১২ ফেব্রুয়ারি শুধু নির্বাচন নয়, স্বাধীনতা রক্ষার দিন: ইশরাক

আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষার নির্বাচন বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা-৬ আসনের বিএনপির প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর গেন্ডারিয়া ধুপখোলা মাঠে এলাকাবাসীর উদ্যোগে নির্বাচনী জনসভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেন, বিগত ১৭ বছর ধরে জনগণের ভোটাধিকার লুন্ঠনের মাধ্যমে একটি ফ্যাসিবাদী সরকার দেশ শাসন করেছে। গুম, খুন, হত্যা, নির্যাতন, মামলা ও হামলার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কণ্ঠ স্তব্ধ করে দেশের অর্থসম্পদ লুটপাট করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এই নির্বাচন শুধু সরকার পরিবর্তনের নয়, বরং বাংলাদেশ কোন পথে এগোবে এবং ভবিষ্যতে নির্বাচনগুলো কিভাবে অনুষ্ঠিত হবে, সেটিও নির্ধারণ করবে।
ইশরাক হোসেন বলেন, তার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম সাদেক হোসেন খোকা এই এলাকার মানুষের ভোটে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ১৯৯১ সালে তিনি আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে পরাজিত করেছিলেন এবং ১৯৯৬ সালে ঢাকার আটটি আসনের মধ্যে একমাত্র এই আসনেই বিএনপি বিজয়ী হয়েছিল।
তিনি বলেন, ঢাকা ৬ অঞ্চল খালেদা জিয়ার ঘাঁটি, ধানের শীষের ঘাঁটি এবং বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘাঁটি। অথচ গত ১৭ বছরে এই অঞ্চলকে পরিকল্পিতভাবে অবহেলিত করে রাখা হয়েছে। বিশেষ করে সাবেক মেয়র তাপস এই এলাকার জন্য উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নয়ন করেননি।
এলাকার প্রধান সমস্যা তুলে ধরে ইশরাক হোসেন বলেন, গ্যাসের তীব্র সংকটে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। অবকাঠামোগত উন্নয়ন না হওয়ায় গ্যাস, ড্রেনেজ, স্যুয়ারেজ ও সড়ক ব্যবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটেছে। যেখানে পাঁচতলা ভবনের জন্য পরিকল্পনা করা হয়েছিল, সেখানে এখন ২০-২৫ তলা ভবন গড়ে উঠলেও রাস্তা ও অবকাঠামোর কোনো উন্নয়ন হয়নি।
ভোটে নির্বাচিত হলে তিনি গ্যাস সংকটকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার অঙ্গীকার করেন। পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমের আগেই ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল করে জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
মাদক সমস্যাকে মহামারী আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, তরুণ সমাজকে ধ্বংসের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে বলে ঘোষণা দেন তিনি।
সমাবেশে ইশরাক হোসেন লোহারপুল কাঠের কুলি এলাকায় একটি স্কুল ভবনে প্রতিদ্বন্দ্বী দলের বিরুদ্ধে দেশীয় অস্ত্র মজুদের অভিযোগ তুলে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন, বিষয়টি জানানো হলেও সময়ক্ষেপণের সুযোগে সেখান থেকে অস্ত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
তিনি প্রশাসনের উদ্দেশ্যে বলেন, আমরা আপনাদের কাছে বাড়তি কোনো সুযোগ-সুবিধা চাইনা। আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করতে হবে ।
নারীদের প্রতি অবমাননাকর বক্তব্যের কঠোর প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। তিনি অভিযোগ করেন, একটি অপশক্তি রাষ্ট্র ক্ষমতায় গেলে নারীসহ সকলের ব্যক্তি স্বাধীনতা হরণ করা হবে ।
দেশব্যাপী ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ারের কথা উল্লেখ করে ইশরাক হোসেন বলেন, আগামী নির্বাচনে বিএনপি বিপুল বিজয় অর্জন করবে এবং তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চায় দেশের মানুষ।
তিনি নারী ভোটার ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশকে রক্ষা করতে হবে।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাইদুর রহমান মিন্টুর সঞ্চালনায় জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তা রাখেন বিএনপি সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী, বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবীর, বিএনপির সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শ্রমিক দলের আহবায়ক সুমন ভুইয়া, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি'র যুগ্ন আহবায়ক মকবুল হোসেন টিপু, আব্দুস সাত্তার, জাতীয়তাবাদী যুবদল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক খন্দকার এনামুল হক, সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম নয়ন, স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন তুহিন, সদস্য সচিব মোর্শেদ পাপ্পা সিকদার, গেন্ডারিয়া থানা বিএনপির আহবায়ক আব্দুল কাদির, সূত্রাপুর থানা বিএনপির আহবায়ক শেখ আজিজুল ইসলাম, বিএনপির আহবায়ক আলহাজ্ব লিয়াকত আলী, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সহ-সভাপতি সাব্বির আহমেদ আরিফ, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মোজাম্মেল হক মুক্তো প্রমূখ।
ভিওডি বাংলা/ সবুজ/ আরিফ







