টিউশনের টাকা জমিয়ে ৬ বছর ধরে দুস্থদের ইফতার করান উর্মি

টিউশনির টাকা জমিয়ে দুস্থদের ইফতার বিতরণ করছেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক জান্নাতুল নওরীন উর্মি। এক বা দু’দিনের কাজ নয়, টানা ছয় বছর ধরে এই মানবিক উদ্যোগ চালিয়ে আসছেন তিনি।
টিউশনের উপার্জনের টাকা জমিয়ে প্রতি রমজানে দুস্থ মানুষের মাঝে ইফতার বিতরণ করে আসছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক জান্নাতুল নওরীন উর্মি। এক-দুদিনের সাময়িক উদ্যোগ নয়, টানা ছয় বছর ধরে তিনি এই মানবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। সীমিত সামর্থ্য নিয়েও মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ ইতোমধ্যে অনেকের কাছে অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
জানা গেছে, উর্মির পরিবার নারী হোস্টেল পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত। সেই হোস্টেলের রাঁধুনিদের মাধ্যমে ইফতারের খাবার রান্না করা হয়। এরপর পরিবারের সদস্যদের সহায়তায় খাবারগুলো প্যাকেট করা হয় এবং তা শহরের বিভিন্ন এলাকায় থাকা দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়।
সামর্থ্য অনুযায়ী কখনও ৫০ জনের জন্য, আবার কখনও ১০০ জন বা তারও বেশি মানুষের জন্য ইফতার প্রস্তুত করা হয়। রান্না থেকে শুরু করে প্যাকেজিং ও বিতরণ-সবকিছুতেই পরিবারের সদস্যরা সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। এতে পুরো উদ্যোগটি এক ধরনের পারিবারিক মানবিক কর্মকাণ্ডে পরিণত হয়েছে।
নওরীন উর্মি এই উদ্যোগ শুরু করেন ২০২১ সালে, যখন সারা বিশ্ব করোনা মহামারীর প্রভাব মোকাবিলা করছিল। সে সময় তিনি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। করোনার কারণে অনেক মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ায় তাদের দুর্দশা তাকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। আশপাশে বহু মানুষকে না খেয়ে থাকতে দেখে তিনি নিজের টিউশনের আয়ের টাকা দিয়ে খাবার বিতরণের সিদ্ধান্ত নেন।
প্রথমদিকে খুব ছোট পরিসরে এই কার্যক্রম শুরু হলেও ধীরে ধীরে তা নিয়মিত উদ্যোগে পরিণত হয়। এরপর থেকে প্রতি রমজানেই তিনি এই কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের আগ্রহ ও পরিবারের সহযোগিতাও বাড়তে থাকে।
উর্মি জানান, অতীতে দুস্থ মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ করতে গিয়ে নানা ধরনের বাধা ও হয়রানির মুখেও পড়তে হয়েছে তাকে। বিশেষ করে রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে কখনও কখনও প্রশাসনিক ও সামাজিক চাপের মুখোমুখি হতে হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তবে এসব বাধা তাকে থামাতে পারেনি।
তার মতে, মানবিক কাজের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয় কোনো বাধা হওয়া উচিত নয়। মানুষের পাশে দাঁড়ানোই সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। তিনি আশা করেন, ভবিষ্যতে এই উদ্যোগ আরও বড় পরিসরে চালিয়ে যেতে পারবেন।
ভিওডি বাংলা/জা







