বরগুনায় শিক্ষক দম্পতির বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ

বরগুনায় জমি ও নির্মাণাধীন ভবন সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এক সহকারী শিক্ষক দম্পতির বিরুদ্ধে জোরপূর্বক দখল, মারধর, শ্লীলতাহানি এবং হুমকির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) বরগুনা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন পাথরঘাটা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোসা. তাজেনুর।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, তার স্বামীসহ বরগুনা সদর উপজেলার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে বরগুনা জিলা স্কুলের সহকারী শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর আলম এবং তার স্ত্রী মোসা. রাহিমা বেগমের সঙ্গে যৌথভাবে জমি ক্রয় করে ভবন নির্মাণ শুরু করেন। পরবর্তীতে ২০২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি রেজিস্টার্ড আপোষ বণ্টনের মাধ্যমে উভয় পক্ষ নিজ নিজ অংশের দখলে থাকেন।
তিনি আরও দাবি করেন, পেশাগত কারণে কিছুদিন নির্মাণ কাজ বন্ধ থাকার পর ২০২৫ সালের ১৯ আগস্ট থেকে পুনরায় ভবনের অভ্যন্তরীণ কাজ শুরু করা হয় এবং বর্তমানে কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ওই শিক্ষক দম্পতি জমি ও ভবন দখলের উদ্দেশ্যে বিভিন্নভাবে বাধা প্রদান ও হয়রানি করে আসছিলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তাজেনুর অভিযোগ করেন, গত ১৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ দুপুরে বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপনের সময় অভিযুক্তরা নির্মাণাধীন ভবনে অনধিকার প্রবেশ করে বিদ্যুৎ কর্মীদের কাজে বাধা দেন। এ ঘটনার প্রতিবাদ করলে তাকে চুল ধরে মারধর করা হয় এবং শ্লীলতাহানি ঘটানো হয় বলেও তিনি দাবি করেন। ঘটনার ভিডিও ফুটেজ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি জানান, এ ঘটনায় তার স্বামী বরগুনা থানায় একটি মামলা (মামলা নম্বর ১৮৯/২৬) দায়ের করেছেন। পরবর্তীতে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও অভিযুক্ত শিক্ষক আদালতে হাজির হয়ে জামিনে মুক্ত হওয়ার পর পুনরায় হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন শুরু করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বর্তমানে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং নিজ বাসায় থাকতে পারছেন না বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন মোসাঃ তাজেনুর।
তিনি সাংবাদিকদের মাধ্যমে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- জাতীয় পদকপ্রাপ্ত অবসরপ্রাপ্ত প্রধান মো. সিদ্দিকুর রহমান, অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ মহিউদ্দিন রাজা, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি বরগুনা সদর উপজেলা শাখার সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান লিটন, সাধারণ সম্পাদক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক নুরুল আমিন ও প্রধান শিক্ষক মো. কবির হোসেন প্রমুখ।
ভিওডি বাংলা/জা







