স্বস্তির বৃষ্টিতে শ্রমজীবী মানুষের দুর্ভোগ

প্রবল বর্ষণে রাজধানীজুড়ে যেমন গরম থেকে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে, তেমনি দুর্ভোগে পড়েছেন কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও শ্রমজীবীরা। টানা বৃষ্টিতে সড়কে যান চলাচল ধীর হয়ে পড়েছে, বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা ও তীব্র যানজট। ফলে অফিসগামী মানুষের সকাল শুরু হয়েছে ভোগান্তির মধ্য দিয়ে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ছয়টা থেকে রাজধানীতে বৃষ্টি শুরু হয়। ধীরে ধীরে তা বাড়তে থাকলে নগরজীবনে এর প্রভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
কর্মজীবীদের অনেকেই বাসা থেকে বের হয়ে হঠাৎ বৃষ্টির কবলে পড়ে আশ্রয়ের খোঁজে আশপাশের দোকানপাট কিংবা ভবনের নিচে ছুটে যান। যাদের সঙ্গে ছাতা ছিল, তারাও পুরোপুরি বৃষ্টির হাত থেকে রক্ষা পাননি। বিশেষ করে প্যান্ট, জুতা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ভিজে যাওয়ায় দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।
রাজধানীর আজিমপুর এলাকায় দেখা যায়, বাসে ওঠার সময় অনেক যাত্রী ভিজে যাচ্ছেন। অফিসগামীদের পাশাপাশি স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদেরও বৃষ্টির মধ্যেই পথ চলতে হয়েছে। অনেক অভিভাবককে সন্তানদের নিয়ে বিপাকে পড়তে দেখা গেছে।

একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা শিহাব উদ্দিন বলেন, সকালে হঠাৎ করেই আকাশ কালো হয়ে আসে। পরিস্থিতি এমন ছিল, যেন সন্ধ্যা নেমে এসেছে। এতে রাস্তায় বেরিয়ে অনেকে বিপাকে পড়েন।
ভিওডি বাংলার স্টাফ রিপোর্টার তাহমিনা বলেন, প্রচন্ড বৃষ্টি হচ্ছে। অনেক ক্ষন ধরে রাস্তায় কোন রিকসা নেই। ফলে সময় মতো এসাইনমেন্টে যেতে পারছি না।
বৃষ্টির জন্য সড়কে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হয় ভিওডি বাংলার দুই গনমাধ্যম কর্মী মুন ও তানজিলার। তারা বলেন, বৃষ্টির কারণে রিকসা পেতে একটু দূর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। যার জন্য অফিসে আসতেও একটু দেরি হয়েছে।
কারওয়ান বাজারগামী মনির হোসেন জানান, অফিসে যাওয়ার জন্য দীর্ঘ সময় রিকশার অপেক্ষায় থাকতে হয়েছে। পরে বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে রিকশায় যেতে হয়েছে।
আরেক কর্মজীবী শরীফ বলেন, ছাতা সঙ্গে থাকলেও বৃষ্টির তীব্রতায় ভেজা এড়ানো সম্ভব হয়নি। তবে এই বৃষ্টিতে কয়েক দিনের তীব্র গরম থেকে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে বলেও জানান তিনি।
টানা বৃষ্টির কারণে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়কে পানি জমে যানবাহনের গতি ধীর হয়ে পড়ে। এতে যানজট আরও তীব্র হয় এবং অফিসগামীদের দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
অনেকেই নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই বাসা থেকে বের হলেও যানজট ও ধীরগতির কারণে সময়মতো কর্মস্থলে পৌঁছানো নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন।
বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে যাত্রীদের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। একই সঙ্গে রিকশার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় অনেক এলাকায় ভাড়াও বেড়ে যায়।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
বুধবার ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত দেওয়া দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দেশের ১৭টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, আগামী কয়েক দিন দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এতে তাপমাত্রা কিছুটা কমে স্বস্তি ফিরলেও নগরজীবনে জলাবদ্ধতা ও যানজটের কারণে দুর্ভোগ বাড়তে পারে। বিশেষ করে রাজধানীর নাজুক ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় নগরবাসীকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
সব মিলিয়ে এই বৃষ্টি একদিকে স্বস্তির বার্তা নিয়ে এলেও কর্মব্যস্ত রাজধানীর মানুষের জন্য হয়ে উঠেছে দুর্ভোগ।
ভিওডি বাংলা/আরকেএইচ/জা







