আবারও প্রাণ ফিরে পেয়েছে পর্যটন নগরী কক্সবাজার

কোরবানির ঈদের প্রথম দুই দিনের তুলনায় তৃতীয় দিনে আবারও প্রাণ ফিরে পেয়েছে দেশের প্রধান পর্যটন নগরী কক্সবাজার। সকাল থেকে গোধূলি পর্যন্ত বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে ছিল পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়।
নীল জলরাশি, গর্জন তোলা ঢেউ আর বালুকাবেলায় মানুষের কোলাহলে যেন আবারও তার চিরচেনা রূপে ফিরেছে কক্সবাজার। ঈদের দিন কোরবানি ও পারিবারিক আনুষ্ঠানিকতায় ব্যস্ত থাকায় পর্যটকদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম ছিল। দ্বিতীয় দিনের বিকেল থেকে পর্যটকদের আগমন বাড়তে শুরু করে। আর তৃতীয় দিন শনিবার এসে সেই সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পরিবার-পরিজন ও বন্ধু-বান্ধব নিয়ে ছুটি কাটাতে আসা মানুষে মুখর হয়ে ওঠে সৈকতের লাবণী, সুগন্ধা, কলাতলী, দরিয়ানগর ও ইনানী পয়েন্ট।
টঙ্গী থেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা পর্যটক শফিক বলেন, সারা বছর কাজের ব্যস্ততার কারণে পরিবারের সঙ্গে তেমন সময় কাটানোর সুযোগ হয় না। ঈদের ছুটি পেয়েই স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে কক্সবাজারে চলে এসেছি। সমুদ্রের বিশালতা আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সত্যিই মনকে অন্যরকম প্রশান্তি দেয়।
বাচ্চারাও খুব আনন্দ করছে। পরিবারের সঙ্গে এমন সময় কাটানোর অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।
রাজবাড়ী থেকে বেড়াতে আসা সুমন তালুকদার বলেন, কক্সবাজারে আগেও এসেছি, তবে ঈদের সময়ের পরিবেশ একেবারেই আলাদা। চারদিকে উৎসবের আমেজ, মানুষের উচ্ছ্বাস আর সমুদ্রের সৌন্দর্য মিলিয়ে অন্যরকম অনুভূতি তৈরি হয়েছে। সৈকতে দাঁড়িয়ে সূর্যাস্ত দেখা এবং ঢেউয়ের গর্জন শোনা সত্যিই অসাধারণ অভিজ্ঞতা। তাই ঈদের ছুটির কয়েকটা দিন উপভোগ করতেই এখানে এসেছি।
পর্যটকদের ভিড় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যস্ততা বেড়েছে হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ ও পর্যটন-সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও।
লাইফগার্ড কর্মীরা জানান, প্রতিটি পয়েন্টে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পর্যটকদের লাল-হলুদ পতাকার নির্দেশনা মেনে চলার পাশাপাশি শিশুদের প্রতি বিশেষ নজর রাখার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে দায়িত্ব পালন করছে ট্যুরিস্ট পুলিশ, জেলা পুলিশ ও লাইফগার্ড কর্মীরা। সমুদ্রে গোসল করতে নামা পর্যটকদের নিরাপদ জোন সম্পর্কে নিয়মিত মাইকিং করা হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় না যেতে সতর্ক করা হচ্ছে সবাইকে।
এদিকে পর্যটকদের নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মাঠে সক্রিয় রয়েছে জেলা পুলিশ।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান বলেন, ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারে আগত পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সৈকত, হোটেল জোন ও গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন স্পটগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। যাতে পর্যটকরা নির্বিঘ্নে তাদের ভ্রমণ উপভোগ করতে পারেন, সে বিষয়ে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি।
ভিওডি বাংলা/এমএস







