এক মিনিটের মিশনে স্তব্ধ আন্ডারওয়ার্ল্ড, আলোচনায় জোসেফের নাম

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ সন্ত্রাসী তালিকায় নাম আছে ঢাকার নিউমার্কেট এলাকায় খুন হওয়া খন্দকার নঈম আহমেদ টিটনের। তবে এই মুহূর্তে তার বিরুদ্ধে কোনো গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল না, জামিনে ছিলেন।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সন্ধ্যার পর ফিল্ম স্টাইলে গুলি করে এই হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশ স্পষ্ট করতে চাচ্ছে যে, এই খুন রাজনৈতিক বা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নয়।
ঢাকা মহানগর পুলিশের কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য হচ্ছে, তদন্ত করে দায়ীদের গ্রেপ্তার করা হবে।
রাতে ঘটনাস্থল ঘুরে দেখা গেছে, ‘ফুল ক্রাইম সিন’ লেখা ফিতা দিয়ে ঘিরে রেখেছে পুলিশ। আশপাশের দোকানপাট বন্ধ। বাসাবাড়ি থেকেও লোকজন বের হচ্ছেন না। চারপাশে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক ইউনিটের গাড়ি দেখা গেছে। সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটসহ একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার দলকেও আলামত সংগ্রহ করতে দেখা গেছে।
উপস্থিত কর্মকর্তারা ভিওডি বাংলাকে বলেছেন, এই মুহূর্তে তারা গণমাধ্যমে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দিতে চাচ্ছেন না। আলামত সংগ্রহের কাজটি মনোযোগ দিয়ে করতে চাচ্ছেন, যেন অপরাধ বা অপরাধীর সূত্র আবিষ্কার করা সহজ হয়।
তবে সিনিয়র গোয়েন্দা কর্মকর্তারা এই হত্যাকাণ্ডকে দেখছেন ভিন্নভাবে। পেছনে আরেকটি খুনের গল্প আছে বলে ধারণা করছেন। বলছেন, সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদের ভাই সাঈদ আহমেদ টিপু হত্যার বদলা বা প্রতিশোধ নিতেই ঘটানো হয়েছে আন্ডারওয়ার্ল্ড নাড়া দেওয়া পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। যার মাস্টারমাইন্ড বলা হচ্ছে আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী আজিজ আহমেদের ভাই জোসেফ আহমেদকে, যিনি দুবাইয়ে রয়েছেন। সেনাপ্রধান ভাইয়ের ক্ষমতায় সে সময় জোসেফকে জেল থেকে বের করে বিশেষ ব্যবস্থায় রাষ্ট্রীয় প্রশ্রয়ে দেশ ছাড়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়।
অসমর্থিত একটি সূত্র বলছে, কিলিং মিশন চালাতে মাসখানেক আগে দুবাই থেকে ঢাকায় আসে মোহাম্মদপুরের বাদল ওরফে কিলার বাদল, যিনি জোসেফের সহযোগী।
নিহত টিটন আরেক ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনের সমন্ধী।
এদিকে, দুবাইয়ের একটি সূত্র বলছে, এ খুন জোসেফের এক ঢিলে দুই পাখি মারার কৌশল হতে পারে। ভাই হত্যার প্রতিশোধ নেওয়া হলো, আবার রাজনৈতিক পালাবদলের এই পর্যায়ে আন্ডারওয়ার্ল্ডে জোসেফ ক্ষমতার জানান দিয়ে থাকতে পারেন।
খুনের পর থেকেই রাতভর বিভিন্ন মহলে জোসেফের নাম আলোচনায় এলেও তিনি এ বিষয়ে কোনো মাধ্যমে কোনো ব্যাখ্যা বা বক্তব্য দেননি। দুবাইয়ে তার ঘনিষ্ঠ মহল থেকেও জোসেফের পক্ষ থেকে গোপন বা প্রকাশ্য কোনো বার্তা গণমাধ্যম বা সামাজিক মাধ্যমে আসেনি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা মতে, সবে সন্ধ্যা পেরিয়ে আধার নেমেছে। তবে রাজধানীর নিউমার্কেটের পাশে বটতলা এলাকা স্ট্রিট লাইটের আলোতে তখনো আলোকিত। সেখান দিয়েই দ্রুত পায়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন পুরস্কার ঘোষিত শীর্ষ সন্ত্রাসী টিটন। ঠিক তখনই মোটরবাইকে আসা ‘দু’হাতে অস্ত্র চালাতে পারদর্শী ঘাতক চক্রের’ এক সদস্য দুই রাউন্ড গুলি করে। এরপর মুখোশ পরা অস্ত্রধারী দৌড়ে কাছে গিয়ে আরও দুই রাউন্ড গুলি করে। রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন টিটন। তখন মৃত্যু নিশ্চিত করতে মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে আরেকটি গুলি করে মোটরসাইকেলযোগে পালিয়ে যায় ঘাতকরা। গুলিবিদ্ধ টিটনের নিথর দেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাত সাড়ে আটটার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।
খুনের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী রতন নামে এক কিশোর জানিয়েছে, চোখের নিমিষেই ঘটনা ঘটে যায়। ১ মিনিটের মধ্যে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে পালানোর সময় লোকজন চিৎকার দিলে এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে দৌড়ে গিয়ে একটি মোটরসাইকেলের পেছনে ওঠে ঘাতক। এরপর মোটরসাইকেলটি বিজিবি গেটের দিকে চলে যায়।
ভিওডি বাংলা/এমএস







