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থান নিয়েও চলছে নানা আলোচনা। তিনি নাকি এখনও পরাজয় স্বীকার করছেন না এবং পদত্যাগের প্রশ্নও নাকচ করে দিয়েছেন বলে রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে। ফলে ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ভিওডি বাংলা/জা
 

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ইরান যুদ্ধের প্রভাব পড়তে পারে ভোটে, উদ্বিগ্ন রিপাবলিকানরা
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ইরান যুদ্ধের প্রভাব পড়তে পারে ভোটে, উদ্বিগ্ন রিপাবলিকানরা
হুমকি শেষ হলেই খুলবে হরমুজ : আইআরজিসি
হুমকি শেষ হলেই খুলবে হরমুজ : আইআরজিসি
আমি পদত্যাগ করব না, রাষ্ট্রপতি শাসন হলে হোক : মমতা
আমি পদত্যাগ করব না, রাষ্ট্রপতি শাসন হলে হোক : মমতা