দেশ ও জাতি গঠনে খেলাধুলার বিকল্প নাই- আবদুস সালাম

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আবদুস সালাম বলেছে, এই দেশ আমরা যুদ্ধ করে স্বাধীন করেছি। আমরা চাই জনগণের জন্য গ্রহণযোগ্য একটা দেশ হোক। ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য একটা ভালো দেশ হোক। সেই দেশ গড়ে তুলতে হলে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতি ব্যবস্থাকে কার্যকরভাবে গড়ে তুলতে চাই। দেশের সংস্কৃতি কর্মকাণ্ডকে গড়ে তুলতে চাই। আজ যখন সবার সঙ্গে খেলার মাঠে দাঁড়িয়েছি জাতীয় সংগীত গাইতে তখন আমার মুক্তিযুদ্ধের কথা মনে পড়ে যায়। মুক্তিযুদ্ধের সময় সকালে ট্রেনিং এ যাওয়ার সময় যখন জাতীয় সংগীত বাজানো হতো তখন চোখে পানি চলে আসতো।
সোমবার ২৭ জানুয়ারি ধানমন্ডি ইউসুফ হাইস্কুলে বার্ষিকী ক্রীড়া ও পুরষ্কার বিতরনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
আবদুস সালাম বলেন, খেলাধুলা হারিয়ে যাচ্ছে। খেলাধূলা করতে হবে প্রতিদিন। শরীর ও স্বাস্থ্য যদি ঠিক থাকে তাহলে ব্রেইন টিক থাকবে। আর ব্রেইন টিক থাকলে পড়াশোনা ভালো হবে। পড়াশোনা যদি ভালো হয় সেক্ষেত্রে এই দেশের ভবিষ্যত নেতৃত্ব ভালো হবে।
অভিভাবকদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আজকে আমাদের সমাজে যে অবক্ষয় দেখা দিয়েছে; ছেলে মেয়েদের যদি মাদকনেশা থেকে দূরে রাখতে হয় তাহলে তাদেরকে খেলাধুলার তাগিদ রাখতে হবে। যেখানে যতটুকু খোলা জায়গা আছে সেটাকে মাঠ হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। আমরাও ছোট ছিলাম তখন খেলাধূলা করেছি। খেলাধূলার বিকল্প নাই। খেলাধুলা করলে ছাত্র-ছাত্রীদের মনোবল ভালো থাকবে; পড়াশোনাও ভালো হবে। আমাদের সময় স্কুলে বাধ্যতামূলক ছিল খেলাধূলা। শরীর চর্চা শিক্ষক প্রতিদিন পিটি ক্লাস করাতেন। এখন সেভাবে হয় কিনা আমি জানি না। তবে সেটার জন্য প্রতিটি স্কুলে যদি ব্যবস্থা করা যায় তাহলে খুবই ভালো হয়। কারণ পড়াশোনার পাশাপাশি শারীরিক কসরত সেটাও দরকার।
তিনি বলেন, ফুটবল ক্রিকেট ভলিবল যে কোনো খেলায় স্কুল থেকেই যদি একজন নিজেকে গড়ে তুলতে পারে তাহলে পর্যাপ্ত বয়সে এসে সে ভালো খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে উঠবে। কিন্তু দুর্ভাগ্য, আমাদের দেশে যখন প্রাপ্ত বয়স হয়ে যায় তখন বয়সের সীমারেখায় সেটা হয়ে উঠে না। এই কারণে যেখা যায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আমাদের অগ্রসর নাই। তবে ধন্যবাদ জানাই- মেয়েরা খেলাধূলায় এগিয়ে আসতেছে। সেজন্য প্রাথমিক,মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায় থেকে উৎসাহ করতে হবে কে কোন খেলায় ভালো করতে চায়। কিংবা কেউ কোনো খেলাধুলায় ভালো করতে চায় না শুধু পড়াশোনায় ভালো করতে চায়। সেক্ষেত্রেও পড়াশোনা ভালো করতে চাইলেও তাকে সুস্থ থাকার জন্য একটা সময় শারীরিক ফিটনেস ধরে রাখতে কিছু প্রশিক্ষণ নিতে হবে।
আবদুস সালাম বলেন, আমি আশা করবো অন্তত মোহাম্মদ-আদাবর ও শ্যামলী এলাকায় যত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে তাদের মধ্যে খেলাধুলা চালু থাকবে। সেজন্য আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে যাতে এই এলাকার ছেলে-মেয়েরা খেলার জন্য উৎসাহিত হয়। বিশেষ করে ফুটবল ও ক্রিকেট খেলা চালু রাখতে চাই। সেজন্য সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অভিভাবকদের সহযোগিতা চাই। পাশাপাশি কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বহিরাগতরা যেন পরিবেশ নষ্ট না করে সেবিষয়েও সবাইকে সচেতন হতে হবে; সর্তক থাকতে হবে। কারণ আজকের ভালো খেলোয়াড় ভবিষ্যত নেতৃত্ব; ভালো না হলে নেতৃত্ব ভালো হবে না।
ভিওডি বাংলা/ এমএইচপি







