• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
logo
শিরোনাম
সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর যেমন ছিল বঙ্গভবনের সামনের দৃশ্য তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে খলিলুলের পৃথক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে এনটিএর ৪৭ কর্মকর্তা বরখাস্ত সাংবাদিক আবু হেনা রাসেল স্মরণে দোয়া মাহফিল ও শোকসভা রাষ্ট্রপতির পদত্যাগে ফ্যাসিবাদের শেষ ছায়াও সরে গেল: জামায়াত আমির মোদী সরকারকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম সিজেপির সাহাবুদ্দিন সবসময় জনগণের সরকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন বিএনপি নেতার ওপর হামলা, জড়িতদের গ্রেপ্তার দাবি আবদুস সালামের তিন বছরে তিন সরকারকে শপথ পড়িয়েছিলেন সাহাবুদ্দিন থাইল্যান্ডের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পররাষ্ট্র উপদেষ্টার বৈঠক

নারী আসন সংরক্ষণ বিল পাসে ব্যর্থ মোদি সরকার

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ:  ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ১১:২৮ এ.এম.
শেয়ার করুন 0
নরেন্দ্র মোদি: ছবি: সংগৃহীত
নরেন্দ্র মোদি: ছবি: সংগৃহীত

ভারতের পার্লামেন্টে নারী আসন সংরক্ষণ ও লোকসভায় আসন বৃদ্ধিসংক্রান্ত সংবিধান সংশোধনী বিল পাস করাতে ব্যর্থ হয়েছে নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন সরকার। বিরোধীদের আপত্তি উপেক্ষা করে তড়িঘড়ি বিশেষ অধিবেশন ডেকে বিলটি লোকসভা-এ উত্থাপন করা হলেও শেষ পর্যন্ত প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাড় করতে পারেনি সরকারপক্ষ। 

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে বিলটির পক্ষে ২৯৮টি এবং বিপক্ষে ২৩০টি ভোট পড়ে। মোট ৫২৮ জন সাংসদ ভোটে অংশ নেন। তবে সংবিধান সংশোধনী বিল পাসের জন্য প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ ৩৫৩ ভোট অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় বিলটি গৃহীত হয়নি। এতে করে সরকারের জন্য বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে বিষয়টিকে।

বিলটি ছিল ভারতের সংবিধানের ১৩১তম সংশোধনী প্রস্তাব, যার মাধ্যমে সংসদে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন নিশ্চিত করা এবং একই সঙ্গে আসন সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কিন্তু বিরোধী দলগুলোর সম্মিলিত অবস্থানের কারণে তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি।

বিরোধীরা শুরু থেকেই এই বিলের বিরোধিতা করে আসছিল। তাদের অভিযোগ, নারী প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর আড়ালে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের চেষ্টা করছে ক্ষমতাসীন দল। বিশেষ করে ভোটের আগে নির্বাচনী সমীকরণ বদলে দেওয়ার কৌশল হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি তাদের।

অন্যদিকে, সরকারপক্ষের শীর্ষ নেতারা বিরোধীদের এই অবস্থানকে ‘নারীবিরোধী’ হিসেবে আখ্যা দেন। প্রধানমন্ত্রী মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহসহ ক্ষমতাসীন দলের নেতারা বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতেই এই বিল আনা হয়েছে।

বিলটি নিয়ে বিতর্কের আরেকটি বড় বিষয় ছিল জনগণনা ও আসন পুনর্বিন্যাসের প্রশ্ন। এর আগে ২০২৩ সালে পাস হওয়া নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম-এ উল্লেখ ছিল, নতুন জনগণনার পর আসন পুনর্বিন্যাস করে তার ৩৩ শতাংশ নারীদের জন্য সংরক্ষিত করা হবে। তবে বর্তমান সরকার সেই প্রক্রিয়ার জন্য অপেক্ষা না করে ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাস করতে চেয়েছিল। এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে বিরোধী জোট একজোট হয়।

ভোটাভুটিতে ব্যর্থতার পর কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেন, এই বিল নারীদের উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে আনা হয়েছিল, কিন্তু বিরোধীরা তা আটকে দিয়েছে। তার ভাষায়, এটি নারী শক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার শামিল।

অন্যদিকে, বিরোধী দলের পক্ষ থেকে কড়া প্রতিক্রিয়া এসেছে। কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বলেন, যারা নারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষা করতে ব্যর্থ, তাদের কাছ থেকে নারীর উন্নয়নের কথা গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি সরকারের সমালোচনা করে বলেন, বাস্তব পরিস্থিতি আড়াল করতেই এই ধরনের বিল আনা হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নারী আসন সংরক্ষণ বিল পাসে ব্যর্থতা মোদি সরকারের জন্য একটি তাৎপর্যপূর্ণ ধাক্কা। একই সঙ্গে এটি ভারতের রাজনীতিতে বিরোধী জোটের ঐক্য ও প্রভাবের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

ভিওডি বাংলা/আরকেএইচ


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ছবি: সংগৃহীত
ইতালির স্বপ্ন দেখিয়ে তরুণকে কেনিয়ায় বিক্রি, দালাল গ্রেপ্তার
SK’s Chey। ছবি: সংগৃহীত
বিবাহ বিচ্ছেদ সাবেক স্ত্রীকে দিতে হবে ৬৪৪ মিলিয়ন ডলার
ছবি: সংগৃহিত
ভারতের তরুণদের আন্দোলন কোথায় গিয়ে থামবে?