• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
টপ নিউজ
জ্বালানি লোডিংয়ের অনুমতি মিলেছে, সহসাই জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের আশা দায়িত্ব নিলেন নতুন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. জাকারিয়া জনদুর্ভোগের কথা চিন্তা করে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়নি জুলাই সনদের প্রতিটি দফা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে: প্রধানমন্ত্রী মাউশির ডিজির অতিরিক্ত দায়িত্ব পেলেন প্রফেসর সোহেল হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত, ১৮ এপ্রিলই হচ্ছে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের সাক্ষাৎ খালেদা জিয়ার পক্ষে স্বাধীনতা পুরস্কার গ্রহণ করলেন জাইমা রহমান মামলার জট কমাতে ৮৭১ আদালত ও ২৩২ বিচারক পদ: আইনমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী হজ ফ্লাইট উদ্বোধন করবেন শুক্রবার

আশায় এলাকাবাসী

আবদুস সালামের নেতৃত্বে পুনরুদ্ধারের পথে জিয়া সরণি খাল

খতিব    ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৫৬ পি.এম.
ছবি: ভিওডি বাংলা

ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার একটি অংশ ‘জিয়া সরণি খাল’—যার সূচনা হয়েছিল ১৯৭৭ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর উদ্যোগে। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, শুকনো মৌসুমে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা এবং বর্ষায় জলাবদ্ধতা দূর করার লক্ষ্যেই এই খাল খনন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছিল। এটি ছিল জনসম্পৃক্ত একটি উদ্যোগ, যেখানে সাধারণ মানুষকেও অংশগ্রহণে উৎসাহিত করা হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পরবর্তী সময়ে বিশেষ করে শেখ হাসিনা-এর শাসনামলে এই খাল পুনরুদ্ধার বা রক্ষণাবেক্ষণে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বছরের পর বছর খালটি ভরাট হয়ে পড়ে ময়লা-আবর্জনায়, দখল হয়ে যায় বিভিন্ন স্থানে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই আশপাশের এলাকায় তীব্র জলাবদ্ধতা দেখা দিত।

প্রায় ১৭ বছর ধরে স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা এই সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন। দোকানপাটে পানি ঢুকে পড়া, রাস্তাঘাট অচল হয়ে যাওয়া, এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়া ছিল নিত্যদিনের ঘটনা।

দীর্ঘদিনের অবহেলা, দখল ও অযত্নে ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে বসা ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ‘জিয়া সরণি খাল’ এখন পুনরুদ্ধারের পথে। একসময় যে খালটি এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসন, পানি নিষ্কাশন এবং পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত, তা সময়ের ব্যবধানে ময়লা-আবর্জনা ও দখলের কারণে কার্যকারিতা হারায়। সামান্য বৃষ্টিতেই আশপাশের এলাকায় সৃষ্টি হতো তীব্র জলাবদ্ধতা, ভোগান্তিতে পড়তেন সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা।

বর্তমানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ আবদুস সালামের উদ্যোগে খালটি পুনরায় সচল করতে ব্যাপক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। খাল পরিষ্কার, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, পুনঃখনন এবং পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক করার কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। একইসঙ্গে দীর্ঘদিনের পানি নিষ্কাশন সমস্যার স্থায়ী সমাধানে খালকে নদীর সঙ্গে সংযুক্ত করার পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে।

খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধন করে তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসন ও জনদুর্ভোগ কমাতে আমরা খালটিকে পুনরায় সচল করছি। পানিপ্রবাহের দিক পরিবর্তন করে এটিকে বুড়িগঙ্গা নদী-এর সঙ্গে সংযুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে দ্রুত পানি নিষ্কাশন সম্ভব হয়।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

এ সময় তিনি জানান, জিয়া সরণি খাল পুনরুদ্ধারে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই গাইডওয়াল, ওয়াকওয়ে ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ শুরু হবে।

এই উদ্যোগকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বস্তি ও আশার সঞ্চার হয়েছে। 

গত প্রায় ১৭ বছরের কষ্টের কথা উল্লেখ করে  জাপানী বাজারের মুদি খানার দোকানদার সজীব বলেন,  একটু বৃষ্টি হলেই পানি সরাসরি দোকানের ভেতরে ঢুকে যেত। অনেক সময় হঠাৎ পানি আসায় মালামাল সরানোর সুযোগই পেতাম না। লাখ লাখ টাকার পণ্য নষ্ট হয়েছে। একদিন বৃষ্টি হলে দুই-তিন দিন পর্যন্ত দোকান খুলে বসতে পারতাম না। ক্রেতারা আসতে পারত না, রাস্তায় হাঁটারও কোনো উপায় থাকত না। এখন খাল পরিষ্কার ও খননের কাজ শুরু হওয়ায় আমরা অনেক আশাবাদী—মনে হচ্ছে এবার হয়তো এই কষ্টের অবসান হবে।

শনির আখড়া কাপড় ব্যবসায়ী রহিম উদ্দিন (দোকানদার) বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা এই এলাকায় ভয় আর কষ্ট নিয়ে ব্যবসা করে আসছিলাম। একটু বৃষ্টি হলেই দোকানে পানি ঢুকে যেত, পণ্য নষ্ট হতো, আর ক্রেতাও আসতে পারত না। কিন্তু বর্তমান প্রশাসক দায়িত্ব নেওয়ার পর যেভাবে দ্রুত খাল পরিষ্কার ও খননের কাজ শুরু করেছেন, সেটা সত্যিই প্রশংসনীয়। আমরা মনে করি, তিনি বাস্তব কাজের মানুষ। যদি এই কাজ সম্পূর্ণ হয়, তাহলে আমাদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি চিরতরে দূর হবে।

আরেক দোকানদার কুরবান আলী বলেন, খালটা একসময় এলাকার জন্য আশীর্বাদ ছিল, কিন্তু ধীরে ধীরে এটি ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়। পানি যাওয়ার কোনো পথ ছিল না। বৃষ্টির পানি জমে থেকে দুর্গন্ধ ছড়াত, পরিবেশ নষ্ট হতো। ব্যবসা করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। বর্ষাকাল আসলেই আমাদের জন্য আতঙ্ক হয়ে দাঁড়াত। দোকানে পানি ঢুকবে কিনা—এই দুশ্চিন্তায় থাকতে হতো। অনেক সময় দোকান বন্ধ রাখতে বাধ্য হতাম। পরিবার চালানোই কঠিন হয়ে যেত। এখন কাজ শুরু হওয়ায় মনে হচ্ছে নতুন করে আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবো।

জাপানী বাজারের জাকির হোসেন বলেন, অনেক বছর ধরে আমরা শুধু প্রতিশ্রুতি শুনেছি, কিন্তু বাস্তবে কোনো কাজ দেখিনি। এবার প্রশাসক আব্দুস সালামের উদ্যোগে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু হয়েছে। খাল পরিষ্কার, ময়লা অপসারণ এবং পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসার যোগ্য। আমরা আশাবাদী, এবার বাস্তব পরিবর্তন দেখতে পাব।

তিনি আরো বলেন, প্রতিদিন ভয় নিয়ে দোকান খুলতাম—আজ আবার পানি ঢুকবে কিনা। কোনো স্থায়ী সমাধান ছিল না। এখন যেভাবে কাজ চলছে, তাতে মনে হচ্ছে সরকার সত্যিই সমস্যার সমাধান করতে চাচ্ছে।

এদিকে নবনিযুক্ত প্রশাসকের গৃহীত সময়োপযোগী ও বাস্তবমুখী কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন এলাকাবাসী তাদের মতে, দীর্ঘদিনের অবহেলিত সমস্যা সমাধানে যেভাবে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা অত্যন্ত ইতিবাচক এবং জনদুর্ভোগ লাঘবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

জুরাইন কমিশনার রোড নিবাসী রাশেদা বেগম বলেন, এর আগে তো অনেক প্রশাসক মেয়র আসছিল কিন্তু তারা শুধু তাদের কথা তেই সীমাবদ্ধ ছিল।

তিনি বলেন আমাদের জুরাইন ও শনির আখড়া ফুটপাত গুলি এমন ভাবে দখল হইসিলো সব সময় রাস্তায় জ্যাম লেগে থাকত। ফুটপাত দখলমুক্ত করে এখন অনেক ভালো হয়েছে এবং সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারছে।

জিয়া সরণি খাল খনন বিষয়ে তিনি বলেন, বৃষ্টি হলেই আমাদের বিল্ডিংয়ের নিচতলায় পানি ঢুকে যেত। ছোট ছোট বাচ্চা নিয়ে খুব কষ্টে থাকতে হতো। অনেক সময় রাত জেগে পানি সরাতে হতো। এটা ছিল আমাদের জন্য এক ধরনের দুর্ভোগের জীবন। এখন কাজ শুরু হওয়ায় আমরা একটু স্বস্তি পাচ্ছি।

২৪ ফুট একাকার বাসিন্দা আবুল কালাম বলেন, এলাকার রাস্তাঘাট বৃষ্টির সময় সম্পূর্ণ ডুবে যেত। অফিসে যাওয়া, বাচ্চাদের স্কুলে পাঠানো—সবকিছুই বন্ধ হয়ে যেত। এতে করে মশা-বাহিত রোগও বেড়ে যেত। দীর্ঘদিন আমরা এই সমস্যায় ভুগেছি। এখন যদি এই খাল ঠিকভাবে সচল হয়, তাহলে আমাদের জীবন অনেক সহজ হবে।”

স্থানীয়দের মতে, নবনিযুক্ত প্রশাসকের দ্রুত ও বাস্তবমুখী উদ্যোগে ‘জিয়া সরণি খাল’ পুনরুজ্জীবিত হওয়ার পথে। দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানের এই উদ্যোগকে তারা একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে।

সব মিলিয়ে, এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীদের মতে, বর্তমান প্রশাসকের কার্যকর পদক্ষেপ শুধু একটি প্রকল্প নয়—এটি তাদের দৈনন্দিন জীবনমান উন্নয়নের একটি বড় আশার প্রতীক।

বর্তমান পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে ‘জিয়া সরণি খাল’ আবারও তার কার্যকারিতা ফিরে পাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরিয়ে আনতে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।

সব মিলিয়ে, ‘জিয়া সরণি খাল’ এখন শুধু একটি খাল নয়; এটি হয়ে উঠেছে দীর্ঘ অবহেলা কাটিয়ে ওঠার প্রতীক এবং নগর ব্যবস্থাপনায় নতুন সম্ভাবনার এক উজ্জ্বল উদাহরণ।

ভিওডি বাংলা/খতিব/আ

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
আন্দোলন চাঙ্গা হলে সরকার কেন ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণ করে
আন্দোলন চাঙ্গা হলে সরকার কেন ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণ করে
শান্তি আলোচনা যখন ভেস্তে যাচ্ছিল, ট্রাম্প তখন কুস্তি দেখছিল
শান্তি আলোচনা যখন ভেস্তে যাচ্ছিল, ট্রাম্প তখন কুস্তি দেখছিল
উত্তরাঞ্চলে হবে চিকিৎসা মহাকেন্দ্র, আন্তর্জাতিক হচ্ছে বিমানবন্দরও
উত্তরাঞ্চলে হবে চিকিৎসা মহাকেন্দ্র, আন্তর্জাতিক হচ্ছে বিমানবন্দরও