ঢাকা বারে বিএনপি-জামায়াতের ভোটের লড়াই শুরু

ঢাকা আইনজীবী সমিতির (ঢাকা বার) দুই দিনব্যাপী নির্বাচনের প্রথম দিনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও। দ্বিতীয় দিনেও একই সময়সূচিতে ভোট অনুষ্ঠিত হবে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকাল ৯টা থেকে পুরান ঢাকার সমিতি ভবনে ভোট গ্রহণ কার্যক্রম শুরু হয়, যা দুপুরের বিরতি শেষে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে।
নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার মো. বোরহান উদ্দিন জানিয়েছেন, পুরো প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ১০ জন কমিশনার এবং প্রায় ১০০ জন সহকারী দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের তত্ত্বাবধানে ভোটগ্রহণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিচালিত হচ্ছে।
এবারের ঢাকা বার নির্বাচনে রাজনৈতিক সমীকরণে এসেছে বড় ধরনের পরিবর্তন। দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে নির্বাচন করা বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত আইনজীবীরা এবার আলাদা প্যানেল নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন। এছাড়া আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাদা প্যানেল এবারের নির্বাচনে অংশ নেয়নি, যা নির্বাচনী মাঠে একটি শূন্যতা তৈরি করেছে।
দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী প্যানেলের মধ্যে বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদ সমর্থিত আইনজীবীরা গঠন করেছেন “বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল” বা নীল প্যানেল। অন্যদিকে জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সমর্থিত আইনজীবীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন “আইনজীবী ঐক্য পরিষদ” বা সবুজ প্যানেল থেকে।
নির্বাচনে মোট ২৩টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৫৫ জন প্রার্থী। এর মধ্যে বড় দুটি প্যানেল থেকে ৪৬ জন প্রার্থী এবং বাকি ৯ জন স্বতন্ত্রভাবে অংশ নিয়েছেন। ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন মোট ২১ হাজার ৭৩১ জন আইনজীবী, যারা নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করবেন।
নীল প্যানেল থেকে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মো. আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মোহাম্মদ আবুল কালাম খান। অন্যদিকে সবুজ প্যানেল থেকে সভাপতি পদে এস এম কামাল উদ্দীন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মো. আবু বক্কর সিদ্দিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এটিই প্রথম ঢাকা বার নির্বাচন, যা আইনজীবী মহলে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক জোট ভাঙনের ফলে এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও সরাসরি ও প্রতিযোগিতামূলক হয়েছে।
ভিওডি বাংলা/জা







