পাহাড় ধস
সীতাকুণ্ডেই ঝুঁকিতে ২৫ হাজার মানুষ, ১০০ পরিবারকে সরে যেতে নির্দেশ

কক্সবাজারে পাহাড় ধসে অন্তত ১৩ জনের মৃত্যুর খবর পেয়ে আতঙ্কে কাটছে সীতাকুণ্ডের পাহাড়ি এলাকাগুলোর বাসিন্দাদের প্রতিটি সেকেন্ড। বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে এবং এর ফলে তিন পার্বত্য জেলায় ভারী বর্ষণের আভাস আবহাওয়া অধিদপ্তর দিলেও যথেষ্ঠ পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ করেনি স্থানীয় প্রশাসন। ঝুঁকি চরমে পৌঁছানোর পর অবশ্য নড়েচড়ে বসেছে স্থানীয় প্রশাসন।
স্থানীয়রা বলছেন, প্রতি বর্ষা মৌসুমে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং, আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিবার সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ দেখা গেলেও এখন পর্যন্ত তেমন কার্যক্রম চালু হয়নি।
তবে সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলাম জানান, জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অন্তত ১০০টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরিবারগুলোকে স্থানান্তরের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তাদের আশ্রয়ের জন্য সমতলের এসএম পাইলট উচ্চবিদ্যালয় প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অব্যাহত বৃষ্টিতে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে পড়ায় চট্টগ্রাম সীতাকুণ্ডের পাহাড়ি এলাকায় ছোট-বড় টিলাগুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। আশঙ্কা বেড়েছে গুলোতে পাহাড় ধসের। এ পরিস্থিতিতে প্রশাসনের দৃশ্যমান প্রস্তুতির অভাব নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় অতি ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড় ধসের ঝুঁকি রয়েছে। একই সঙ্গে দেশের চার সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
জঙ্গল সলিমপুর, সোনাইছড়ি, কুমিরা, বাঁশবাড়িয়া, বারৈয়াঢালা, লতিফপুর, ছোট দারোগারহাট এবং বাড়বকুণ্ড আশ্রয়ণ প্রকল্পসহ বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ের ঢাল ও খাঁজে প্রায় ২৫ হাজার মানুষ বাস করছেন। তাদের অধিকাংশই দিনমজুর, রিকশাচালক ও পোশাক কারখানার শ্রমিক।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ২০১৭ সালের ২১ জুলাই সীতাকুণ্ডে ভয়াবহ পাহাড় ধসে তিন শিশুসহ পাঁচজনের মৃত্যুর ঘটনা এখনও মানুষের মনে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, টানা বৃষ্টির মধ্যে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে প্রশাসন দ্রুত দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেবে এবং ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারী মানুষদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম জোরদার করবে।
ভিওডি বাংলা/এফএ








মন্তব্য