• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live
টপ নিউজ
ঈদ ছুটি শেষে ঢাকামুখী মানুষের স্রোত তামাক ও নিকোটিনের ক্ষতি থেকে নতুন প্রজন্মকে রক্ষায় সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ: প্রধানমন্ত্রী ৭২ ঘণ্টার সমন্বিত অ্যাকশন, বর্জ্য অপসারণে সক্ষম হয়েছি: ডিএনসিসি প্রশাসক হরমুজ প্রণালি পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের ঘোষণা ইরানের, জাহাজ চলাচলে কড়া নির্দেশ আবারও প্রাণ ফিরে পেয়েছে পর্যটন নগরী কক্সবাজার ইউরোপে পিএসজির দাপট, টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয় চাঁদা না দেওয়ায় বাড়ি দখলের হুমকি সাবেক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার ছাত্রদল নেতার বাবাকে কুপিয়ে জখম, নেতৃত্বে যুবদল নেতার সঙ্গে ছাত্রলীগ শহীদ জিয়ার আদর্শ ধারণ করেই দেশকে এগিয়ে নিতে হবে: গয়েশ্বর পুরুষ-নারী উভয় ক্রিকেটারের বেতন বাড়িয়েছে বিসিবি

আধুনিকতার ছোঁয়ায় ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকি শিল্প এখন বিলুপ্তির পথে

সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি    ২০ নভেম্বর ২০২৫, ০৭:১৬ পি.এম.
ছবি: ভিওডি বাংলা

গ্রামবাংলার চিরায়ত ঐতিহ্যের প্রাণ ছিল নবান্ন উৎসব। আর সেই নবান্ন উৎসবের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল ঢেঁকি—গৃহস্থবাড়ির অঙ্গনজুড়ে যার ধুপধাপ সুরেলা ছন্দ একসময় প্রতিটি ভোরকে মুখর করে তুলত। সময়ের বিবর্তনে আজ সেই দৃশ্যগুলি হারিয়ে গেছে; গ্রামবাংলার আঙিনা থেকে প্রায় বিলীন হয়ে গেছে যুগ যুগ ধরে কৃষিজীবনের সঙ্গী এই কাঠের ধানভাঙা উপকরণটি।

‎একসময় প্রাচীন বাংলার কৃষকের নতুন দিনের সূচনা হতো ঢেঁকির শব্দে। নবান্ন, বিয়ে–শাদি কিংবা শীতের পিঠা উৎসব—সব আয়োজনেই প্রয়োজন হতো ঢেঁকি ছাঁটা চাল। বাড়িতে কয়টি ঢেঁকি আছে, তা দিয়েই বোঝা যেত কে কত বড় গৃহস্থ। বউ–ঝিরা ভোরে উঠে ঢেঁকির তালে গাইত বাপ–দাদার সময়ের গীত। ধান ভানার ফাঁকে চুড়ি–নূপুরের ঝনঝন শব্দ আর ঢেঁকির ছন্দ মিলিয়ে তৈরি হতো এক অনন্য সুরেলা পরিবেশ। হেমন্তের কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে গৃহস্থ বাড়ির আঙিনা মুখর থাকত ঢেঁকির নিয়মিত ধুপধাপ শব্দে।

‎ঢেঁকি ছিল শুধু একটি গৃহস্থালি উপকরণ নয়; এটি ছিল একধরনের শিল্প। ঢেঁকি তৈরির জন্য কাঠ বাছাই থেকে শুরু করে নকশা তৈরির প্রতিটি ধাপে দরকার হতো দক্ষ কারিগরের স্পর্শ। বাবলা বা কড়ই গাছের কাঠে গড়ে তোলা ঢেঁকিগুলো ছিল মিস্ত্রি আর গৃহস্থের গর্বের বস্তু। ভালো ঢেঁকি তৈরি হলে কারিগর পেতেন গৃহস্থের উদার প্রশংসা আর পুরস্কার।

‎কিন্তু পঞ্চাশের দশকের পর থেকে দেশজুড়ে চালকলের জোয়ারে ঢেঁকি ধীরে ধীরে হারাতে শুরু করে। গ্রামে যান্ত্রিক ধানভাঙা মেশিনের ব্যবহার বাড়তে থাকায় ঢেঁকির প্রয়োজন কমে আসে। দ্রুত বদলে যেতে থাকে গ্রামীণ জীবন। ঢেঁকিশিল্পীরা কেউ চলে যান দিনমজুরির কাজে, কেউবা ইটভাটা, দর্জি বা সেলাইয়ের পেশায়। একসময় যে ঢেঁকি ছিল গৃহের গর্ব, তা এখন পড়ে থাকে বাড়ির পরিত্যক্ত কোণে কিংবা গোয়ালঘরে।

‎তবুও কিছু উৎসব–পূজায়, বিশেষ করে শীতের পিঠা তৈরির মৌসুমে, কোথাও কোথাও এখনও শোনা যায় সেই ধুপধাপ পরিচিত ছন্দ। পাড় দেওয়ার আনন্দ, পরিবার-আত্মীয়দের একসঙ্গে বসে চালের গুঁড়ো প্রস্তুত করার মুহূর্ত—এ এক নিখাঁদ আনন্দ, যা যান্ত্রিকতার কাছে হার মানে না কখনো। এমনকি এখন সুপার শপগুলোতেও ‘ঢেঁকি ছাঁটা চাল’ নামে প্যাকেটজাত চাল পাওয়া যায়, যা বিশেষ করে ডায়াবেটিক রোগীদের মধ্যে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।

‎তবুও সত্য এটাই—কালের স্রোতে ঢেঁকি আজ প্রায় বিলুপ্তির পথে। নতুন প্রজন্ম ঢেঁকির গল্প শোনে শুধু নানি–দাদি বা দাদুর স্মৃতিচারণে। গ্রামে এখন সবচেয়ে পরিচিত শব্দ রাইস মিলে চাল ভাঙার যান্ত্রিক আওয়াজ। তাই হয়তো আগামী দিনে ঢেঁকি শুধুই থাকবে জাদুঘর কিংবা ইতিহাসের পাতায়।

‎তবুও ঢেঁকির ছন্দ, চুড়ি–নূপুরের ঝংকার আর গ্রামীণ নারীর শ্রম–সৌন্দর্যে ভরা সেই দৃশ্য—এগুলো বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্যে চিরকাল অম্লান হয়ে থাকবে। গ্রামবাংলার জীবনের সঙ্গে জড়ানো এই শিল্প, এই স্মৃতি আমাদের ইতিহাসের গভীরে রেখে যাবে অসামান্য এক সাংস্কৃতিক পরিচয়।

ভিওডি বাংলা/ মনিরুজ্জামান জাহিদ/ এমএইচ


  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ছাত্রদল নেতার বাবাকে কুপিয়ে জখম, নেতৃত্বে যুবদল নেতার সঙ্গে ছাত্রলীগ
ছাত্রদল নেতার বাবাকে কুপিয়ে জখম, নেতৃত্বে যুবদল নেতার সঙ্গে ছাত্রলীগ
ভাড়া বাসা থেকে নানি ও নাতির মরদেহ উদ্ধার
ভাড়া বাসা থেকে নানি ও নাতির মরদেহ উদ্ধার
৫০ লাখ মানুষের অপেক্ষা ফুরোয়নি ১০  বছরেও
৫০ লাখ মানুষের অপেক্ষা ফুরোয়নি ১০  বছরেও