তামাক ও নিকোটিনের ক্ষতি থেকে নতুন প্রজন্মকে রক্ষায় সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ: প্রধানমন্ত্রী

তামাক ও নিকোটিনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে শিশু-কিশোরসহ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখতে সরকার দৃঢ়ভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, জনস্বাস্থ্য রক্ষায় তামাকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং নিকোটিন আসক্তি প্রতিরোধে সরকার বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে।
শনিবার (৩০ মে) বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন। এ বছরের প্রতিপাদ্য হলো- ‘প্রলোভনের মুখোশ উন্মোচন করি, তামাক ও নিকোটিনের আসক্তি প্রতিরোধ করি’।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ২০০৩ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোল (এফসিটিসি)-এ স্বাক্ষর করে, ২০০৪ সালে তা অনুসমর্থন করে এবং ২০০৫ সালে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়ন করে। পরবর্তীতে আইনটিকে আরও কার্যকর ও যুগোপযোগী করতে একাধিক সংশোধনী আনা হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, তামাকে থাকা নিকোটিন মানুষের মধ্যে মারাত্মক আসক্তি তৈরি করে। সিগারেট, বিড়ি, ই-সিগারেট, জর্দা ও গুলসহ সব ধরনের তামাক ও নিকোটিনজাত পণ্যের ব্যবহার হৃদরোগ, স্ট্রোক, বিভিন্ন ধরনের ক্যানসার এবং দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসতন্ত্রের রোগের অন্যতম প্রধান কারণ।
তারেক রহমান বলেন, শিশু ও কিশোরদের তামাকের প্রলোভন থেকে দূরে রাখতে তামাকজাত পণ্যের সব ধরনের বিজ্ঞাপন, প্রচারণা ও প্রমোশন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ইন্টারনেট, মোবাইল অ্যাপ, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম, নাটক ও চলচ্চিত্রসহ সব মাধ্যমে তামাকের প্রচার নিষিদ্ধ রয়েছে। এমনকি করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) কার্যক্রমের আড়ালেও তামাক কোম্পানির প্রচারণা বন্ধ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলার মাঠ ও শিশু পার্কের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাক বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি ১৮ বছরের কম বয়সীদের কাছে তামাক ও নিকোটিনজাত পণ্য বিক্রিও সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। পাবলিক প্লেস এবং গণপরিবহনে ধূমপান ও ধোঁয়াবিহীন তামাক সেবনের ওপরও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে শাস্তি ও জরিমানার পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন বিধিবিধানের কার্যকর বাস্তবায়ন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি এখন সময়ের গুরুত্বপূর্ণ দাবি। জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সরকারের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে একটি সুস্থ, উৎপাদনশীল ও তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, দেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশ ঘটে অসংক্রামক রোগে, যার অন্যতম ঝুঁকির কারণ তামাক ও নিকোটিনের ব্যবহার। টোব্যাকো এটলাস ২০২৫-এর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি বছর তামাকজনিত বিভিন্ন রোগে ১ লাখ ৯৯ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়।
এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের গবেষণার তথ্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তামাক ব্যবহারের কারণে স্বাস্থ্য ব্যয় বৃদ্ধি, পরিবেশের ক্ষতি এবং উৎপাদনশীলতা হ্রাসসহ দেশের অর্থনীতিতে বছরে ৮৭ হাজার কোটি টাকারও বেশি ক্ষতি হয়।
বাণীর শেষে প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস ২০২৬ উপলক্ষে গৃহীত সব কর্মসূচির সফল বাস্তবায়ন কামনা করেন।
সূত্র: বাসস
ভিওডি বাংলা/জা







