হামের প্রকোপ বৃদ্ধি:
আক্রান্তদের ৮০ শতাংশই দুই বছরের নিচে শিশু

দেশে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে হামের সংক্রমণ। বিশেষ করে দুই বছরের কম বয়সী শিশুরাই এই রোগে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। রাজধানীর মহাখালীতে অবস্থিত সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল-এ রোগীর চাপ এতটাই বেড়েছে যে, শয্যা সংকটের কারণে অনেক রোগীকে মেঝেতে রেখেও চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ভর্তি হওয়া হামে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশের বয়স দুই বছরের নিচে। এর মধ্যে ৪ থেকে ১৫ মাস বয়সী শিশুর সংখ্যাই বেশি। চিকিৎসকদের মতে, এ বয়সী শিশুরা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতায় দুর্বল হওয়ায় সহজেই সংক্রমিত হচ্ছে এবং জটিলতায় পড়ছে।
গত তিন মাসে এই হাসপাতালেই হামে আক্রান্ত হয়ে অন্তত ২০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যাদের সবার বয়সই ছিল দুই বছরের নিচে। চিকিৎসকদের ভাষ্য, সময়মতো হাসপাতালে না আসা, দেরিতে চিকিৎসা শুরু করা এবং অপুষ্টি-এই তিনটি প্রধান কারণ মৃত্যুহার বাড়িয়ে দিচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে শিশুরা গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে পৌঁছাচ্ছে, যা চিকিৎসা জটিল করে তুলছে।
বর্তমানে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা প্রায় ৬০০ রোগী এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রতিদিনই নতুন রোগী ভর্তি হওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা সীমিত হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে জরুরি ব্যবস্থায় অতিরিক্ত জায়গা তৈরি করে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।
এদিকে, একই ইউনিটে হামের পাশাপাশি চিকেন পক্স রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার কারণে নতুন করে সংক্রমণের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন রোগীর স্বজনরা। তাদের অভিযোগ, আলাদা ওয়ার্ডের অভাবে সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় হামের সংক্রমণ দ্রুত বিস্তার লাভ করছে। নগরীর বস্তি ও নিম্নআয়ের বসতিগুলোতে সচেতনতার অভাব এবং টিকাদানের ঘাটতির কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে। অনেক অভিভাবক এখনো শিশুদের নিয়মিত টিকা দিতে অবহেলা করছেন, যা সংক্রমণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।
চিকিৎসকদের মতে, বর্তমানে হামের প্রাদুর্ভাব শুধু রাজধানীতে সীমাবদ্ধ নেই; এটি সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতেও একই ধরনের চিত্র দেখা যাচ্ছে। ফলে জাতীয় পর্যায়ে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় সব শিশুকে আনা না গেলে হামের প্রকোপ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না। বিশেষ করে ৯ মাস ও ১৫ মাস বয়সে নির্ধারিত টিকা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে হামের সংক্রমণ আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। তাই এখনই সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধি, পুষ্টি নিশ্চিতকরণ এবং শতভাগ টিকাদান নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন তারা।
ভিওডি বাংলা/আরকেএইচ







