দেশের ইতিহাসে প্রথমবার
বিদেশে পাচার হওয়া ৪৪ কোটি টাকার ক্রিপ্টোকারেন্সি উদ্ধার

দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিদেশে পাচার হওয়া বিপুল পরিমাণ ক্রিপ্টোকারেন্সি উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
প্রতারণামূলক অনলাইন বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্ম মেটাভার্স ফরেন এক্সচেঞ্জ (এমটিএফই) মাধ্যমে পাচার হওয়া প্রায় ৪৪ কোটির বেশি টাকা সমমূল্যের ডিজিটাল মুদ্রা দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন খান।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি দেশের জন্য এক নজিরবিহীন সাফল্য। দেশীয় পর্যায়ে প্রশংসা পাওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহলেও বিষয়টি ইতিবাচকভাবে আলোচিত হয়েছে।
ঢাকায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ অর্জনের খবর প্রকাশ করে এটিকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান অংশীদারত্বের ইতিবাচক ফল হিসেবে উল্লেখ করেছে।
একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিসও তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে বিষয়টি তুলে ধরে জানিয়েছে, সিআইডির সঙ্গে দীর্ঘদিনের যৌথ প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতার ফল হিসেবেই এই সাফল্য এসেছে।
অর্থ উদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতার স্বীকৃতি হিসেবে সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি), সিআইডির পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের কাছে সিআইডি প্রধানের পক্ষ থেকে একটি ‘অ্যাপ্রিসিয়েশন লেটার’ হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সিপিসির ডিআইজি মো. আবুল বাশার তালুকদার বলেন, “আমাদের কর্মকর্তাদের নিরলস প্রচেষ্টা এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহযোগিতার ফলে এই প্রথম বিদেশে পাচার হওয়া ক্রিপ্টোকারেন্সি উদ্ধার সম্ভব হয়েছে। এটি সাইবার অপরাধ দমনে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান দক্ষতা ও সক্ষমতার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ সাফল্যের খবর প্রকাশের পর দেশ-বিদেশে যে ইতিবাচক সাড়া ও প্রশংসা পাওয়া যাচ্ছে, তা আমাদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতে আরও দৃঢ়ভাবে দায়িত্ব পালনে উৎসাহ জোগাচ্ছে।”
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এমটিএফই ছিল একটি ভুয়া ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ফরেক্স ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম। সেখানে ব্যবহারকারীদের কৃত্রিম লাভের তথ্য দেখিয়ে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করা হতো। ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ প্ল্যাটফর্মটি বন্ধ হয়ে গেলে বিনিয়োগকারীদের অর্থ বিভিন্ন ক্রিপ্টো ওয়ালেটে পাচার করা হয়।
সিআইডির অনুসন্ধানে পরে প্রায় ৩ দশমিক ৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সমমূল্যের ইউএসডিটি আন্তর্জাতিক একটি ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জে শনাক্ত করা হয়। উন্নত ব্লকচেইন বিশ্লেষণ প্রযুক্তি এবং আন্তর্জাতিক সহায়তার মাধ্যমে ওই অর্থ জব্দ করা সম্ভব হয়।
পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশনায় এবং যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি সম্পদ পুনরুদ্ধার প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় জব্দ করা অর্থ বৈধ মুদ্রায় রূপান্তর করে সোনালী ব্যাংকের সরকারি হিসাবে জমা দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এই সাফল্য আবারও বাংলাদেশ পুলিশ সিআইডির পেশাদারিত্ব, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং স্বচ্ছতার প্রমাণ দিয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা
রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আস্থা আরও জোরদার হয়েছে।
বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি)। অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটন এবং অন্যান্য আইনগত প্রক্রিয়ার স্বার্থে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
তদন্ত শেষে প্রতারণার শিকার ভুক্তভোগীদের শনাক্ত করে দ্রুত আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের মধ্যে অর্থ ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি এমটিএফই পনজি স্কিমের মাধ্যমে পাচার হওয়া বাকি অর্থ শনাক্ত ও উদ্ধারে কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
ভিওডি বাংলা/এমএস/এসআর







