বেতুয়ানে গুমানি নদীর ওপর সেতু, স্বপ্নপূরণের পথে হাজারো মানুষের আশা

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার দিলপাশার ইউনিয়নের বৃহত্তম গ্রাম বেতুয়ান। দীর্ঘদিন ধরে এই গ্রামের মানুষের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল গুমানি নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণ। অবশেষে সেই বহু প্রতীক্ষিত স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে বলে জানা গেছে।
বেতুয়ান গ্রামের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত গুমানি নদীর ওপর কোনো সেতু না থাকায় স্থানীয়দের প্রতিদিন চরম ভোগান্তির শিকার হতে হতো। নদী পারাপারের একমাত্র ভরসা ছিল খেয়া নৌকা। প্রতিদিন জীবিকা, শিক্ষা ও কৃষিকাজের প্রয়োজনে কয়েক হাজার মানুষ এই নৌকার ওপর নির্ভর করে চলাচল করতেন।
বিশেষ করে কৃষকদের দুর্ভোগ ছিল সীমাহীন। নদীর ওপারে থাকা ফসলি জমি থেকে উৎপাদিত ফসল আনতে গিয়ে তাদের পড়তে হতো নানা সমস্যায়। অনেক সময় গরুর গাড়ি নিয়ে দীর্ঘ পথ ঘুরে নৌবাড়িয়া ব্রিজ ব্যবহার করতে হতো, যা সময় ও শ্রম-উভয়ই বাড়িয়ে দিত।
এমন পরিস্থিতিতে বেতুয়ানসহ আশপাশের গ্রামের মানুষের কষ্ট দীর্ঘদিন ধরে চলছিল। তবে সম্প্রতি গুমানি নদীর ওপর সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় নতুন করে আশার আলো দেখছেন এলাকাবাসী। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সিরিয়াল নম্বর ১৯৩ এবং রোড নম্বর ৫১১১ অনুযায়ী সেতু নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় সার্ভে রিপোর্ট ও নকশা ইতোমধ্যে সরকারের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।
অনুমোদন পেলেই টেন্ডার আহ্বান করা হবে এবং পরবর্তী সময়ে নির্মাণকাজ শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। স্থানীয়দের ধারণা, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হতে পারে।
সেতুটি নির্মিত হলে বেতুয়ান ছাড়াও পাঁচবেতুয়ান, বাউনজানপাড়া, এরশাদনগর, বাসুরিয়া, জন্তিহার, কালিয়াকৈড়, সুজা, চাঁচকিয়া, কাজিটোল, পুইবিল, চক-লক্ষ্মীকোল, তারাপুর, আদাবাড়িয়া, ঘলাইরা, মাগুড়া, দিলপাশার, চৌবাড়িয়া, বহর ও হাট-উধুনিয়াসহ আশপাশের বহু গ্রামের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যাপক উন্নয়ন ঘটবে। পাশাপাশি সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার মোহনপুর ও দহকুলা এবং পাবনার ফরিদপুর উপজেলার সোনাহারা হয়ে বাঘাবাড়ি পর্যন্ত যোগাযোগ সহজ হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. মাসুদ আকন্দ বলেন, “গুমানি নদীর ওপর সেতু নির্মাণের খবর শুনে এলাকাবাসী অত্যন্ত আনন্দিত। সেতুটি নির্মিত হলে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে এবং কৃষিপণ্য পরিবহন অনেক সুবিধাজনক হবে।”
অন্যদিকে বেতুয়ান গ্রামের বাসিন্দা মিলন খান বলেন, “এটি আমাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। সেতুটি হলে এলাকার মানুষের দুঃখ-কষ্ট অনেকটাই লাঘব হবে।”
মাগুড়া গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা আয়নাল সরদার বলেন, “জীবনের শেষ সময়ে এসে এমন সুখবর পাব, তা কখনো ভাবিনি। আগে অনেক কষ্ট করে হেঁটে বাজারে যেতে হতো। সেতুটি হলে খুব সহজে যাতায়াত করা যাবে।”
স্থানীয়দের মতে, এই সেতু নির্মিত হলে শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নই নয়, কৃষি ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। এতে করে এলাকার সামগ্রিক জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভিওডি বাংলা/প্রভাষক গিয়াস উদ্দিন সরদার/জা







